দেশী ফুটবলাররা যে পারে বিদেশীদের টক্কর দিতে, সেটার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে ঢাকা আবাহনী। সম্পূর্ণ দেশী ফুটবলারদের নিয়ে তারা এখন লিগের পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। এখন যদি বিদেশী ফুটবলার আনা যায় তাহলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হবে। সেই মিশনে তিন বিদেশী চেয়ে ক্লাবের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে আবাহনীর টিম ম্যানেজমেন্ট। যদিও ক্লাব কর্তৃপক্ষ দুই বিদেশীর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তবে মনোভাব পজিটিভ হলেই তো হবে না। ঢাকা জোগাড় করতে হবে। এ টাকার অভাবেই এবারের ফুটবল সিজনে বিদেশীদের সাথে কথা বলেও আর তাদের আনতে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়া। এখন আবাহনীর নতুন বিদেশী আনাটা নির্ভর করছে ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মিটিংয়ের সিদ্ধান্তের ওপর। ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু জানান, ‘আমরা তিন বিদেশী চেয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। উনারা দুইজনের ব্যাপারে ইতিবাচক। এখন বিষয়টি নির্ভর করছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেয়ার উপর।’ ক্লাবের এ অফিসিয়ালরা বিদেশে অবস্থান করছেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি তাদের দেশে ফেরার কথা। এরপরই সভা করে বিদেশী বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। রুপুর দেয়া তথ্য,‘আমরা যে বাজেট দিয়েছি তাতে যদি তিনজন আনা যায় তাহলে তিন বিদেশীকেই আনবো।’

একজন স্ট্রাইকার ও অপর অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে আনার চেষ্টা করছে আকাশী-নীল শিবির। সুযোগ হলে আরেকজনকে আনা হবে যাকে দিয়ে স্ট্রাইকিং পজিশন ও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে খেলানো যাবে। যারা আগে বাংলাদেশে খেলে গেছেন, এ দেশের ফুটবল কালচার ও সংস্কৃতি সম্পর্কে অবগত তাদের সাথেই যোগাযোগ করছের রুপু। নতুনও আছেন দুই-একজন। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নতুন বিদেশীকে রেজিস্ট্রেশন করানোর সুযোগ ক্লাবগুলোর। আবাহনী এ মুহূর্ত স্ট্রাইকার সঙ্কটে ভুগছে। সারোয়ার জামান নিপু চিকিৎসার জন্য ভারত গিয়েও আর হাঁটুতে অপারেশন করাননি। ডাক্তার তাকে আশ্বস্ত করেছে অপারেশন ছাড়াই চলবে। অপর দুই স্ট্রাইকার আমিনুর রহমান সজীব ও সুমন রেজা ইনজুরি কারিয়ে এখন হালকা অনুশীলন করছেন। রুপুর আশাবাদ, ফিরতি পর্বের এক-দুই ম্যাচ পরেই হয়তো আমরা মাঠে পাবো সজীব ও সুমনকে। উল্লেখ্য, একেকটি দল ৬ জন বিদেশী নিতে পারবে।
লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা মোহামেডান আনছে ভেনেজুয়েলার স্ট্রাইকার মরেল্লোকে। এ ল্যাতিন ফুটবলার আগে বাংলাদেশ পুলিশ দলে খেলেছিলেন। মোহামেডান কোচ আলফাজ আহমেদ জানান, আমাদের একজন নাম্বার টেন ( ১০ নং জার্সিধারী) দরকার। এখন দেখা যাক মরেল্লোকে কোন পজিশনে খেলানো যায়।

রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি ভুগছে বিদেশীদের ইনজুরিজনিত সমস্যায়। ৫ জনের দুইজনেরই ইনজুরি। এ দুইজন হলো ডিফেন্ডার ইস্কান্দার ও স্ট্রাইকার ফেলিক্স। এদের এ সিজনে পাওয়ার সুযোগ কম। তাই এখন বিকল্প হিসেবে একজন নাম্বার টেন আনার চেষ্টা হচ্ছে। তথ্য দেন কোচ কামাল বাবু। চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস দুই বিদেশী আনবে বলে শোনা গেলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আপডেট নেই বলে ক্লাব-সূত্রে জানা গেছে।