প্রথম দিনে পদক তালিকায় শীর্ষেই ছিল বাংলাদেশ নৌবাহিনী। তাদের ৭ স্বর্ণের বিপরীতে সেনাবাহিনীর ৫ স্বর্ণ। দ্বিতীয় দিন তাদের ১৫ স্বর্ণ আর নৌবাহিনীর ১৩টি। তাই জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকালের ১২ ইভেন্টের দিকে তাকিয়ে ছিল সবাই। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হলো নৌবাহিনীই। কাল ৪৭তম জাতীয় অ্যাথলেটিক্সের শেষ দিনের ১২ ইভেন্টের ৮টিতেই স্বর্ণ নৌবাহিনীর। ফলে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিজয়উল্লাস নৌবাহিনীর। তাদের ভাণ্ডারে ২১টি স্বর্ণ। আর সেনাবাহিনী পেয়েছে ১৯ স্বর্ণ। প্রথম দিন থেকেই এই দুই বাহিনীর খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। কাল শেষ দিনেও এক পক্ষ আরেক পক্ষের দিকে তেড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুই বাহিনীর উপস্থিত শীর্ষ কর্মকর্তাদের অগ্রণী ভূমিকায় পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হয়। আসরের সেরা অ্যাথলেট হয়েছেন সেনাবাহিনীর নাজমুল হোসেন রনি ও বর্ষা খাতুন। সেরা কোচ হয়েছেন ফরিদ খান চৌধুরী।
গতকাল সবার দৃষ্টি ছিল নৌবাহিনীর ¯িপ্রন্টার জহির রায়হানের উপর। তার গলায় কি উঠবে চতুর্থ স্বর্ণ। আগের দিন প্রিয় ৪০০ মিটারে স্বর্ণ জয়ের পর ১০০ মিটার রিলেতে স্বর্ণ জয়। কাল ৪ গুণিতক ৪০০ মিটার রিলেতে অন্যদের সাথে নিয়ে জহির ঠিকই স্বর্ণ জিতেছেন। তবে ২০০ মিটারে পারেননি নিজ দলের রাকিবুল হাসানের কাছে। এই রাকিব ১০০ মিটারে ৯ বার স্বর্ণ জয়ে ব্যর্থ হলেও ২০০ মিটারে সফল। কালও তিনি স্বর্ণ জয় করেন এই ইভেন্টে। জহির পেয়েছেন রৌপ্য। ক্যারিয়ারে দুই বার এক মিটে ৪টি করে স্বর্ণ জয়ের কৃতিত্ব আছে জহির রায়হানের। এর একটি ছিল গতবারের জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে। নারীদের ২০০ মিটারে শিরিন ১২তম স্বর্ণ জয় করেন কাল।
শেষ দিনে দু’টি নতুন জাতীয় রেকর্ড হয়েছে। নারীদের ৪০০ মিটার রিলেতে নৌবাহিনীর শিরিন আক্তার, নুসরাত জাহান, সাবিহা আল সোহা এবং নখেরা খাতুন। তারা সময় নেন ৩ মিনিট ৫১ দশমিক ৫২ সেকেন্ড। ১৯৯৩ সালে এই ইভেন্টে আগের রেকর্ডটি হয়েছিল। তখন টাইমিং ছিল ৩ মিনিট ৫৫ দশমিক ৫৫ সেকেন্ড।
অপর রেকর্ড ছিল পোল ভোল্টে। এতে সেনাবাহিনীর সৌরভ মিয়া ৪.৫০ মিটার লাফিয়ে এই রেকর্ড করেন। আগের রেকর্ড ছিল নৌবাহিনীর হুমায়ুন কবিরের। তিনি ২০০৬ সালে ৪.৩৫ মিটার লাফান। মোট ৬টি রেকর্ড হয়েছে এবার।