ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জোড়া গোলে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে স্পেনের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রথম ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে ২-১ গোলে এগিয়ে রয়েছে পর্তুগাল। শুক্রবার দিনের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখী হয়েছে সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল।

বিশ্বকাপের প্রথম বিগ ম্যাচ। টানটান উত্তেজনা নিয়ে খেলা দেখতে বসেছে কোটি দর্শক। তাদের প্রত্যাশা পূরণেও তাই এতটুকু কমতি রাখনি দুই দল। দুই প্রতিবেশী দেশের এই ম্যাচটিই এবারের বিশ্বকাপের প্রথম বিগ ম্যাচ।

প্রথমার্ধে দারুণ জমজমাট এই ম্যাচে এগিয়ে রয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। সিআরসেভেন জোড়া গোল করে দলকে এগিয়ে রেখেছেন। আর স্পেনের পক্ষে গোলটি করেছে স্ট্রাইকার ডিয়াগো কস্তা।
খেলা শুরুর চার মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় পর্তুগাল। আড়াই মিনিটের সময় বল নিয়ে স্পেনের ডিবক্সে ঢুকে পড়েন রোনালদো। পিকেকে কাটিয়ে যখন নাচোকে ডজ দিলেন, মারাত্মকভাবে ফাউল করেন নাচো। পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। রোনালদোর মাপা শট কোন দিকে যাবে বুঝতেই পারেননি স্পেনের গোলরক্ষক ডি গিয়া। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।

এর পরই গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে স্পেন। দুই পাশ দিয়ে চলে একের পর এক আক্রমণ। গোল সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে পর্তুগালের ডিফেন্স। অবশেষে তারা সফলতা পায় ২৪ মিনিটের সময়। বক্সের ভেতর থেকে ডিয়াগো কস্তার শট জালে জড়ায়।

গোল শোধ করেও খেলার সেই একই ধারা অব্যাহত রাখে স্পেন। ২৬ মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে ইসকোর জোড়ালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ৩৫ মিনিটে ইনিয়েস্তার মাটি কামড়ানো শট বারের পাশ ঘেঁষে চলে যায়। তবে এর মধ্যেও বেশ কয়েকবার কাউন্টার এ্যাটাক থেকে সুযোগ তৈরি করে পর্তুগাল। ২২ মিনিটে বাম প্রান্তে বল নিয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েন রোনালদো। কিন্তু বারে শট না নিয়ে তিনি বস্কের মাঝখানে গেদেসের কাছে কেন পাস দিয়েছিলেন সেটি আশ্চর্য হওয়ার মত বিষয়। গেদেস প্রথম চান্সে শট নিতে পারলে আরেকটি নিশ্চিত গোল ছিলো।

৪৪ মিনিটে আরেক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সেই গেদেসের পাসেই গোল করেন রোনালদো। মাঝমাঠ থেকে বক্সের মাথায় বল পেয়ে গেদেস পাস দেন বা পাশে রোনালদোকে। কেউ বাঁধা দেয়ার আগে বাম পায়ের বুলেট গতির শট! গোল রক্ষক ডি গিয়ার হাত ফসকে বল জালে জড়ায়। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগিজরা।

ইরানকে জয় উপহার দিল মরক্কো!
এ যেন আগের ম্যাচের ধারবাহিকতা। পুরো ম্যাচ সমানে সমানে লড়াই করল দুই দল। শেষ মূহুর্তের ফ্রি কিক থেকে হেডে গোল! শেষ পর্যন্ত দারুণ লড়াই করেও হেরে গেল একদল। হাসতে হাসতে মাঠ ছাড়লো অন্য দল।

প্রায় একই রকম ঘটনা শুক্রবারের দুই ম্যাচে। পার্থক্য বলতে শেষ ম্যাচের গোলটি ছিলো আত্মঘাতি। নিজেদের জালে বল জড়িয়ে ইরানকে জয় উপহার দিলো মরক্কো। বি গ্রুপের প্রথম ম্যাচে তাই ১-০ গোলে জয় পেল ইরান।

উরুগুয়ে শেষ মূহুর্তে মিসরের জালে বল জড়িয়ে জয় পেয়েছে, আর মরক্কো নিজেদের জালে বল জড়িয়ে জয় তুলে দিয়েছে ইরানকে। দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বীতার ম্যাচের ইনজুরি টাইমে (৯৫ মিনিট) বা প্রান্ত দিয়ে উড়ে আসা ইরানের ফ্রি কিক ক্লিয়ার করতে হেড করেছিলেন মরক্কোর আজিজ বোহাদ্দুজ। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার, বল বাইরে যাওয়া পরিবর্তে জড়িয়ে যায় নিজেদের জালেই।

অথচ পুরো ম্যাচ দাপটের সাথে খেলেছে মরক্কো। দ্বিতীয়ার্ধে তাদের আক্রমণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিলো ইরানিরা। কিন্তু দুর্ভাগ্য আফ্রিকার দেশটির, নিজেদের জালেই জড়িয়ে গেল তাদের হেড। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেল ইরান।

সালাহ’র অভাব টের পেল মিসর

হেডে গোল করছেন উরুগুয়ের ডিফেন্ডার হোসে মারিয়া গিমেনেজ - ছবি : সংগ্রহ
পুরো ম্যাচ দুর্দান্ত খেলেও শেষ মূহুর্তের গোলে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের কাছে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরেছে মিসর। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে ফ্রিকিক থেকে উড়ে আসা বলে হেডে গোল করেন উরুগুয়ের ডিফেন্ডার হোসে মারিয়া গিমেনেজ।

২৮ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে এসেই মিসরকে এই ম্যাচে মাঠে নামতে হয়েছে নিজেদের সেরা তারকা মোহাম্মদ সালাহকে ছাড়াই। ইনজুরি আক্রান্ত সালাহ এই ম্যাচে মাঠে নামবেন বলেই জানানো হয়েছিলো; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠে নামানটি কোচ হেক্টর কুপার।

গোল করার পর উরুগুয়ে যখন উল্লাসে ব্যস্ত, টিভি ক্যামেরা তখন তাক করা হয় মিসরের সাইড বেঞ্চে সালাহর উপর। মাথা নিচু করে আফসোস করা ছাড়া যেন আর কিছুই করার ছিলো না সালাহর।

একাতেরনিবার্গে এই ম্যাচে সমানতালেই সুয়াজের-কাভানিদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে মিসর। বল দখলের লড়াইয়ে অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিলো তারা। কিন্তু একজন সালাহর অভাব তো আর পূরণ হওয়ার নয়, তাই মাঝমাঠে বল নিজেদের দখলে রেখেও খুব বেশি আক্রমণ করতে পারেনি প্রতিপক্ষের সীমানায়। ফরোয়ার্ডদের কেউ ভয়ঙ্কর উঠতে পারেননি, যার ফলে গোলও আদায় করতে পারেনি দলটি। নিজদের সীমানা কিংবা মাঝমাঠ থেকে সাজানো আক্রমণ করেও বারবারই প্রতিপক্ষের ডিবক্সের কাছে গিয়ে ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে মিসর।

তবে উরুগুয়ের দুই ফরোয়ার্ড এডিসন কাভানি ও লুইস সুয়ারেজ বেশ কিছু আক্রমণ করেছেন মিসরের গোলপোস্টে। আর খেলার শেষ ১৫ মিনিটে মোটেই খুঁজে পাওয়া যায়নি শুরুর মিসরকে। এই সময়টা উরুগুয়ে তাদের ব্যস্ত রেখেছে গোল ঠেকাতে। কাভানি ও সুয়ারেজ বেশ কয়েকবার গোলের খুব কাছে গিয়েও শেষটা সুন্দর করতে পারেননি।

৭৩ মিনিটে কাভানির সাইড ভলি থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন লুইস সুয়ারেজ; কিন্তু তার পা থেকে বল কেড়ে নেন মিসরীয় গোলরক্ষক এসাম আল হাদারি। ৮৩ মিনিটে আবার সুয়ারেজের দেয়া বল থেকে গোলপোস্ট লক্ষ্য করে বুলেট গতি শট নেন কাভানি, এবারও দুর্দান্ত প্রচেষ্টায় ঠেকিয়ে দেন হাদারি।

৮৩ মিনিটে কাভানির ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তবে ৮৯ মিনিটে উপর্যপুরী এই আক্রমণের ফল হাতে পায় তারা। ডান প্রান্তে ফ্রি-কিক পায় উরুগুয়ে। বক্সের মধ্যে জটলায় উড়ে আসা বলে হেড করেন ডিফেন্ডার হোসে মারিয়া গিমেনেজ। পরের কয়েক মিনিটে প্রাণপণ চেষ্টা করেও গোল শোধ করতে পারেনি মিসর।