পাঁচ গোল দিয়ে কাতার বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা কিলিয়ান এমবাপ্পে। অন্য দিকে রাশিয়া বিশ্বকাপে ছয় গোল দিয়ে গোল্ডেন বুট জেতা হ্যারি কেন। কাতারে প্রথম রাউন্ডে গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয় রাউন্ডে এসে পেলেন গোল। তবে দুই বিশ্বকাপের এই দুই তারকার একজনের আজ বিদায় হবে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স বা সাবেক শিরোপা জয়ী ইংল্যান্ডের যেকোনো একটিকে ম্যাচ শেষেই ব্যাগ গোছাতে হবে বাড়ি ফিরতে। ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ আল বায়েত স্টেডিয়ামে রাত ১টায় মুখোমুখি হবে এই দুই ইউরোপিয়ান জায়ান্ট। অবশ্য রেকর্ড কথা বলছে ইংলিশদের পক্ষেই। দুই দলের পারস্পরিক মোকাবেলায় যেমন জয়ের পাল্লা ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের ভারী তেমনি বিশ্বকাপে দুই দলের সাক্ষাতেও তাদের জয় বেশি।
এই পর্যন্ত দুই দল একে অপরের বিপক্ষে খেলেছে ৩১টি ম্যাচ। এতে ইংল্যান্ডের জয় ১৭টিতে। জিনেদিন জিদান, মিশেল প্লাতিনিদের দেশ জয় পেয়েছে ৯ খেলায়। বাকি পাঁচ ম্যাচ ড্র। ইংল্যান্ড সর্বশেষ তাদের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে বিজয় উল্লাস করেছিল ২০১৫ সালে। সে ম্যাচে ডেলে আলি ও ওয়েন রুনির গোলে জয় ২০১২ সালের অলিম্পিক গেমস আয়োজক দেশের। অবশ্য তাদের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়টা আরো তরতাজা। ২০১৭ সালে ৩-২ গোলে। হ্যারি কেন জোড়া গোল করলেও স্যামুয়েল উমতিতি, ওসমানু দেম্বেলে ও জিবরিল সিদেবের গোলে ম্যাচ জিতে নেয় দিদিয়ের দেশমের দল। ফ্রান্স অবশ্য সর্বশেষ সাত সাক্ষাতে মাত্র একবারই হেরেছে ইংল্যান্ডের কাছে।
বিশ্বকাপ ফুটবলে এ পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স দুবারই পরস্পরের বিপক্ষে খেলেছিল। দুই বারই শেষ হাসি গ্যারেথ সাউথ গেটের পূর্বসূরিদের। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ২-০ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্সকে। এরপর ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপে তাদের ৩-১ গোলে জয় ফরাসিদের বিপক্ষে।
অবশ্য ইউরোতে ফরাসিদের রেকর্ড ভালো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে এখন পর্যন্ত ইংলিশদের কাছে হারেনি তারা। তিন মাচের দু’টি ড্র হয়েছে। জয় অপরটিতে। ১৯৯২তে গোলশূন্য ও ২০১২ সালে ১-১ গোলে ড্র হয় দুই দলের ম্যাচ। ২০০৪ সালে ফ্রান্স জিনেদিন জিদানের জোড়া ২-১ গোলে হারের তিক্ত স্বাদ দেয় ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের দলকে। ম্যাচে এই ল্যাম্পার্ডের গোলেই লিড নিয়েছিল ইংল্যান্ড। এরপর জিদানের ফ্রি-কিক ও পেনাল্টিতে শেষ হাসি দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
ফিফা র‌্যাংকিংয়ে খুব কাছাকাছি অবস্থান এই দুই দেশের। ফ্রান্স আছে ৪ নম্বরে। আর ইংল্যান্ডের অবস্থান ৫ এ। কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্স গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হেরেছিল তিউনিসিয়ার কাছে। অবশ্য এর আগে ও পরে তাদের জয়গুলো অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক ও পোল্যান্ডের বিপক্ষে। পোলিশদের বিপক্ষে জয় ছিল দ্বিতীয় রাউন্ডে। ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত অপরাজিত। তারা গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ড্র করলেও হারিয়েছে ইরান, ওয়েলস ও দ্বিতীয় রাউন্ডে সেনেগালকে।