ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের একঘেয়েমি কাটিয়ে নতুন রং ফেরাতে তিন সংস্করণকে একই কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ‘ডোমেস্টিক থ্রি’ বা ‘ডি থ্রি’ নামে নতুন এই প্রতিযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন তামিম ইকবাল। 

জানিয়েছেন নতুন এই পরিকল্পনায় একই ছয়টি দল খেলবে টি-টোয়েন্টি, ৫০ ওভারের ক্রিকেট ও চার দিনের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। ইতোমধ্যে ২০২৬ থেকে ২০২৮- তিন মৌসুমের জন্য ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে দল পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

রোববার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডি থ্রির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ বিসিবির পরিচালক ও ঘরোয়া ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।

ঘরোয়া ক্রিকেটের আকর্ষণ কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তামিম বলেন, অনেক সময়ই শোনা যায় ঘরোয়া ক্রিকেট তার রং ও আগ্রহ হারিয়েছে। সেই রং ও আগ্রহ ফিরিয়ে আনতেই নতুন এই কাঠামোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ডি থ্রিতে দল পেয়েছে ছয়টি প্রতিষ্ঠান- এইস ব্লুস্টার, ওয়ালটন গ্রুপ, সিটিজেন ব্যাংক, একমি গ্রুপ, সেভেন রিংস সিমেন্ট ও ফরচুন গ্রুপ। আটটি প্রতিষ্ঠান দল নিতে আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত ছয়টিকে বেছে নেয়া হয়েছে।

লটারির মাধ্যমে ছয় দলের আইকন ক্রিকেটারও নির্ধারণ করা হয়েছে। ওয়ালটনের আইকন মেহেদী হাসান মিরাজ, ফরচুনের তাওহীদ হৃদয়, একমির মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সেভেন রিংস সিমেন্টের মুশফিকুর রহিম, এইস ব্লুস্টারের নুরুল হাসান সোহান ও সিটিজেন ব্যাংকের মোহাম্মদ নাঈম শেখ।

আইকন ক্রিকেটার নির্ধারণের পর এবার দল গঠনের পরবর্তী ধাপ কোচিং ও ম্যানেজমেন্ট নির্বাচন। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর হবে ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট। এই ড্রাফটের মাধ্যমে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তিনজন করে কোচের পাশাপাশি একজন টিম অ্যানালিস্ট, একজন ট্রেনার ও একজন ফিজিওথেরাপিস্ট নেবে। 

অর্থাৎ ক্রিকেটারদের ড্রাফটের আগেই দলগুলোর কোচিং ও সাপোর্ট স্টাফের কাঠামো চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। এরপর আগামী ২৬ অক্টোবর হবে প্লেয়ার্স ড্রাফট। প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ২৩ জন ক্রিকেটার নিয়ে স্কোয়াড গড়তে পারবে।

তবে এই ২৩ জনের দলই তিন সংস্করণে খেলবে। টি-টোয়েন্টি, ৫০ ওভার ও চার দিনের ক্রিকেটের জন্য আলাদা স্কোয়াড গড়ার সুযোগ থাকবে না। ফলে দল গঠনের সময় ক্রিকেটারের তিন সংস্করণে খেলার সক্ষমতাকেই গুরুত্ব দিতে হবে।

ডি থ্রির টি-টোয়েন্টি পর্ব শুরু হবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর। বরিশালে হবে উদ্বোধনী ম্যাচ। জানুয়ারিতে হবে চার দিনের ক্রিকেট ও মে মাসে মাঠে গড়াবে ৫০ ওভারের পর্ব। এরপর  ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন বিভাগে টুর্নামেন্ট ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবির।

তিন সংস্করণ মিলিয়ে পুরো ডি থ্রি মৌসুমে মোট ৪২টি ম্যাচ হবে। যার মাঝে ১৯টি টি-টোয়েন্টি, ১৬টি ৫০ ওভারের এবং সাতটি চার দিনের ম্যাচ। 

নতুন কাঠামোর ফলে ঘরোয়া ক্রিকেটের কয়েকটি পুরোনো প্রতিযোগিতার কাঠামোও বদলে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) ও জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি বাদ হয়ে যাচ্ছে। তবে জাতীয় ক্রিকেট লিগের মূল চার দিনের প্রথম শ্রেণির আসর ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আগের মতোই আলাদা থাকবে।

ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিও বিসিবির নতুন কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারিত থাকবে। চার দিনের প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ম্যাচ ফি দেড় লাখ টাকা, ৫০ ওভারের ম্যাচে এক লাখ এবং টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা।

ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি, দল পরিচালনা ও অন্যান্য খরচের অর্ধেক প্রতিষ্ঠানগুলো এবং অর্ধেক বিসিবি বহন করবে। এছাড়া টুর্নামেন্টের স্পনসরশিপ ও টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া রাজস্বের ৫০ শতাংশ দলগুলোর মধ্যে দেয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।

বিসিবির পরিকল্পনা শুধু নতুন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একই ফ্র্যাঞ্চাইজির অধীনে ক্রিকেটার, কোচ ও সাপোর্ট স্টাফকে দীর্ঘ সময়ের জন্য যুক্ত করে তিন সংস্করণের ক্রিকেটে একটি ধারাবাহিক দলীয় কাঠামো গড়ে তোলাই এর অন্যতম লক্ষ্য। 

একই সাথে ঘরোয়া ক্রিকেটে দর্শক আগ্রহ বাড়ানো ও বোর্ডের আর্থিক ব্যয় কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে। তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, নতুন কাঠামো সফল হবে কি না তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে আগ্রহ ও প্রতিযোগিতা ফেরাতে নতুন কিছু করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে চায় তার বোর্ড। 

আগামী ১৫ ডিসেম্বর টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে সেই নতুন পরিকল্পনার মাঠের পরীক্ষা।