ডারউইনে বাংলাদেশের দাপট এখন শুধু ম্যাচের ফলাফলের হিসাবেই সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব পড়তে পারে অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারেও। এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি রিকি পন্টিং।
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ যখন ১৫৩ রানের লিড নিয়ে চালকের আসনে, তখন অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে নাকি বাড়ছে উদ্বেগ। পন্টিং মনে করছেন, ম্যাচের বাকি অংশে অজি ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সই অনেকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে।
চ্যানেল সেভেনে আলোচনার সময় পন্টিং বলেন, ‘এই মুহূর্তে তারা বেশ কঠিন চাপের মুখে আছে। আগামী কয়েকদিনে তাদের সামনে যে পরিস্থিতি আসতে চলেছে, তা সম্ভবত তাদের অনেকের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে যাচ্ছে।’
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছেন পন্টিং। তার মতে, তৃতীয় দিনের শুরুতেই বোঝা যাবে এই ব্যাটিং লাইন-আপ চাপ সামলে নিজেদের মান ও দক্ষতা কতটা প্রমাণ করতে পারে।
‘তারা উদ্বিগ্ন থাকবে এবং সেই উদ্বেগ ধীরে ধীরে তাদের গ্রাস করতে শুরু করবে। টেস্ট ম্যাচে তারা অনেক পিছিয়ে আছে। আর আগামীকাল সকালেই আমরা এই অস্ট্রেলীয় ব্যাটিং লাইন-আপের মানসিকতা, মান এবং দক্ষতার বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পেয়ে যাব।’
অস্ট্রেলিয়ার জন্য এমন পরিস্থিতির মূল কারণ বাংলাদেশের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয়ার পর ব্যাট হাতেও দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ।
তানজিদ তামিম পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি (১০১)। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশী ব্যাটার তিনি। নাজমুল হোসেন শান্ত করেছেন ৮৪ এবং মুমিনুল হক করেছেন ৪৯ রান।
দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান বাংলাদেশের। মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২ ও হাসান মাহমুদ ১৩ রানে অপরাজিত। অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ১৫৩ রানে এগিয়ে থেকে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করবে বাংলাদেশ।
এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য লিড আরো বড় করা। আর অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য দ্রুত ম্যাচে ফিরে আসা। তবে পন্টিংয়ের কথায় স্পষ্ট—এই প্রত্যাবর্তন শুধু ম্যাচ বাঁচানোর লড়াই নয়, কয়েকজন অজি ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার বাঁচানোর লড়াইও হতে পারে।









