এশিয়া কাপের ফাইনালে আবারো ভারতের কাছে শেষ বলে হেরে যায় বাংলাদেশ। আরো একবার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে টাইগাদের। এই হারা ম্যাচেও বীরত্ব দেখিয়েছে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য প্রতিপক্ষকে ব্যাট করতে হয়েছে ৫০ ওভারের শেষ বল পর্যন্ত।
২০১৮ সালের এশিয়া কাপের শুরু থেকেই বাংলাদেশকে বেশ ভুগিয়েছে ওপেনিং ব্যাটসম্যানরা। ফাইনালের আগে চলতি এশিয়া কাপে ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের সেরা জুটি ১৬ রান! ইনজুরির কারণে প্রথম ম্যাচের পর থেকেই ছিটকে পড়েন বাংলাদেশের হার্ড-হিটার ওপেনার তামিম ইকবাল। সেই তামিমের অভাবটা যেন পূরণ করতে পারছিলেন না কেউ।
ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি চমকের কথা বলেছিলেন। আর শুরুতেই মাশরাফি চমক উপহার দেন। লিটন দাসের সঙ্গী করে ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে পাঠানো হয় মেহেদী হাসান মিরাজকে। ব্যক্তিগত ৩২ রান করেই সাজঘরে ফিরে যান মিরাজ। কিন্তু বাংলাদেশের এক পাশ আগলে রাখার দায়িত্ব নেন লিটন কুমার দাস। মিরাজকে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতেই ১২০ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটাও এদিন তুলে নেন লিটন।
ব্যক্তিগত ১২১ রান করে কুলদ্বীপ যাদবের বলে ধোনির হাতে বিতর্কিত স্টাম্পিংয়ের শিকার হন লিটন দাস। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। আম্পায়ারের এই আউটের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বাংলাদেশের সমর্থকরা ক্ষোভ ঝাড়ছেন আইসিসির ওপর। তবে আইসিসি কোনো অভিমান করেনি তাতে। বরং ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হওয়া লিটন দাসকে অভিনন্দন জানিয়েছে আইসিসি।
ম্যাচ শেষের অল্প কিছুক্ষণ পরই নিজেদের অফিশিয়াল পেজে এক টুইট বার্তায় আইসিসি লেখে, ‘সে (লিটন) হতে পারে পরাজিত দলের খেলোয়াড়। কিন্তু তার করা ১২১ রান তাকে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত করেছে। লিটন দাসকে অভিনন্দন!’ এ সময় শতরানের পর লিটন দাসের উদযাপনের একটি ছবিও টুইটারে পোস্ট করে আইসিসি।
যদিও পরবর্তীতে আইসিসি এই টুইটটি কিছুটা পরির্তন করে লিখেছে, বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি। তবে লিটন দাস হাসতেই পারেন। কারণ, ভারতের বিপক্ষে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের এটাই যে সর্বোচ্চ রান। এছাড়া লিটন দাসের ছবি দিয়ে ভারতের বিপক্ষে সেরা ব্যক্তিগত পাঁচ জনের স্কোর দেয়া হয়েছে।
এর আগে মুশফিকুর রহিম ভারতের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১১৭ রান করেছিলেন।
আরো পড়ুন: অনেক প্রশ্ন রেখে বিদায় নিলেন লিটন
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮
‘বিতর্কিত’ রান আউটে বিদায় নিতে হলো লিটন দাসকে। আউট হওয়ার আগে লিটন দাস ১১৭ বল খেলে ১২১ রান করেন।
এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে ৪০তম ওভারের শেষ বলে কুলদীপ যাদবের বলের স্ট্যাম্পড হন লিটন। টিভিতে দেখা যায় ধোনি যখন বলটি স্ট্যাম্পে লাগান তখন লিটনের পা দাগে আছে।
তারপরে অস্ট্রেলিয়ান টিভি আম্পায়ার রড টাকার লিটন দাসকে আউট হিসেবে ঘোষণা দেন।
এর আগে লিটন তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক পূর্ণ করেন মাত্র ৮৭ বল খেলে। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটা তিনি তুলে নিয়েছেন রীতিমতো ঝড়ে গতিতে। ৩৩ বলেই ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটির ঘর। চার-ছক্কার হাঁকিয়ে অর্ধশতক পূরণ করতে খুব বেগ পেতে হয়নি তাকে। হাফসেঞ্চুরি পেরোনোর পরও সমান তালেই খেলে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন লিটন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান হিসেবে খ্যাতি থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজে কোন ভাবেই মেলে ধরতে পারছিলেন না লিটন দাস। আজকের ফাইনালের আগে ১৭টি ওয়ানডে খেলে সেঞ্চুরি তো দূরের কথা হাফসেঞ্চুরির দেখাও পাননি তিনি। অবশেষে ভারতের বিপক্ষে আজকের ফাইনালে হাফসেঞ্চুরিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তরিত করলেন।
আরো পড়ুন: আসল ম্যাচে জ্বলে উঠলেন লিটন দাস
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮
দুবাইয়ের ফাইনালে এসে আসল ম্যাচেই জ্বলে উঠেছেন লিটন দাস। তামিমের অভাব অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছেন সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আজকের ম্যাচের দায়িত্বটা যেন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন লিটন দাস। তার ব্যাটে দেখা মিলছে দারুণ সব শর্টের। বাহারি সব শর্ট খেলে বল মাঠ ছাড়া করছেন।
লিটন তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক পূর্ণ করেন মাত্র ৮৭ বল খেলে।
ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটা তিনি তুলে নিয়েছেন রীতিমতো ঝড়ে গতিতে। ৩৩ বলেই ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটির ঘর। চার-ছক্কার হাঁকিয়ে অর্ধশতক পূরণ করতে খুব বেগ পেতে হয়নি তাকে। হাফসেঞ্চুরি পেরোনোর পরও সমান তালেই খেলে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন লিটন
ঘরোয়া ক্রিকেটে হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান হিসেবে খ্যাতি থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজে কোন ভাবেই মেলে ধরতে পারছিলেন না লিটন দাস। আজকের ফাইনালের আগে ১৭টি ওয়ানডে খেলে সেঞ্চুরি তো দূরের কথা হাফসেঞ্চুরির দেখাও পাননি তিনি। অবশেষে ভারতের বিপক্ষে আজকের ফাইনালে হাফসেঞ্চুরিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তরিত করলেন।
আরো দেখুন : এশিয়া কাপ: 'কাগজে এগিয়ে ভারত কিন্তু ক্রিকেট তো মাঠে খেলা হয়'
বাংলাদেশ ও ভারত ২০১৮ এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে। দুবাইয়ে ম্যাচটি ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে।
বাংলাদেশ ও ভারত এখন পর্যন্ত এশিয়া কাপে ১১ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। যার মধ্যে ১০টিতে ভারত ও একটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
তবে ক্রীড়া বিশ্লেষক মিহির বোস বলছেন, ‘যাদের জেতার কোনো সুযোগ থাকে না, তারা যদি মনে করে জিতবে সেক্ষেত্রে সুযোগ বেড়ে যায়। কাগজে মনে হয় ইন্ডিয়া জিতবে, কিন্তু খেলা তো কাগজে হয় না খেলা মাঠে হয়।’
বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৭ রানের জয় পেয়েছে। সুপার ফোরের এই ম্যাচটি জিতেই বাংলাদেশ ফাইনালে পা রেখেছে।
মিহির বোস মনে করছেন, ‘বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে গেছে এটা বড় ব্যাপার। তবে জিতবে কী না সেটা বলা মুশকিল। ইন্ডিয়া দলে বিরাট কোহলি নেই। বাংলাদেশের টিম যেভাবে পাকিস্তানকে হারিয়েছে সেটা একটা আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।’
মিহির বোসের মতে, ভারতের অতি আত্মবিশ্বাস ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে দলটির জন্য। তিনি বলেন, ‘ইন্ডিয়া যখন ভাবে আমরা জিতে গেছি। তখন বাংলাদেশ ইন্ডিয়াকে চমকে দিতে পারে।’
ভারত ও বাংলাদেশের দলীয় শক্তির কথা বিবেচনা করে মিহির বোস মনে করেন যে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে পিছিয়ে।
তার মতে, ‘বোলিংয়ের হিসেব করলে ভারত এগিয়ে, পেস স্পিন মিলিয়ে বৈচিত্র্য আছে। পরিসংখ্যান বলবে পাল্লা ভারতের দিকে। ২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভারতকে হারিয়েছিল বিশ্বকাপে প্রথমবার। তবে এটার সুযোগ কম বাংলাদেশকে খেলতে হবে ২০০%, ভারতের খেলতে হবে ৫০%।’
বাংলাদেশের ক্রীড়া বিশ্লেষক ও ক্রিকেট বোর্ডের কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলছেন, বাংলাদেশ তার পুরো শক্তির দল নিয়ে আসেনি। তামিম ও সাকিব নেই।
তিনি যোগ করেন, ভারত এখানে তুলনামূলক শক্তিশালি, তবে বাংলাদেশ এখন যে মানসিক অবস্থায় আছে ফাইনাল হেরে গেলে দলটি খুবই হতাশ হবে।
ফাহিম মনে করছেন, পাকিস্তানের সাথে যেভাবে ফিল্ডিং করেছে, যে শরীরি ভাষায় খেলেছে সেটা বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।
বাংলাদেশের বোলিং লাইন আপ ভারতের ব্যাটসম্যানদের সামলাতে পারবে কি না এই প্রশ্নের জবাবে নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেন, পুরো ৫০ ওভার ভারতকে চাপে রাখার মতো বোলার নেই। তবে মিরাজ, মুস্তাফিজ এরা ফর্মে আছে।
মেহেদী হাসান মিরাজ ও মুস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশের বোলিং উদ্বোধন করছেন। ফাইনালের আগ পর্যন্ত মুস্তাফিজ এই আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।
বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং এখন খুব নাজুক অবস্থায় আছে বলে মনে করেন ফাহিম।
তিনি বলেন, ‘সংগ্রাম করছে ব্যাটসম্যানরা। এটা সময় যে আরো ভালো কিছু করার, কোনঠাসা অবস্থাতেই হয়তো ভালো কিছু করতে পারবে। লিটনের বড় শট খেলার ক্ষমতা আছে। আগ্রাসী শুরু করলে বাংলাদেশকে মিডল অর্ডার এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।’









