বিপিএলের ফাইনালে শুক্রবার মিরপুরে মুখোমুখি হয়েছে ফরচুন বরিশাল ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫১ রান করেছে কুমিল্লা। প্রথমবারের মতো বিপিএলের শিরোপা জিততে বরিশালের দরকার ১৫২ রান।

টস জিতে ব্যাট হাতে শুরুটা উড়ন্ত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। তার মূল কারিগর সেই সুনীল নারাইন। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার মাচে যার ব্যাটে উঠেছিল ঝড়। করেছিলেন বিপিএলের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। অপর প্রান্তে লিটন দাস অনেকটা নিষ্ক্রিয় থাকলেও নারাইন এদিনও ছিলেন মারমুখি। প্রথম থেকে শুরু করেন চার-ছক্কার ফুলঝুড়ি।

রান উঠছে তরতরিয়ে। এমন অবস্থায় কুমিল্লার উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন বরিশাল অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বোল্ড করেন দেন লিটন দাসকে (৬ বলে ৪ রান)। জয়কে সাথে নিয়ে নারাইনের ঝড়ো ইনিংস তখনো চলছে। আগের দিন ১৩ বলে ফিফটি করা নারাইন এদিন ৫০ পূর্ণ করেন ২১ বলে। এর মধ্যে ছিল ৫টি চার ও ৪টি ছক্কার মার।

ফিফটির পরপরই নারাইনকে ফিরিয়ে বরিশাল শিবিরে স্বস্তি এনে দেন মেহেদী হাসান রানা। কুমিল্লার রান তখন ৬৯। রানার স্লোয়ারে শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ক্যারিবীয় এই অলরাউন্ডার। যাওয়ার আগে করে যান ২৩ বলে ৫৭ রানের মারকাটারি ইনিংস। তার ইনিংস সাজানো সমান ৫টি করে চার ও ছক্কায়।

নারাইনের বিদায়ের পর কুমিল্লার ব্যাটিং লাইনআপে যেন মোড়ক লাগে। দলীয় ৯৫ রানের মধ্যে নেই ৬ উইকেট। দলীয় ৭৩ রানে দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের শিকার মাহমুদুল হাসান জয় (৭ বলে ৮ রান)। ফাইনালের মঞ্চে জ্বলে উঠতে পারেননি দক্ষিণ আফ্রিকার ফাফ ডুপ্লেসিস। আফগান স্পিনার মুজিব উর রহমানের বলে তার হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডুপ্লেসিস। ৭ বলে তিনি করেন মাত্র ৩ রান।

অধিনায়ক ইমরুল কায়েস ফাইনালে থেকেছেন নিষ্প্রভ। ১২ বলে ১২ রানে তিনি ফেরেন সাজঘরে ব্রাভোর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। পরের ওভারেই ফেরেন রানের খাতা খুলতে না পারা আরিফুল হক। মুজিবের বলে তিনি হন বোল্ড।

সপ্তম উইকেটে হাল ধরার চেষ্টা করেন ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলী ও আবু হায়দার রনি। এই জুটি দলকে ১০০ পার করে। এই জুটিতেই চ্যালেঞ্জিং স্কোরে পৌঁছায় কুমিল্লা। যদিও শেষ ওভারটি কুমিল্লার জন্য হতাশার ছিল। শফিকুল ইসলামের বলে এই ওভারে বিদায় নেয় কুমিল্লার তিন ব্যাটার। রান আসে মাত্র ৩।

২ রান নিতে গিয়ে প্রথম বলে রান আউট হয়ে ফেরেন মঈন আলী। ৩২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় তিনি করেন ৩৮ রান। সপ্তম উইকেট জুটিতে আসে সর্বোচ্চ ৫৩ রান। তৃতীয় বলে আউট আবু হায়দার রনি। শফিকুলের হাতেই ক্যাচ দেন ২৭ বলে একটি করে চার ও ছক্কা হাঁকানো রনি। শহিদুল, তানভির ও মোস্তাফিজ রানের খাতাই খুলতে পারেননি। ৯ উইকেটে কুমিল্লার ইনিংস শেষ হয় ১৫১ রানে।

বল হাতে বরিশালের হয়ে মুজিব ও শফিকুল দুটি, সাকিব, ব্রাভো ও রানা নেন একটি করে উইকেট।