সাধ আর সাধ্যের ব্যবধান থাকলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশার কমতি ছিল না কখনোই। প্রতিটি আসরের আগেই ‘যদি-কিন্তু’র আশায় বুক বাঁধে তারা। ক্রিকেট যেখানে অনিশ্চয়তার খেলা, সেখানে স্বপ্ন দেখার দোষ নেই- এই বিশ্বাসেই এশিয়া কাপ ২০২৫-এ আবারো উচ্চাশা নিয়ে মাঠে নামে টাইগাররা।
প্রথম আসর বাদে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিটি আসরেই অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পর চতুর্থ দেশ হিসেবে টুর্নামেন্টে নাম লেখায় লাল-সবুজরা। আয়োজকও হয়েছে চারবার। অংশগ্রহণকারী দল সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে নয়টিতে। তবে প্রথম তিন দল ছাড়া কেউই শিরোপা ছুঁতে পারেনি- বাংলাদেশও নয়।
১৬টি আসরে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ সাফল্য তিনবার ফাইনাল খেলা- ২০১২, ২০১৬ ও ২০১৮ সালে। এবার ছিল সংখ্যাটা চার করার বড় সুযোগ। জাকের-লিটনরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যের কথা জোর দিয়ে বলেও যান। সুপার ফোরের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত সেই আশা বেঁচে ছিল।
তবে গ্রুপ অব ডেথে থাকা বাংলাদেশকে শুরুতেই কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হয়। হংকংয়ের বিপক্ষে জয় এলেও রানরেট বাড়াতে পারেনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাজেভাবে হেরে বসে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় আসে মাত্র ৮ রানে। সব মিলিয়ে নেট রানরেটে পিছিয়ে পড়ে দল। তবে সমীকরণের জটিলতায় আফগানদের হটিয়ে সুপার ফোরে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।
সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে স্বপ্নের পরিধি বড় হয়। ভারতের বিপক্ষে হারলেও ফাইনালে ওঠার সুযোগ ছিল। শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারালেই মিলত কাঙ্ক্ষিত ফাইনাল। কিন্তু অলিখিত সেমিফাইনালে হেরে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়।
১৩৬ রানের সহজ লক্ষ্য পেয়েও ১১ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। হারটা শুধু পীড়াদায়ক নয়, ছিল অস্বস্তিকরও। শুরু থেকেই ছিল তাড়াহুড়ো। ৪৪ রানে ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও ছক্কা হাঁকানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকে। ১০ ওভারের মধ্যে ৫টি ছক্কা মারে দল, যার বেশিভাগই ব্যর্থতায় পরিণত হয়।
২০১১ সালে মিরপুরে ১৩৫ রান করেই বাংলাদেশকে ৫০ রানে হারিয়েছিল পাকিস্তান। ১৪ বছর পর একই স্কোরে আবারো জয় পেল তারা। এসব পরিসংখ্যান যেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের বাস্তবতা তুলে ধরে- যুগ পেরিয়ে গেলেও দলটি এখনো আগের জায়গাতেই আটকে আছে।
একটি টুর্নামেন্টে শুধু ম্যাচ জিতলেই হয় না, সুযোগ বুঝে কৌশল প্রয়োগ করতে হয়। ভাগ্যকে পাশে পেতে হয় পরিকল্পিত প্রয়াসে। কিন্তু সেই সামর্থ্য বাংলাদেশ এখনো অর্জন করতে পারেনি। এশিয়া কাপ ২০২৫ তাই হয়ে রইল মন খারাপের গল্পে আরেকটি নতুন অধ্যায়।








