জাতীয় দলের হয়ে খেলেন না, আসতে পারছেন না দেশেও। হত্যা-দুর্নীতিসহ নানা মামলায় আছেন ফেঁসে। তারপরও তাকে নিয়ে উদ্বেলিত দেশ। একটা মানুষ নিজেকে কোন অবস্থানে নিলে এমনটা হয়!
উত্তরটা দিতে পারেন কেবল সাকিব আল হাসান নিজেই। প্রথমতঃ এখনো দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা তিনিই, তার উপর গত রাতে যা ঘটিয়েছেন, উদ্বেলিত না হয়ে উপায় আছে! দেখা দিলেন চেনা রূপে।
সাকিব ব্যাটে-বলে দারুণ কিছু করবেন, এমনটা অবিশ্বাস্য কিছু নয়। তবে একই ম্যাচে ফিফটি আবার বল হাতে ৪ উইকেট, খুব সহজ কিছুও নয়। তবুও যখন ফিফটিটা আসে ৩৭ ইনিংস পর!
স্বীকৃত ক্রিকেটের শেষ তিন ইনিংসেই ০ রানে ফিরেছিলেন সাকিব। তবে এর আগে ছোট ছোট রান পেলেও ব্যাট উঁচিয়ে ধরা হচ্ছিলো না দীর্ঘদিন, যা সবশেষ ঘটেছিল ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।
এরপর একটা বছর সব ধরনের ক্রিকেট মিলে ৩৭টা ইনিংস, সাকিব পারেননি রানকে ফিফটিতে রূপান্তর করতে। তবে গ্লোবাল সুপার লিগে নিজের অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমেই করলেন বাজিমাত।
দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে খেললেন ৩৭ বলে ৫৮ রানের অপরাজিত এক ইনিংস। তাতেও যেন মন ভরেনি। এরপর চার ওভার বল করে ১৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন সাবেক নাম্বার ওয়ান এই অলরাউন্ডার।
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ১৭তম বার ৪ উইকেট পেলেন সাকিব আল হাসান। তাতে আরেকটু এগোলেন ৫০০ উইকেটের মাইলফলকের দিকে। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে সাকিবের উইকেট সংখ্যা এখন ৪৯৭টি।
প্রায় ১২ বছর পর স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে একই ম্যাচে ফিফটি ও কমপক্ষে ৪ উইকেট পেলেন সাকিব। ২০১৩ সালে বিজয় দিবস টি-টোয়েন্টিতে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে মোহামেডানের বিপক্ষে ২৮ বলে ৫৭ রান ও ১৮ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব।
সাকিবের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে জিতেছে তার দলও। দুবাই ক্যাপিটালস আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে করেছিল ১৬৫ রান। রান তাড়ায় সেন্ট্রাল ডিসট্রিক্টস ৮ উইকেটে তুলতে পারব ১৪৩ রান। সাকিবরা জিতেছেন ২২ রানে।
অবধারিতভাবেই ম্যাচ সেরা হয়েছেন সাকিব আল হাসান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যা তার ৪৩ তম ম্যাচ সেরার পুরস্কার। সামনে আছেন আন্দ্রে রাসেল (৪৪), কাইরন পোলার্ড ও অ্যালেক্স হেলস (৪৫), গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (৪৬) আর ক্রিস গেইল (৬০)।
উল্লেখ্য, গতরাতে প্রায় একই সময়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ দল ও সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ দল মাঠে নামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, সাকিব আল হাসান খেলেন দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে। যেখানে সাকিব হাসলেও হেরে গেছে বাংলাদেশ।









