এশিয়া কাপ ঘিরে প্রত্যাশার কমতি ছিল না সমর্থকদের মাঝে। হাওয়া লেগেছিল প্রত্যাশার পালে। তবে সব চাওয়া-পাওয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে টাইগাররা, বেখেয়ালি মরে ফাইনালে ওঠার সুযোগও করেছে হাতছাড়া।

পুরো আসরে প্রাপ্তি বলতে কেবল সাইফ হাসান। বাকি সবাই ছিলেন গড়পড়তা। জোড়া ফিফটিতে তার ১৭৮ রান কেবল সান্ত্বনা। আর কেউ পারেননি আলাদাভাবে নজর কাড়তে, যার কড়া মাশুল দিতে হয়েছে দলকে।

অধিনায়ক লিটন দাস ছিলেন মন্দের ভালো। তবে চোটের কারণে শেষ দুই ম্যাচে তার খেলতে না পারা ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। তানজিদ তামিম, তাওহীদ হৃদয়ও পারেননি ভরসা হতে, স্বপ্ন দেখাতে।

অন্যদিকে শামিম পাটোয়ারী, জাকের আলি, নুরুল হাসান সোহান, পারভেজ ইমন, শেখ মেহেদীরা ছিলেন মোটাদাগে ব্যর্থ। মাঠে তাদের অস্বস্তি ছিল স্পষ্ট, তাদের অসহায় চাহনি ডাগআউটেও ছড়িয়েছে আতঙ্ক।

অথচ এশিয়া কাপের আগে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করা হয়েছে দুই ওপেনার তানজিদ তামিম-পারভেজ ইমন ও জাকের আলীকে নিয়ে। গণমাধ্যমের চেয়েও তাদের নিয়ে বেশি প্রশংসা করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

তামিম-ইমনের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি এখন ফিক্সড। অন্যদিকে জাকেরকে বলা হয়েছিল, সেরা ফিনিশার। এমনকি লিটনের অনুপস্থিতিতে তার কাঁধে নেতৃত্ব তুলে দিতেও দ্বিতীয়বার ভাবেনি দল।

জাকের গোটা আসরে ৬ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৭১ রান। যেখানে গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কাট বিপক্ষে খেলেন ৩৪ বলে ৪১* রানের ইনিংস। বাকি ০*, ১২, ৯, ৪ ও ৫। একটা ছক্কাও মারতে পারেননি তিনি, স্ট্রাইকরেট ১০৭.৫৮!

তানজিদ তামিম ৫ ম্যাচে করেছেন ৬৭, যেখানে এক ম্যাচেই করেন ৩১ বলে ৫২। অন্য ম্যাচগুলোতে তার রান ১৮ বলে ১৪, ৬ বলে ০, ২ বলে ০ ও ৩ বলে ১। ১৩.৪০ গড় আর স্ট্রাইকরেট ১১১.৬৭।

পারভেজ ইমনের অবস্থা আরো নাজেহাল। ৪ ম্যাচে করেছেন মোটে ৪০ রান! রানের খাতাই খুলতে পারেননি ২ ম্যাচে, অন্য দুটোতে রান ১৯ ও ২১। মাঝে বাদ পড়েন একাদশ থেকেও। স্ট্রাইকরেট ১০২!

বাংলাদেশ এই আসরে বেশি ভোগেছে মিডল অর্ডার নিয়ে। যার দায়িত্বে ছিলেন তাওহীদ হৃদয়। সুপার ফোরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৫ ম্যাচ পর ফিফটির দেখা পেলেও বাকি ম্যাচগুলোতে ছিলেন একেবারেই ব্যর্থ।

৬ ম্যাচে ১৩৯ রান তার নামের পাশে দেখালেও, এক ম্যাচেই করেন ৩৭ বলে ৫৮। অন্যগুলোতে তার রান ৩৬ বলে ৩৫*, ৯ বলে ৮, ২০ বলে ২৬, ১০ বলে ৭ ও ৫। স্ট্রাইকরেট ১১৪ ছুঁইছুঁই।

পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে চারে পাঠানো শেখ মেহেদীর টি-টোয়েন্টিতে গড়ই ১১.৬৯ আর স্ট্রাইকরেট এক শ’র একটু বেশি। আর শেষ ম্যাচে পাঁচে আসা নুরুল হাসানের ব্যাটিংয়ের হাঁসফাঁস ছিল আরো দৃষ্টিকটু।

দু’জনের কেউই অবশ্য একাদশে নিয়মিত নন। তবে একাদশে নিয়মিত খেলা শামিম পাটোয়ারীও সুবিধা কর‍তে পারেননি। ৫ ম্যাচে ১১৪ স্ট্রাইকরেটে তার রান ৯৭। যেখানে দু’টি ইনিংস ছিল ৪২* ও ৩০ রানের।

এশিয়া কাপের ব্যাট হাতে বাংলাদেশের সেরা প্রাপ্তি সাইফ হাসান। হিসেবের বাহিরে থেকে এসেও ৪ ম্যাচে করেন ১৭৮ রান। করেছেন দু’টি ফিফটি, মেরেছেন ১২টি ছক্কা। স্ট্রাইকরেট ১২৮।

এছাড়া শেষ দুই ম্যাচে চোটের কারণে খেলতে না পার লিটন দাসের সংগ্রহ ৪ ম্যাচে ১১৯ রান। গড় ২৯.৭৫, স্ট্রাইকরেট প্রায় ১৩০। ভালো শুরুর পর ইনিংস বড় করতে না পারাই পিছিয়ে দিয়েছে লিটনকে।

এলোমেলো এই আসরে কিছুটা গোছালো ছিল বোলিং আক্রমণ। আসরে দেশের সেরা বোলার মোস্তাফিজুর রহমান। ৬ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ৯। ৫ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছেন রিশাদ হোসেন।

এছাড়া ৪ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। এছাড়া শেখ মেহেদী ৪ ম্যাচে ৬ ও তানজিম সাকিব ৪ ম্যাচে নেন ৪ উইকেট। তবে ব্যর্থ ছিলেন শরিফুল ইসলাম ও সাইফুদ্দিন। নাসুম আহমেদও সুবিধা করতে পারেননি।

অথচ বিশ্বকাপের আগে পানির মতো খরচ করা হয়েছে এই দলটার পেছনে। কত কত ক্যাম্প, কতভাবে অনুশীলন! হার্ড হিটার কোচ নিয়োগ, মনোবিদ নিয়োগ- সবই যেন গেল বিফলে। তবে তাদের এমন ব্যর্থতায় যতটা না অসহায়ত্ব অনুভব হচ্ছে, তার চেয়েও বেশি অসহায়ত্ব অনুভব হচ্ছে যখন চিন্তা হয় যে ইমন-জাকের-সোহান-হৃদয়দের বিকল্পও পাইপলাইনে নেই।