ক্রোয়েশিয়ার মাঠে নেমে যেন রীতিমতো তাণ্ডব চালায় ইংল্যান্ড! শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে স্বাগতিকদের রক্ষণ ছিন্নভিন্ন করে দেয় তারা। শেষ পর্যন্ত নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হার দেখে ক্রোয়াটরা।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৭-০ গোলের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে টমাস টুখেলের দল। হ্যারি কেইন ও বুকায়ো সাকার জোড়া গোলের সাথে এদিন জালের দেখা পেয়েছেন জুড বেলিংহ্যাম, অ্যান্থনি গর্ডন ও মর্গ্যান রজার্স। 

শনিবার রিয়েকায় উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে বল দখল থেকে আক্রমণ—সবদিকেই ছিল ইংল্যান্ডের আধিপত্য। ৬৩ শতাংশের বেশি সময় বল নিজেদের কাছে রেখে ১৯টি শট নেয় তারা, যার ১০টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে ক্রোয়েশিয়ার ১২ শটের মাত্র একটি ছিল লক্ষ্যে।

অষ্টম মিনিটেই ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন কেইন। জুড বেলিংহ্যামের বাড়ানো বল ডি-বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শটে গোল করেন অধিনায়ক। ২১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বেলিংহ্যাম। সাকার বাড়ানো বল জালে জড়ান তিনি।

৩৯ মিনিটে তৃতীয় গোলটি আসে গর্ডনের পা থেকে। জারেল কুয়ানসাহর ক্রস থেকে হেডে জাল খুঁজে নেন তিনি। আর প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে বেলিংহ্যামের বাড়ানো বলে কাছ থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সাকা।

বিরতির পরও কমেনি ইংল্যান্ডের আক্রমণের ধার। ৫৩ মিনিটে এলিয়ট অ্যান্ডারসনের নিচু ক্রসে স্লাইড করে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কেইন। এতে জাতীয় দলের হয়ে ১২৪ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৮৯-এ।

৬৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন সাকা। কেইনের কাছ থেকে বল পেয়ে জোসিপ স্তানিসিচের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন তিনি। হ্যাটট্রিকের সুযোগও পেয়েছিলেন সাকা, কিন্তু কাছ থেকে নেয়া শট চলে যায় পোস্টের ওপর দিয়ে।

শেষ দিকে আরো একবার জাল কাঁপে ক্রোয়েশিয়ার। ৮৭ মিনিটে গোলরক্ষককে কাটিয়ে ইংল্যান্ডের সপ্তম গোলটি করেন বদলি মর্গ্যান রজার্স।

এই হার ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে বড়। এর আগে ২০১৮ সালে স্পেনের কাছে ৬-০ গোলে হেরেছিল তারা। এবার নিজেদের মাঠে সেই লজ্জার রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেল। অন্যদিকে স্পেনের কাছে হেরে নেশনস লিগ শুরু করা ইংল্যান্ডের এটি টানা দ্বিতীয় জয়।

তিন ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ লিগের তিন নম্বর গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে আছে তারা। সমান পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে স্পেন, তবে তারা একটি ম্যাচ কম খেলেছে।