বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে পরাজিত হয়ে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় ঘটেছে তিউনিসিয়ার। কিন্তু আফ্রিকান এই দেশটি কাল যখন গ্রুপের আরেক বিদায়ী দল পানামার মুখোমুখি হবে তখন ৪০ বছরের জয় খরা কাটিয়ে উঠার সব ধরনের চেষ্টাই করবে।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৫-২ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলে পরাজয়ে গ্রুপ-জি থেকে আগেই বিদায় ঘটেছে তিউনিসিয়ার। বৃহস্পতিবার তাদের প্রতিপক্ষ পানামারও দেশের টিকিট নিশ্চিত হয়ে গেছে। তিউনিসিয়া তাদের সর্বশেষ ১৩টি বিশ্বকাপের ম্যাচে জয়বিহীন আছে। এর মধ্যে চারটিতে ড্র ও নয়টিতে পরাজিত হয়েছে। মেক্সিকোর বিপক্ষে ১৯৭৮ সালের ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়েছিল। আর সে কারণেই দীর্ঘ ৪০ বছর পরে অন্তত একটি জয়ের সুখস্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরতে চায় হমদি নাগায়ুজের দল।

ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই ডিফেন্ডার বলেছেন, ‘গ্রুপের সেরা দুটি দলের বিপক্ষে আমরা প্রথম দুটি ম্যাচ খেলেছি। আমাদের গ্রুপটাও বেশ কঠিন। এখন আমাদের শেষ ম্যাচের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। পানামার বিপক্ষে জয়ী হতে পারলে দীর্ঘ ৪০ বছর পরে আমরা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করবো।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেনের শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তিউনিশিয়া। কিন্তু পরের ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারেনি। যদিও ইনজুরির তালিকাটা লম্বা হওয়া তা বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে প্রভাব ফেলেছে। ডায়লান ব্রন গোঁড়ালি, সায়াম বেন ইউসেফ হাঁটু ও মোয়েজ হাসেন কাঁধের ইনজুরিতে পড়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। যদিও ডিফেন্ডার বেন ইউসেফ টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত দলের সাথে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিশ্বকাপে নিজেদের পারফরমেন্স নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বকাপে আমরা আফ্রিকাকে ভালভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারিনি। কিছু কিছু বিষয় আমাদের বিপক্ষে গেছে। বিশেষ করে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুর দিকে পেনাল্টি আমাদের পিছিয়ে দিয়েছিল। তার উপর ইনজুরির মাত্রাটা বেশি হওয়া তা দলকে প্রভাবিত করেছেন। কিন্তু একটি বিষয় আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে প্রতিপক্ষরা আমাদের থেকে শক্তিশালী। এই টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যেই আমরা অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।

নবাগত পানামাও শেষ ম্যাচে নিজেদের মেলে ধরতে প্রস্তুত। আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পরেও দলের আত্মবিশ্বাস নড়বড়ে হয়নি। কনকানাফ বাছাইপর্বে যুক্তরাষ্ট্রের মত দলকে বিশ্বকাপে খেলতে দেয়নি পানামা। আর এই অভিজ্ঞতায় দারুণ খুশী দলের ম্যানেজার হার্নান ডারিও। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের দুটি দারুণ দলের বিরুদ্ধে আমাদের খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে। এটা সত্যিই চমৎকার। কারণ এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের অবস্থান বুঝতে পেরেছি। বিশ্বকাপে সব দলই দুর্দান্ত। খেলোয়াড়দের শারিরীক ফিটনেসও চোখে পড়ার মত। অসধারণ দক্ষতা ও কৌশলে তারা গতিময় ফুটবল খেলেছে। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো আমি দারুণ উপভোগ করেছি। এখানে আসতে পেরে আমি দারুণ খুশি।’

৩৭ বছর বয়সী পানামার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ফিলিপ বালোয়ের জন্য বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের অনন্য এক অভিজ্ঞতা হয়েই থাকবে। পানামার সমর্থকরাও বালোয়ের দারুণ ভক্ত।

এই প্রথমবারের মত পানামা ও তিউনিসিয়া একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এর আগে বিশ্বকাপে একবারই কনকানাফের কোনো দলের মোকাবেল করেছিল তিউনিসিয়া। ১৯৭৮ সালের ওই ম্যাচটিতে তিউনিসিয়া ৩-১ গোলে জয়ী হয়েছিল।