ক্লাব গুলো সবসময়ই নিজেদের স্বার্থই বড় করে দেখে। তাদের বিবেচনায় খুব কমই থাকে দেশের ফুটবল উন্নয়নের কথা। এরাই নব্বই এর দশকে পুল আর জেন্টেলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট করে ফুটবলের সর্বনাশের সূত্র পাত করেছে। সে জের ধরেই আজ বাংলাদেশের ফিফা র‌্যাংকিং ১৮০-১৯০ এর ঘরে আটকে আছে।

এরপর এই ক্লাবরাই নানা অজুহাতে খেলতে অসম্মতি জানিয়ে খেলা বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছে বাফুফেকে। এই ক্লাব কর্মকর্তারাই জোট বেঁধে বিদেশী ফুটবলারের সংখ্যা বৃদ্ধি করে জাতীয় দলকে মেধা শূণ্য করেছে। সর্বশেষ লিগ কমিটির সভায় ১৩ ক্লাবের মধ্যে ১০ ক্লাবই বিদেশী ফুটবলার ছাড়া ২০২০-২১ সিজনের ফুটবল খেলতে চায়। এতে তারা আর্থিক সংকটের যুক্তি দেখিয়েছে। বিদেশী ছাড়া খেললে কিছু ক্লাবের নিশ্চিত লাভ হবে। তবে যে দুই ক্লাব এএফসি কাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে তারা দুর্বল হয়ে পড়বে। চার বিদেশীর সুবিধা নিয়ে অন্য দেশের ক্লাবরা ঠিকই সুবিধা আদায় করবে বাংলাদেশী ক্লাবদের বিপক্ষে।

এটা সত্য, চার বিদেশীর ফলে স্থানীয় ফুটবলাররা বিশেষ করে স্ট্রাইকিং পজিশনে নতুন খেলোয়াড় উঠে আসছে না। যারা জ্বলে উঠার ইংগিত দেন তারাই নজরে পড়েন বড় দলের। এরপর সেই ক্লাব গিয়ে কখনও সাইড বেঞ্চে কখনওবা খেললেও পজিশন পাল্টে মিডফিল্ড বা ডিফেন্স লাইনে। নাসির চৌধুরী, সাদ উদ্দিন, আবদুল বাতেন মজুমদার কোমল, মাহাবুবুর রহমান সুফিল, মোহাম্মদ ইব্রাহিমদের এখন পরিচয় ডিফেন্ডার হিসেবে। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জাতীয় দল যেমন ভালো করছে আন্তর্জাতিক ম্যাচে তেমনি ক্লাব ফুটবলেও দূর্দান্ত পাফরম্যান্স এএফসি কাপে। গত বছর এএফসি কাপে ঢাকা আবাহনীর ইন্টার জোন প্লে-অফ সেমি ফাইনালে যাওয়া এবং এবার বসুন্ধরা কিংসের বড় জয়ে শুরুটা দেশী বিদেশী ফুটবলারের সমন্বয়েই।

বিদেশী ফুটবলার বাদ দেয়ার বিরোধীতা করে জাতীয় দল এবং বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার তপু বর্মন বলেন, ‘বিদেশী ফুটবলার কমানো যেতে পারে বড় জোর। কিন্তু বন্ধ করাটা ঠিক হবে না।’ তার যুক্তি, ‘বিদেশী ফুটবলার না থাকলে লিগের আকর্ষনই নষ্ট হয়ে যাবে। মান আর থাকবে না লিগে। সব দলে মানসম্পন্ন বিদেশীর উপস্থিতিতে খেলাও হয় জমজমাট।’ এরপর এএফসি কাপের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এএফসি কাপে বাংলাদেশের দুটি দল খেলার সুযোগ পায়। এই আসরে সব বিদেশী দলই চার করে বিদেশী খেলাচ্ছে। এখন বাংলাদেশের ক্লাব গুলো যদি বিদেশী ছাড়া খেলে তাহলে তাদের পক্ষে এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট ভালো করা খুব কঠিন হয়ে যাবে।

পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম মুর্শেদী এখনই বলছেন না বিদেশী ছাড়া লিগের কথা। তার মতে, এটা ক্লাবগুলোর প্রস্তাব। আমরা তাদের বলেছি লিখিত দিতে। তবে যে সব ক্লাব এএফসি কাপে খেলবে তারা বিদেশী নিতে পারবে সে আসরের জন্য।