আগের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ৩ গোলে হার। যা এবারের সিজন শুরুর আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা অনিশ্চিত করে দিয়েছিল মোহামেডানের। এই দুশ্চিন্তা দূর করে আশা জাগিয়ে রাখতে বুধবার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের বিপক্ষে ছিল না জয়ের বিকল্প। শেষ পর্যন্ত সেই কাঙ্খিত জয়ই পেল দর্শক প্রিয় দলটি। ওয়ালটন ফেডারেশন কাপের ‘ডি’ গ্রুপের এই ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধাকে ৪-১ গোলে হারিয়ে সাদা কালো শিবির এখন নকআউট পর্বে যাওয়ার রেসে।

এজন্য তাদের এখন তাকিয়ে থাকতে হবে ৩০ ডিসেম্বর ঢাকা আবাহনী এবং মুক্তিযোদ্ধা ম্যাচের দিকে। সে ম্যাচ ড্র হলেই পরের রাউন্ডে চলে যাবে মোহামেডান। সাথে আবাহনীও। তবে ওই ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধা যদি জয় লাভ করে তাহলে পাল্টে যাবে চিত্র। তিন দলের পয়েন্ট হবে সমান। তখন গোল পার্থক্যে হবে বিবেচ্য।
আবাহনীর কাছে বাজে হারে মওসুম শুরুর পর মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে একাদশে তিন পরিবর্তন। স্ট্রাইকার সোলেমান দিয়াবাতে, গোলরক্ষক হোসেন সুজন এবং ফরোয়ার্ড জাফর ইকবালের পরিবর্তে কাল একাদশে ফরোয়ার্ড আমিনুর রহমান সজীব, গোলরক্ষক আহসান হাবিব দিপুরা। এদের উপস্থিতিতে শেন লেনেন শীর্ষরা প্রথমার্ধেই লিড নেয়। তা হাবিবুর রহমান সোহাগের ফ্রি- কিক থেকে। ৪২ মিনিটে তার নেয়া বাম পায়ের ফ্রি-কিক সোজা জালে।

বিরতির পর সমতা আনার চেষ্টা চালাতে থাকে আর্থিক সংকটে থাকা মুক্তিযোদ্ধা। ৬২ মিনিটে উজবেক ফরোয়ার্ড আকবর আলী খোলদারভ বল পেয়ে যান গোলরক্ষক বিপুর ভুলে। কিন্তু শট নিতে দেরী করায় তার জালে যায়নি। অবশ্য ৬৮ মিনিটে গোল পান তিনি। মোহামেডান মিডফিল্ডার সোহানের ভুল পাস থেকে সৃষ্ট আক্রমণে সজুন মিয়ার ক্রসে আকবরের হেডে পরাস্ত বিপু।

তবে মুক্তিযোদ্ধার এই আনন্দ বেশীক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মোহামেডানের শেষ ১৫ মিনিটের ঝড়ে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার শংকায় তারা। ৭৫ মিনিটে সোহাগের কর্ণারে অধিনায়ক নাগাতার হেডে আতিকুজ্জামান মাথা লাগিয়ে ফের দলকে এগিয়ে নেন। দলের বাকি দুই গোলে নাইজেরিয়ান মোহাম্মদ আবওিলা নুরাতের কারিশমা। ৮০ মিনিটে সজীবের ক্রসে বাম পায়ের শট গোল করেন তিনি। ৮৩ মিনিটে সজীবের সাথে ওয়াল করে বল পান নুরাত। এরপর বাম পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোল।