ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের ইতিহাস রচিত হয় রাজনৈতিক বয়ানে। আমাদের ইতিহাস রচিত হয় যে সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে, তাদের কলমে।’ 

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘যদি সেটা না হতো, তাহলে অলি আহাদ, মাওলানা ভাসানী, হোসাইন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের জীবনী আমরা আরো বিস্তৃতভাবে জানতে পারতাম। তাদের সততা, দেশপ্রেম, সাহস ও আপসহীনতার বিষয়গুলো আমরা নতুন প্রজন্মকে জানাতে পারতাম।’

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘চির বিদ্রোহী জননায়ক ভাষা সৈনিক অলি আহাদ সম্মাননা স্মারক ও অভিনন্দন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দিতে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আবদুল কাদির শাহ পাঠাগার।

পাঠাগারের সভাপতি মো: বাবুল মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জামাল হোসেন ও আশুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম শফিকুল ইসলাম চৌধুরী।

কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি কিন্তু খুব মেধাবী ছিলাম না। তবে পরিশ্রমী ছিলাম। ফলে রেজাল্ট দিয়ে বাবা-মা ও শিক্ষকের মুখে হাসি ফোটাতে পারতাম। তাই মেধা যার যতটুকুই থাকুক, পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ‘যে যত পরিশ্রম করবে, সেটা লেখাপড়াই হোক আর যেকোনো কর্মক্ষেত্রেই হোক, সে-ই বেশি সফলতা অর্জন করবে। তাই পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই, সততার কোনো বিকল্প নেই, আত্মবিশ্বাসের কোনো বিকল্প নেই। তুমি যখন মনে করবে কাজটি পারবে, তুমি জেনে রাখো, সেটা তুমি পারবেই।’

আলোচনা সভা শেষে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে ‘চির বিদ্রোহী জননায়ক ভাষা সৈনিক অলি আহাদ সম্মাননা স্মারক’ তুলে দেন রুমিন ফারহানা।

অনুষ্ঠানটি নিয়ে এর আগে আপত্তি জানিয়েছিল আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। দলটির অভিযোগ, আবদুল কাদির শাহ পাঠাগার আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করেছে। 

এছাড়া সংসদে দেয়া বক্তৃতার কারণে রুমিন ফারহানা এমপিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণাও দিয়েছিল স্থানীয় বিএনপি। এ কারণে সরকারি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটির অনুমতি না দেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল দলটি।

অনুষ্ঠান শেষে তাকে আশুগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক ব্যাপার। রাজনীতিতে কত কিছুই সংঘটিত হয়ে থাকে। আমি জনগণের সাথে রয়েছি, থাকব ইনশাআল্লাহ।’