খুলনা ব্যুরো

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা মহানগর শাখা এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের  সংবর্ধনা প্রদান করেছে। খুলনা প্রেস ক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে গতকাল রোববার আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিবিরের  সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেছেন, আমাদের তরুণরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখলেই বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। এ জন্য তরুণদের মেধাবী হওয়ার পাশাপাশি সৎ, দক্ষ ও নৈতিক মানুষ হতে হবে। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনায় কৃতিত্বের ছাপ রাখার পাশাপাশি সর্বক্ষেত্রে মেধা, সততা ও দেশপ্রেমের স্বাক্ষর রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে শিবির সেক্রেটারি আরো বলেন, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেকে সেরা হিসেবে তুলে ধরার জন্য অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের বিকল্প নাই। তাই এই মেধার লড়াইয়ে সবাইকে এসএসসি পরীক্ষার চেয়েও কঠোর সাধনায় মগ্ন হতে হবে। তবেই সফলতার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। 
তিনি বলেন, আমাদের দেশে সরকারি চাকরির জন্য পলিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হয়। কিন্তু পৃথিবীর অন্যান্য দেশে কোয়ালিটি দেখে চাকরি দেয়া হয়। আমাদের দেশে সর্বত্র দলীয়করণের  ফলে প্রকৃত মেধাবীরা কাক্সিক্ষত জায়গায় পৌঁছাতে পারে না। সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বৃদ্ধির সমালোচনা করে শিবির সেক্রেটারি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। ‘কোটা না মেধা’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। কিন্তু ফ্যাসিস্টের সেই পথ ধরে প্রকৃত মেধাবীদেরকে মূল্যায়ন না করে দলীয়করণের লক্ষ্যে মৌখিক পরীক্ষায় ৪০০% নম্বর বৃদ্ধির ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় নিয়োগের বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। এতে করে আজকের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে তার কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার ক্ষেত্রে বাধাপ্রাপ্ত হবে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর আমির মাহফুজুর রহমান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী, সাবেক মহানগর সভাপতি প্রিন্সিপাল জাহাঙ্গীর আলম, মিয়া মুজাহিদুল ইসলাম, জাহিদুর রহমান নাঈম ও অ্যাডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ক্যারিয়ার সেশন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট, ফুল, সংবর্ধনা গিফট প্যাকেজ এবং বইসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়।