বিশেষ সংবাদদাতা

 

* চার দশকে ১০ পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক 
* প্রচলিত ব্যাংকের ৬৮১ শাখা-উইন্ডোতেও শরিয়াহভিত্তিক সেবা 
* এনবিএফসিতেও বাড়ছে পরিধি 
* প্রশ্ন শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স, সুশাসন ও ঝুঁঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে

সুদভিত্তিক প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের বাইরে শরিয়াহভিত্তিক একটি বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল চার দশকের বেশি আগে। ১৯৮৩ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যে পথচলা শুরু, তা এখন দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি বড় অংশে বিস্তৃত হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকের পাশাপাশি প্রচলিত ব্যাংকগুলোও গ্রাহকের চাহিদা বিবেচনায় ইসলামিক শাখা ও উইন্ডো খুলছে। নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও বাড়ছে এ ধরনের সেবা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর বাইরে ১৭টি প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংক ৪৯টি ইসলামী ব্যাংকিং শাখার মাধ্যমে এবং ১২টি প্রচলিত ব্যাংক ৬৩২টি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে। আরো ৯টি প্রচলিত ব্যাংক শাখা ও উইন্ডো-দুই মাধ্যমেই ইসলামী ব্যাংকিং পরিচালনা করছে।
অর্থাৎ, পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোর বাইরে প্রচলিত ব্যাংকগুলোর ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা-উইন্ডোর সংখ্যাও কয়েক শতে পেঁৗঁছেছে। এ বিস্তার শুধু একটি আর্থিক পণ্যের জনপ্রিয়তা নয়; দেশের ব্যাংকিং বাজারে শরিয়াহভিত্তিক অর্থায়নের ক্রমবর্ধমান চাহিদারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কিন্তু এ দ্রুত বিস্তারের সাথে সামনে এসেছে আরো মৌলিক কিছু প্রশ্ন-ইসলামী ব্যাংকিংয়ের পরিমাণ বাড়লেও এর গুণগত মান কতটা বেড়েছে? শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের মূল দর্শন কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে? সুশাসন ও ঝুঁঁকি ব্যবস্থাপনা কতটা শক্তিশালী? আর আমানতকারীর আস্থা রক্ষায় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা সক্ষম?
৪ দশকের পথচলা
বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। চার বছর পর ১৯৮৭ সালে দ্বিতীয় ইসলামী ব্যাংক হিসেবে আল-বারাকা ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৯৬ সালে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক-বর্তমানে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক-ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। ২০০১ সালে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করে।
পরবর্তী সময়ে প্রচলিত ব্যাংককে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকে রূপান্তরের নতুন ধারা তৈরি হয়। এক্সিম ব্যাংক এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকে রূপান্তরিত হয়। এক্সিম ব্যাংক ২০০৪ সালে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে।
২০১৩ সালে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক ইউনিয়ন ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ২০২১ সালে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকে রূপান্তরিত হয়ে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক নামে পরিচিত হয়। পরের বছর ২০২২ সালে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকও পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকে রূপান্তরিত হয়।
ফলে বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকিং এখন শুধু নতুন ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ওপর নির্ভরশীল নয়; প্রচলিত ব্যাংকের রূপান্তরও এ খাতের আকার বাড়িয়েছে।
কেন বাড়ছে ইসলামী ব্যাংকিং
ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মূল দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে রিবা বা সুদ পরিহার। কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক নীতির আলোকে অর্থায়নকে বাস্তব সম্পদ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের সাথে যুক্ত করার ধারণা এ ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
মুদারাবা, মুশারাকা, মুরাবাহা, ইজারা ইত্যাদি বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে অর্থায়ন পরিচালিত হয়। তাত্ত্বিকভাবে এতে অর্থদাতা ও উদ্যোক্তার মধ্যে মুনাফা ও ঝুঁঁকি ভাগাভাগির সম্পর্ক তৈরি হওয়ার কথা।
বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ধর্মীয় কারণে সুদভিত্তিক ব্যাংকিং এড়িয়ে চলতে চান। ইসলামী ব্যাংকিং তাদের জন্য একটি বিকল্প তৈরি করেছে। ফলে ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি বাজার চাহিদাও এ খাতের বিস্তারে ভূমিকা রেখেছে।
প্রচলিত ব্যাংকগুলোর ইসলামিক শাখা ও উইন্ডো খোলার প্রবণতাও এর প্রমাণ। অর্থাৎ, ব্যাংকগুলো দেখছে, শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক সেবার জন্য একটি আলাদা গ্রাহক বাজার তৈরি হয়েছে।
বিস্তার বনাম বাস্তব চর্চা
তবে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে শুধু প্রতিষ্ঠানসংখ্যা বা শাখা-উইন্ডোর সংখ্যা দিয়ে সাফল্য মাপা যায় না। কারণ এ ব্যবস্থার আলাদা পরিচয় তৈরি হয়েছে শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক দর্শনের কারণে।
প্রশ্ন হচ্ছে-বাস্তব ব্যাংকিং কার্যক্রমে সে দর্শন কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে?
ইসলামী ব্যাংকিংয়ে সুদ না থাকাই একমাত্র শর্ত নয়। অর্থায়নের সাথে বাস্তব সম্পদ বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সম্পর্ক, চুক্তির স্বচ্ছতা, ঝুঁঁকি বণ্টন, অন্যায্য সুবিধা পরিহার এবং নৈতিক বিনিয়োগও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই কোনো ব্যাংকের নামের সাথে ‘ইসলামী’ শব্দ যুক্ত থাকা এবং তার প্রতিটি অর্থায়ন কার্যক্রম শরিয়াহর উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া এক বিষয় নয়। এখানেই শরিয়াহ কমপ্লায়েন্সের প্রশ্নটি সামনে আসে।
শরিয়াহ বোর্ড কতটা কার্যকর
ইসলামী ব্যাংকের পণ্য ও কার্যক্রম শরিয়াহসম্মত কি না, তা যাচাইয়ে শরিয়াহ বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় শরিয়াহ তদারকি শুধু একটি পণ্য অনুমোদনেই সীমাবদ্ধ থাকার সুযোগ নেই।
ব্যাংকের বিনিয়োগ বাস্তবে কোথায় যাচ্ছে, চুক্তির শর্ত কিভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, গ্রাহক কী বুঝে চুক্তিতে প্রবেশ করছেন এবং ঘোষিত ঝুঁঁকি-বণ্টন বাস্তবে হচ্ছে কি না-এসবও তদারকির আওতায় আসা প্রয়োজন।
এ কারণে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বিস্তারের সাথে শরিয়াহ অডিটকে আরো কার্যকর ও স্বাধীন করার প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
একই সাথে গ্রাহকদের জন্য সহজ ভাষায় জানানো দরকার- কোন অর্থায়ন কোন শরিয়াহ চুক্তির ভিত্তিতে হচ্ছে, ব্যাংক কিভাবে মুনাফা করছে এবং ঝুঁঁকি কিভাবে বণ্টিত হচ্ছে।
ব্যাংকিং সঙ্কটের অভিঘাত
বাংলাদেশের ব্যাংকিংখাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খেলাপি ঋণ, দুর্বল সুশাসন, ঋণ কেন্দ্রীভবন, পরিচালনা পর্ষদের প্রভাব, মূলধন ঘাটতি ও তারল্য নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যাংকিং ব্যবস্থার অংশ হওয়ায় এসব ঝুঁঁকি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয়।
বরং ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরো সংবেদনশীল। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের একটি বড় অংশ শুধু আর্থিক সেবার জন্য ব্যাংক বেছে নেন না; তারা শরিয়াহসম্মত আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখেই অর্থ রাখেন।
সুতরাং ইসলামী ব্যাংকে সুশাসনের দুর্বলতা দেখা দিলে তার প্রভাব দ্বিমাত্রিক হতে পারে-এক দিকে আমানতকারীর আর্থিক ঝুঁঁকি, অন্য দিকে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রতি আস্থার ক্ষয়।
এ কারণে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের পরবর্তী সংস্কারের কেন্দ্রে শুধু শরিয়াহ নয়, করপোরেট গভর্ন্যান্স ও ঝুঁঁঁকি ব্যবস্থাপনাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
তথ্য প্রকাশে নতুন উদ্যোগ
ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রকৃত চিত্র বোঝার ক্ষেত্রে বড় সমস্যা ছিল পর্যাপ্ত পৃথক ও কাঠামোবদ্ধ তথ্যের সীমাবদ্ধতা। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ ইসলামী ব্যাংকিংয়ের তথ্য সংগ্রহে উদ্যোগ নেয়।
২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জারি করা ঝঞউ ঈরৎপঁষধৎ ঘড়-২-এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত ফরম্যাটে তথ্য দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
এর ফলে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন সূচক সম্পর্কে পৃথক তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও সাধারণ মানুষের জন্য এ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীতে ইসলামী এনবিএফসি সেবার তথ্য সংগ্রহেও উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি ঝঞউ ঈরৎপঁষধৎ ঘড়-০১-এর মাধ্যমে ইসলামী এনবিএফসি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত ফরম্যাটে তথ্য দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের জন্য এ তথ্যের গুরুত্ব শুধু গবেষণায় নয়; ব্যাংকিং খাতের ঝুঁঁকি শনাক্ত ও নীতি নির্ধারণেও রয়েছে।
এনবিএফসিতেও বাড়ছে ইসলামী অর্থায়ন
ইসলামী অর্থব্যবস্থার বিস্তার ব্যাংকিং খাতেই সীমাবদ্ধ নেই। বাংলাদেশে ইসলামী এনবিএফসির যাত্রা শুরু হয় ২০০১ সালে ইসলামী ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হজ ফাইন্যান্স কোম্পানি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩৫টি এনবিএফসির মধ্যে দু’টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী এনবিএফসি রয়েছে। একটি প্রচলিত এনবিএফসি সাতটি ইসলামী এনবিএফসি শাখার মাধ্যমে-এর মধ্যে চারটি উইন্ডোসহ-সেবা দিচ্ছে। আরো সাতটি প্রচলিত এনবিএফসি ৬৯টি ইসলামী এনবিএফসি উইন্ডোর মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে। এটি দেখাচ্ছে, ইসলামী অর্থায়নের বাজার শুধু ব্যাংকিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বড় সম্ভাবনা
ইসলামী ব্যাংকিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা হলো আর্থিক অন্তর্ভুক্তি। ধর্মীয় কারণে প্রচলিত ব্যাংকিং থেকে দূরে থাকা মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে এ খাত।
কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, উদ্যোক্তা অর্থায়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে শরিয়াহভিত্তিক অর্থায়নের পরিধি বাড়ানো গেলে উৎপাদনশীল বিনিয়োগও বাড়তে পারে।
তবে এজন্য শুধু নতুন শাখা বা উইন্ডো খোলা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সহজবোধ্য আর্থিক পণ্য, ডিজিটাল সেবা, কম লেনদেন ব্যয়, স্বচ্ছ চুক্তি এবং গ্রাহকের অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা।
সামনে ৫টি বড় প্রশ্ন
বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের পরবর্তী পর্যায়ের উন্নয়নে অন্তত পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর জরুরি। এক. ইসলামী ব্যাংকিংয়ের অর্থায়নের কত অংশ প্রকৃত অংশীদারিত্ব ও ঝুঁঁকি ভাগাভাগির ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে? দুই. মুরাবাহা, মুদারাবা ও মুশারাকার মতো চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ কতটা শরিয়াহসম্মত? তিন. ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি বিনিয়োগ, মূলধন ও তারল্য ঝুঁঁকি কিভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে? চার. শরিয়াহ বোর্ড ও শরিয়াহ অডিট কতটা স্বাধীন এবং কার্যকর? পাঁচ. ইসলামিক শাখা ও উইন্ডো পরিচালনাকারী প্রচলিত ব্যাংকগুলোতে পৃথক হিসাব, তহবিল ব্যবস্থাপনা ও শরিয়াহ তদারকি কতটা স্বচ্ছ?
এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া ইসলামী ব্যাংকিংয়ের শুধু প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান দিয়ে খাতটির প্রকৃত অবস্থা বোঝা কঠিন।
বিস্তার এখন গুণগত পরিবর্তনের অপেক্ষায়
চার দশকের পথ পেরিয়ে বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকিং একটি বড় আর্থিক খাতে পরিণত হয়েছে। ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক, প্রচলিত ব্যাংকের শত শত ইসলামিক শাখা-উইন্ডো এবং এনবিএফসির বিস্তার এ বাজারের ব্যাপ্তি স্পষ্ট করছে।
কিন্তু এখন ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ আর শুধু ‘কত বড়’ হওয়া নয়; বরং ‘কতটা শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য’ হওয়া।
কারণ ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বিশেষত্ব কেবল সুদ পরিহার নয়। এর সাথে যুক্ত রয়েছে নৈতিক বিনিয়োগ, ন্যায্যতা, ঝুঁঁকি ভাগাভাগি, বাস্তব অর্থনীতির সাথে অর্থের সংযোগ এবং আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পৃথক তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের উদ্যোগ এ খাতকে আরো পরিমাপযোগ্য করার সুযোগ তৈরি করেছে। এখন প্রয়োজন সেই তথ্যের গভীর বিশ্লেষণ, নিয়মিত শরিয়াহ অডিট, শক্তিশালী সুশাসন এবং গ্রাহকের কাছে আরো বেশি স্বচ্ছতা। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের আগামী দিনের সাফল্য তাই শাখা-উইন্ডোর সংখ্যা দিয়ে নয়; বরং আমানতকারীর আস্থা, সম্পদের নিরাপত্তা, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, সুশাসন এবং শরিয়াহ নীতির বাস্তব প্রয়োগ-এই সূচকগুলো দিয়েই পরিমাপ করতে হবে।