বিশেষ সংবাদদাতা

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশসহ ছয় দেশের কনস্টিটিউয়েন্সি প্রধান মি. সত্য শ্রীনিবাস লোল্লা আগামী ৪ থেকে ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সফর করবেন। এডিবির বাংলাদেশ রেসিডেন্ট মিশন (বিআরএম) গত ১৪ সেপ্টেম্বর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীকে পাঠানো এক চিঠিতে এ সফরের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বলে জানা গেছে। 
এডিবি ঢাকা অফিসের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, এই সফরটি ‘কান্ট্রি কনসালটেশন ভিজিট (সিসিভি)’ এর অংশ। সফরে সরকারের পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন কাঠামো, এডিবির আসন্ন কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি (সিপিএস), ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট উদ্যোগ এবং বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের যৌথ এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হবে।
চিঠি অনুযায়ী, মি. লোল্লা একা আসছেন না। তার প্রতিনিধি দলে আরো রয়েছেন- কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও সুইডেনের অল্টারনেট নির্বাহী পরিচালক মিস মাজা সভারড্রুপ, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, লুক্সেমবার্গ ও যুক্তরাজ্যের অল্টারনেট নির্বাহী পরিচালক মি. হেলমুট ফিশার এবং একই গ্রুপের ডিরেক্টরস অ্যাডভাইজর মিস সীনা গার্সিয়া।
সফরকালে প্রতিনিধি দলটি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং এডিবিতে বাংলাদেশের গভর্নর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব এবং ইআরডি সচিব ও এডিবিতে বাংলাদেশের অল্টারনেট গভর্নরের সাথে বৈঠক করতে চেয়েছেন। পাশাপাশি তারা এডিবির অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। এ লক্ষ্যে একটি সম্ভাব্য কর্মসূচিও চিঠির সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।
কে এই সত্য শ্রীনিবাস লোল্লা?
এডিবিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী এই পদে একজন ভারতীয় কর্মকর্তার থাকা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। মি. লোল্লা ভারতীয় রাজস্ব সার্ভিসের (১৯৯১ ব্যাচ) কর্মকর্তা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের মন্ত্রিসভার নিয়োগ কমিটি তাকে তিন বছরের জন্য এডিবিতে ভারতের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি বিকাশ শীলের স্থলাভিষিক্ত হন।
এডিবি বোর্ডে তিনি ভারত ছাড়াও বাংলাদেশ, ভুটান, লাওস, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের স্বার্থ প্রতিনিধিত্ব করেন। উল্লেখ্য, এডিবিতে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর চতুর্থ বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার ভারত।
ইআরডি সূত্র জানায়, সফরটি নিশ্চিত হলে আসন্ন সিপিএস চূড়ান্তকরণ এবং চলমান সংস্কার কর্মসূচিতে এডিবির সহায়তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হবে।
এ ছাড়া এডিবির অর্থায়নে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন ও প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এ দিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার। ১৯৭৩ সাল থেকে বাংলাদেশ এডিবির সদস্য হওয়ার পর থেকেই দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্যবিমোচন এবং অবকাঠামোগত বৃদ্ধিতে এডিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
 ১. অবকাঠামো উন্নয়ন ও যোগাযোগ সংযোগ পরিবহন ও যোগাযোগ : দেশের যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়নে এডিবি বড় ধরনের অর্থায়ন করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্প ( যেমন- স্যাসেক  রোড প্রজেক্ট এবং ঢাকা-সিলেট করিডোর রোড প্রকল্প), যা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গতি আনছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি : গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সম্প্রসারণে (যেমন- পাহাড়ি অঞ্চলে বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক প্রসার) এডিবি নিয়মিত ঋণ ও সহায়তা দিয়ে থাকে।
২. অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও নীতিভিত্তিক সংস্কার বাজেট ও নীতি সহায়তা : অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি, সরকারি বিনিয়োগের দক্ষতা বাড়ানো এবং আর্থিক খাতের সংস্কারের জন্য এডিবি বড় অঙ্কের পলিসি-ভিত্তিক ঋণ বা বাজেট সহায়তা দিয়ে থাকে। গভর্ন্যান্স ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার : অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করার জন্য বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রমেও এডিবির সহায়তা রয়েছে।
৩. সামাজিক সুরক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নসামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী : দেশের প্রান্তিক  জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি ও কার্যকারিতা বাড়াতে এডিবি অর্থায়ন করে। এ ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং অভিযোজনমূলক সামাজিক সুরক্ষাকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।   
৪. বেসরকারি খাত ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি  উদ্যোক্তা উন্নয়ন : ক্ষুদ্র, মাঝারি ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও লক্ষ্যভিত্তিক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করতে এডিবি সহায়তা করে, যার মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সেবা প্রাপ্তি বৃদ্ধি পায়। অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ : কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রব টেকসই করতে বেসরকারি খাতের উন্নয়নেও এডিবি কাজ করছে। সংক্ষেপে, ঋণ, অনুদান এবং কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের রূপকল্প ও টেকসই উন্নয়নে এডিবি একটি বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে কাজ করে চলেছে।