চট্টগ্রাম ব্যুরো

বাংলাদেশে মশাবাহিত রোগের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতি বছর ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের সংক্রমণের ধরন, বিস্তৃতি ও তীব্রতায় পরিবর্তন ঘটছে। জলবায়ু, নগরায়ণ, মানুষের চলাচল, মশার প্রজনন পরিবেশ এবং ভাইরাসের বিভিন্ন সেরোটাইপের পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো রোগের গতি-প্রকৃতিতে প্রভাব ফেলছে। ফলে মশাবাহিত রোগ, বিশেষ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণার পরিধি আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের (চমেক) কনফারেন্স রুমে চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগ ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব: মেডিসিন, চট্টগ্রাম কর্তৃক মঙ্গলবার আয়োজিত ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মেয়র বলেন, ডেঙ্গুকে শুধু একটি মৌসুমি রোগ হিসেবে দেখলে হবে না। প্রতি বছর এর ধরন ও বিস্তৃতিতে পরিবর্তন আসছে। কোন এলাকায় কখন সংক্রমণ বাড়ছে, কোন ধরনের মশা বেশি সক্রিয়, কোন সেরোটাইপ বেশি বিস্তার লাভ করছে, জলবায়ু ও বৃষ্টিপাতের সাথে সংক্রমণের কী সম্পর্ক এবং কোন ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বেশি কার্যকর- এসব বিষয়ে নিয়মিত গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতিতেও বছরের পর বছর উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে বিষয়টির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। চট্টগ্রাম জেলায় ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে ৪১ জন, ২০২৩ সালে ১০৭ জন, ২০২৪ সালে ৪৫ জন, ২০২৫ সালে ২৭ জন এবং ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি এলাকায় সাতজন মারা গেলেও জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত কেউ মারা জাননি। আগস্টে একজন মারা গেছেন এবং সেপ্টেম্বরে ছয়জন মারা গেছেন। বিভিন্ন বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে আগস্ট থেকে নভেম্বরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার বেশি। তবে পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে ৯ জন মারা গেছেন এবং অন্য জেলার একজন রোগী শহরে এসে মারা গেছেন। 
মেয়র বলেন, এ থেকে বুঝা যায় একটি বছরে মৃত্যু কমেছে বলেই আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগতে পারি না। আবার কোনো বছরে মৃত্যু বেড়ে গেলে শুধু তাৎক্ষণিকভাবে মশক নিধন কার্যক্রম বাড়ালেই হবে না। কেন সংক্রমণ বাড়ছে এবং কোন পদ্ধতিতে তা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ এন এম মনোয়ারুল কাদির (বিটু) বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে একযোগে কাজ করছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা হতে পারে বড় হাতিয়ার। আশা করছি ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা সফল হবো।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসক, গবেষক, নগর কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। 
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো: আনিসুল হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে অংশ নেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সাজিদুর রহমান, ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. তমিজউদ্দিন আহমেদ মানিক, মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো: আব্দুস সাত্তার, অধ্যাপক ডা. হাবিব হাসান, ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, ডা. ইফতেখার উদ্দিন লিটন, ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল করিম চৌধুরী, ডা. এস এম সারওয়ার আলমসহ চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।