নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ভূ-স্থির কপথে ডেডিকেটেড আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট ‘ইওএস-০৫’ উৎপেণ করায় দণি এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার উচ্চতা থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ভারতীয় উপমহাদেশ পর্যবেণকারী এই স্যাটেলাইট ভারতের গোয়েন্দা ও নজরদারি সমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
২০২৪ সালে ভারতের ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি স্পেস বেসড সার্ভেইলেন্স প্রকল্প অনুমোদন করে, যার ল্য নি¤œ ও ভূ-স্থির কপথে ৫২টি প্রতিরা স্যাটেলাইট স্থাপন করা। ইওএস-০৫ স্যাটেলাইটটি ভারতের চিরাচরিত পর্যায়ক্রমিক ছবি তোলার নীতি থেকে সরে এসে একটানা নজরদারির ওপর জোর দেয়ার কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
সাধারণ লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইটের বিপরীতে এটি নির্দিষ্ট এলাকার ছবি প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর এবং পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের ছবিপ্রতি ৩০ মিনিট পরপর তুলতে সম। দৃশ্যমান বর্ণালি, ইনফ্রারেড ও হাইপার-স্পেকট্রাল সেন্সরযুক্ত এই স্যাটেলাইট পাকিস্তানের নৌবাহিনীর চলাচল, যুদ্ধবিমানের গতিবিধি এবং মোবাইল মিসাইল লঞ্চারের ওপর রিয়েল-টাইম নজরদারি চালাতে পারে। এর ফলে ভারতের ‘সেন্সর-টু-শুটার’ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দ্রুত ল্য শনাক্তকরণ ও নিখুঁত আঘাত হানার মতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাকিস্তান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব
পাকিস্তানের জন্য এই পরিস্থিতি ‘ইউজ-ইট-অর-লুজ-ইট’ বা সামরিক সম্পদ ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সঙ্কটের মুহূর্তে অতি দ্রুততার সাথে অস্ত্র মোতায়েনের এই তাড়াহুড়ো ভুল বোঝাবুঝি ও আকস্মিক সঙ্ঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়। ভারত ও পাকিস্তানের ভূখণ্ডগত নৈকট্যের কারণে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এমনিতেই কম থাকে, যা এই উন্নত নজরদারির ফলে আরো সঙ্কুচিত হবে।
এ ছাড়াও, এই মহাকাশ প্রকল্প দণি এশিয়ায় নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে উসকে দিচ্ছে। ভারতকে মোকাবেলা করতে পাকিস্তান বা প্রতিপ দেশগুলোকে কাউন্টার-মেজার্স, স্যাটেলাইট বিধ্বংসী প্রযুক্তি কিংবা সাইবার-ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের পেছনে বিনিয়োগ করতে হবে, যা পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চাপ বাড়িয়ে দেবে। ‘ইন্ডিয়ান ডিফেন্স স্পেস সিম্পোজিয়াম ২০২৬’-এ ভারতের তৎকালীন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান যথার্থই বলেছেন, মহাকাশে আধিপত্য না থাকলে যুদ্ধেেত্র অন্ধের মতো লড়তে হয়।
বাংলাদেশের কৌশলগত দৃষ্টিকোণ
ভূগোল ও কৌশলের কারণে ভারতের এই বিশাল নেটওয়ার্কের পরো প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়তে পারে। বঙ্গোপসাগর ভারতের এই নতুন নজরদারি ব্যবস্থার আওতাধীন হওয়ায়, সেখানে যেকোনো বহিঃশক্তির (যেমন- চীন) সামরিক গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেণ করা হবে। এই পানিসীমায় ভারতের সার্বণিক নজরদারির ফলে বড় শক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে, যা বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
এ ছাড়া, স্যাটেলাইটগুলোর শক্তিশালী হাইপার-স্পেকট্রাল ও থার্মাল ইমেজিং মতার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার অবকাঠামোগত পরিবর্তন বা গোপনীয়তা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম কমিউনিকেশন সমৃদ্ধ এই প্রযুক্তিগত বলয় বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদে বাড়তি কূটনৈতিক ও কৌশলগত সজাগতা বজায় রাখতে বাধ্য করবে।
যদিও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, খরা পরিস্থিতি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো েেত্র এই স্যাটেলাইটগুলোর ব্যাপক বেসামরিক উপকারিতা রয়েছে, তবুও সামরিক েেত্র এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। ভারতের এই মহাকাশ নজরদারি দণি এশিয়ায় নতুন এক কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যা মোকাবেলায় দেশগুলোকে আরো সতর্ক ও দ কূটনৈতিক নীতি গ্রহণ করতে হবে।











