নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে নতুন করে চারটি ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। একই সাথে আগে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককেও লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে পাঁচটি ডিজিটাল ব্যাংক কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়ায় এগিয়ে গেল।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
নতুন করে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান হলোÑ বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান। এর মধ্যে বুস্টের উদ্যোক্তা মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটার মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা লিমিটেড। নোভা ডিজিটাল ব্যাংক ভিওনÑ বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ও স্কয়ার গ্রুপের যৌথ উদ্যোগ। আর ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটানের উদ্যোক্তা ভুটানের ডিকে ব্যাংক। বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা বিকাশের শেয়ারধারীরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এলওআই দেয়া হবে। পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা ও শর্ত পূরণ সাপেে এসব প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।
১২টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন
বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষে দেশী-বিদেশী ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। আবেদনকারীদের মধ্যে ছিল মোবাইল অপারেটর, মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও শিল্পগোষ্ঠী, ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা এবং বিভিন্ন উদ্যোক্তা-জোট।
আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে, আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২ এমএফআই, ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক, বুস্ট-রবি, আমার ব্যাংক, অ্যাপ ব্যাংক-ফার্মার্স, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক-বাংলালিংক ও স্কয়ার, মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক, উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক, মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক-আকিজ এবং বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক।
এর আগে ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালায় ডিজিটাল ব্যাংকের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা আগের নীতিমালায় ছিল ১২৫ কোটি টাকা।
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে নতুন অধ্যায়
ডিজিটাল ব্যাংক চালুর উদ্যোগের ল্য হলো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনা। একই সাথে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কম খরচের ব্যাংকিং সেবা বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া মানেই তাৎণিকভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করা নয়। এলওআই পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত পূরণ, মূলধন সংস্থান, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।
বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংকের যাত্রা শুরু নিয়ে কয়েক বছর ধরে আলোচনা চললেও বিভিন্ন কারণে কার্যক্রম শুরুতে বিলম্ব হয়েছে। ২০২৩ সালে দু’টি ডিজিটাল ব্যাংককে অনুমোদন দেয়া হলেও পরবর্তী সময়ে সেগুলোর লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। নতুন করে আবেদন গ্রহণের পর এবার পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে পরবর্তী ধাপে নেয়ার সিদ্ধান্ত হলো। ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রচলিত শাখাভিত্তিক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নতুন একটি ব্যাংকিংকাঠামো গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া আরো এক ধাপ এগোল।





