নিজস্ব প্রতিবদেক
রাজধানী যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ককটেল তৈরির উপাদান, বিস্ফোরক সরঞ্জাম এবং ৯ হাজার কাগজের তৈরি মুখোশসহ জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামের এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অন্য দিকে ককটেল বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দেয়া একটি বক্তব্যের জেরে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে ডিএমপি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-সাউথ) মো: তোফায়েল আহমেদ মিয়া।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাহিদ হাসান ইমনের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়। পরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন বাগাশুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহিদ হাসান ইমনকে গ্রেফতার করে শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ইমন লালবাগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে ইমনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত এক কেজি ৫০০ গ্রাম কস্টিক সোডা, এক কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার, পাঁচ কেজি মারবেল, দুই কেজি তারকাঁটা, ককটেল মোড়ানোর ৩১টি লাল ও কালো কস্টেপ, একটি ব্লেন্ডার ও জার উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তিনটি কার্টুনে সংরক্ষিত মানুষের মুখের আকৃতির ৯ হাজার কাগজের মুখোশ এবং ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক জব্দ করা হয়।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া জানান, নিষিদ্ধ দলের এক নেতার নির্দেশে এসব মুখোশ লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে ইমনের কাছে পাঠানো হয়েছিল। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা মিছিলের সময় পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতরণের জন্য এসব মুখোশ সংরক্ষণ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। এ ছাড়া অপর এক ব্যক্তি ওই বাসায় এসে ককটেল তৈরি করত বলেও গ্রেফতারকৃত ইমন স্বীকার করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করলে ডিএমপি কর্মকর্তা বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে তার দেয়া বক্তব্যের নেপথ্য কারণ জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির এই কর্মকর্তা জানান, বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না এবং ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার জল্পনা এবং এর প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের কোনো নাশকতার ঝুঁকি রয়েছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি যেসব ছোট ছোট মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে, তার সাথে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মী বা সমর্থকরা জড়িত। তবে ভবিষ্যতে এর ঝুঁকি বা বিস্তার কতটুকু হতে পারে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদস্যরা সতর্কাবস্থায় প্রতিদিন কাজ করছেন বলেও তিনি জানান।





