নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় প্রায় ২২ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়েও একই পরিবারের নিখোঁজ চারজনের সন্ধান মেলেনি। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে আবারো পুরোদমে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। পানির নিচে ক্যামেরা ব্যবহার করেও তাদের খোঁজা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামই এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানাসংলগ্ন মেঘনা নদীতে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় রাইশা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন একই পরিবারের হেলাল উদ্দিন (৫৫), তার ছেলে সজীব (২৪) ও সামিন (৫) এবং মেয়ে সামিয়া (১৭)।
সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ জাহেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা রাত ৩টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়েছি। ডুবুরি ইউনিট দিয়ে সকাল ৭টা থেকে আবার পুরোদমে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। পানির নিচে অনুসন্ধানের জন্য ক্যামেরা দিয়েও খোঁজা হচ্ছে। অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের সাথে কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও স্থানীয় লোকজন সহযোগিতা করছেন বলে জানান তিনি। বৈদ্যেরবাজার নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল বলেন, ‘নৌকাটিতে ১৪ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের সাথে দু’টি গরু ও একটি খাসি ছিল। ঝড়ের কবলে পড়লে নৌযানটি ডুবে যায়।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হারিয়া এলাকার সাজিয়া আক্তার ও শিশিরের বিয়েতে অংশ নিতে স্বজনরা কুমিল্লার হোমনা থেকে ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের হারিয়া এলাকায় আসছিলেন। মেঘনা নদী পার হওয়ার সময় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে গেলে যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ও কোস্টগার্ডের দু’টি দল ঘটনাস্থলে রয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।





