কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

লংমার্চ কোনো একক রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয় উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, লংমার্চের মাধ্যমে তারা ১৮ কোটি মানুষের কাক্সিক্ষত বিজয় দেখতে চান। লংমার্চে ঘোষিত ৮ দফা কোনো দলীয় দাবি নয়, বরং এটি দেশের সমগ্র জনগণের মুক্তির সনদ। গতকাল কুলাউড়া সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিলেট অঞ্চলকে নিয়ে নিজের আবেগের কথা ব্যক্ত করে সাদিক কায়েম বলেন, ‘সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের মানুষ বিশ্বজুড়ে মানবকল্যাণে কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ মাটিরই কৃতী সন্তান, জাতীয় সংসদের বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের রোষানলে পড়েও দেশ ছাড়েননি; সবসময় জনতার কাতারে থেকে লড়াই করেছেন।’
অতীত নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিগত ৫৫ বছরে যারা সংসদ সদস্য, মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তাদের চরম অসততা, ভিশনহীনতা ও পরিকল্পনার অভাবে দেশ দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। এর বিপরীতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শহীদ মীর কাশেম আলী জীবনভর সততা ও মানবকল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা ট্রাস্ট এবং একাধিক হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করেছেন। অথচ তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার কাঙ্গারু কোর্ট ব্যবহার করে বিচার বিভাগীয় হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মীর কাশেম আলী ও আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ শীর্ষ নেতাদের নির্মমভাবে শহীদ করেছে।’
বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম ক্ষমতায় এসে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করবে, শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার নিশ্চিত করবে এবং দেশের জ্বালানি সঙ্কট নিরসন করবে। কিন্তু জুলাই সনদ থেকে দূরে সরে গিয়ে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং চরম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিই এখন নিত্যদিনের চিত্র।’
তিনি আরো বলেন, জনগণের এই মৌলিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সঙ্কট নিরসনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান যে আহ্বান জানিয়েছেন, সরকার তা বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে সঙ্কট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে সাদিক কায়েম ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গত ১০৫ বছরের ইতিহাসের যতগুলো পুঞ্জীভূত সঙ্কট ছিল, নির্বাচিত ডাকসু বিগত এক বছরে তা কার্যকরভাবে দূর করতে সক্ষম হয়েছে।
কুলাউড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন খান, কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মুন্তাজিম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি প্রভাষক বেলাল আহমদ চৌধুরী, পৌর আমির মো: জাকির হোসেনসহ স্থানীয় অন্যান্য নেতা।