নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও এলাকায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের পর আটক ২৭৮ জনের মধ্যে অন্তত ২৫০ জনকে পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তবে ২৭ জনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। গতকাল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতে দেয়া পুলিশের ফরওয়ার্ডিং প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় শনিবার বিকেলে তাদের আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এবং তারা আমলযোগ্য অপরাধের সাথে জড়িত থাকতে পারেন। 
এর আগে শনিবার জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিনিধি সভা চলাকালে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা সাংবাদিক নেতা আবু জাফর সূর্যসহ প্রায় ২৭৮ জনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পরবর্তীতে জাসদ নেতাদের সরবরাহ করা তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই-বাছাই করে নিরপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় রোববার ভোরের দিকে অন্তত ২৫০ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। 
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো: আকতার হোসেন ও মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, পরিচয় ও কাগজপত্র যাচাই শেষে নির্দোষ ব্যক্তিদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে এবং যাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সন্দেহ বা অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
জাসদ নেতৃবৃন্দের দাবি, তারা প্রশাসনিক অনুমতি ও নিয়ম মেনেই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভার আয়োজন করেছিলেন। সভার নিরাপত্তা ও মাইক ব্যবহারের জন্য গত ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনার এবং মতিঝিল বিভাগের ডিসির কাছে লিখিত আবেদন জমা দেয়া হয়েছিল, যাতে পুলিশের গ্রহণের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে। যদিও পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম এই ধরনের আবেদনের বিষয়ে তার জানা নেই বলে জানান।
অন্যদিকে সভা চলাকালে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে কিছু লোক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন। এর পরপরই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সেখানে অভিযান চালায়।