নিজস্ব প্রতিবেদক
সাভারের আশুলিয়ায় দারুল ইহসান ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাজিল (স্নাতক) মাদরাসা ও এর সংলগ্ন মার্কেটের দোকানপাট দখল করার জন্য ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ করেছেন কর্তৃপক্ষ। গত ২৭ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন ট্রাস্টের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন সাঈদ, সচিব ফজলুল করিম, ম্যানেজিং ট্রাস্টি মারুফ হোসেন মুকুল। ট্রাস্ট জানায়, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলী আশরাফ ১৯৮৬ সালে সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একটি দলিলের মাধ্যমে দারুল ইহসান ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। ওই দলিলের ভিত্তিতে তিনি সাভার এলাকায় ৮ দশমিক ৬৩ একর জমি ট্রাস্টের নামে দান করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩ সালে তার উদ্যোগে দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাস্টের দাবি, এই প্রতিষ্ঠানের অধীনেই আশুলিয়ার তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসা পরিচালিত হয়ে আসছে। মাদরাসাটি ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত এবং বিভিন্ন সময়ে ট্রাস্টের প্রতিনিধিরা পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়। ট্রাস্টের অভিযোগ, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদরাসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে সেখানে অবস্থান করছেন। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, বিভিন্ন অপকর্ম এবং মাদরাসার স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দেয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, মাদরাসার পাশের মার্কেট ও কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও কথিত বহিরাগতরা জোর করে ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করছেন। একই সাথে ট্রাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাদরাসায় প্রবেশ এবং দোকানপাটের বৈধ ভাড়া আদায়ে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তাদের নিয়োগ করা অ্যাসেট ম্যানেজার ও রেন্ট কালেকশন এজেন্ট জাকির হোসেনকে মাদরাসায় প্রবেশে বাধা দেয়া হয় এবং তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে কয়েকজন ব্যক্তি মাদরাসা-সংলগ্ন ট্রাস্টের নির্মিত দোকানপাট থেকে জোরপূর্বক ভাড়া আদায় ও চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ী ইমাম হাসানসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দোকানপাট ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর একদিন পর, ২৭ সেপ্টেম্বর মাদরাসার অফিস কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগও আনা হয়। ট্রাস্টের দাবি, এ ঘটনায় তাদের কর্মকর্তা ও নির্বাহীদের দায়ী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মাদরাসা ও সংলগ্ন দোকানপাটের মালিকানা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবির কথা উঠে এসেছে। ট্রাস্টের দাবি, মাদরাসা ও দোকানপাট তাদের প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত সম্পত্তির অংশ। অন্যদিকে কয়েকজন ব্যক্তি এগুলো অন্য একটি ট্রাস্টের সম্পত্তি বলে প্রচার করছেন। ট্রাস্ট এ দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে দারুল ইহসান ট্রাস্ট। লিখিত বক্তব্যে মাদরাসায় কথিতভাবে অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে তাদের গ্রেফতার এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আশুলিয়া থানার পুলিশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। মাদরাসা ও সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং সম্পত্তির মালিকানা ও পরিচালনার বৈধ কাগজপত্র যাচাই প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।





