হাবিবুর রহমান চৌধুরী, কুমিল্লা 

কুমিল্লায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসা ও কার্ডিয়াক সার্জারির সুযোগ নেই। ফলে জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল হয়ে উঠেছে কুমিল্লার অনেক রোগীর প্রধান ভরসা।
অসংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে হৃদরোগ অন্যতম। বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব হার্ট দিবস-২০২৬। এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডোন্ট মিস এ বিট’- বাংলায় ‘একটি স্পন্দনও হারাবেন না’।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন হৃদরোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালের পিসিসিইউ ও সিসিইউতে ১৫টি এবং সাধারণ ওয়ার্ডে ২৪টি- সব মিলিয়ে হৃদরোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা রয়েছে ৩৯টি। তবে নিয়মিত ৭০ থেকে ৭৫ জন রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন। অতিরিক্ত রোগীদের একটি অংশকে হাসপাতালের মেঝেতে মাদুর বিছিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ জন রোগীকে এভাবে ফ্লোরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা হৃদরোগীদের বেশির ভাগের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। বেড সঙ্কটের পাশাপাশি উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসার বিভিন্ন সুযোগ না থাকায় সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।
কুমেক হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. আশরাফ আলী বলেন, “কুমেক হাসপাতালে আসা হৃদরোগীদের প্রাথমিকভাবে ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হয়। যেসব রোগীর এনজিওগ্রাম, রিং পরানো, শিশুদের হার্টের ছিদ্র বন্ধ করা, পেসমেকার স্থাপন কিংবা বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন হয়, তাদের জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে রেফার করা হয়।”
এ দিকে কুমিল্লায় বেসরকারি পর্যায়ে মর্ডান হাসপাতালে হৃদরোগের ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা চালু হয়েছে। মডার্ন কার্ডিয়াক সেন্টারের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এস. চক্রবর্ত্তী জানান, ২০২৪ সালে কুমিল্লার মডার্ন হাসপাতালে আধুনিক ক্যাথল্যাব চালু করা হয়। শুরু থেকেই সেখানে ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্টরা এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি এবং অস্থায়ী ও স্থায়ী পেসমেকার স্থাপনের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। তিনি জানান, গত এক বছরে ওই হাসপাতালে মোট এক হাজার ৫৫০টি কার্ডিয়াক প্রসিডিউর সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ১২ জনের এনজিওগ্রাম, ২৭৩ জনের এনজিওপ্লাস্টি, ৪৮২ জনের হার্টে রিং স্থাপন এবং ৫৭ জনের পেসমেকার স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া তিন শিশুর ডিভাইসের মাধ্যমে হার্টের ছিদ্র বন্ধ করা হয়েছে।
মডার্ন  হাসপাতালের  ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘দ্রুত হৃদরোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ক্যাথল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। গত এক বছরে আমাদের সিসিইউতে ভর্তি হয়ে এক হাজার ৪৯৪ জন কার্ডিয়াক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।’ তিনি আরো জানান, বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে মডার্ন কার্ডিয়াক সেন্টারের উদ্যোগে র‌্যালি, ফ্রি হার্ট ক্যাম্প ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।
কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মো: জহিরুল ইসলাম বলেন, “কুমিল্লায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় হৃদরোগীদের জন্য কোনো কার্ডিয়াক সার্জারির ব্যবস্থা নেই। কুমিল্লা মডার্ন হাসপাতালে ক্যাথল্যাব রয়েছে, সেখানে হৃদরোগীরা চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। তবে কুমিল্লায় হৃদরোগীদের জন্য সরকারি উদ্যোগে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা খুবই প্রয়োজন।’