কূটনৈতিক প্রতিবেদক
সার্বিক বিবেচনায় জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে বলে মন্তব্য করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, এই সফর নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সভা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সব অতিথিই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছে। দীর্ঘদিন পর জনগণের নিরঙ্কুুশ ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, সম্মান ও আত্মমর্যাদা নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছেন।
ইউএনজিএর অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ওপর আলোকপাত করে গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবির এ সব কথা বলেন। এই অধিবেশনে অংশ নিতে ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরহাদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী সব মিলিয়ে মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রাখা ভাষণ, সাতটি উচ্চ-পর্যায়ের সভায় রাখা বক্তব্য, ১১টি দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসঙ্ঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক। অধিবেশন চলাকালে তিনি তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি, ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রী এবং কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। এ ছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। পাশাপাশি জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব, বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসঙ্ঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার, মিয়ানমারসংক্রান্ত জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা, গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী, বোয়িং গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, বাংলাদেশের বিরোধী দলের একজন সিনিয়র নেতা অভিযোগ করেছেন, ইউএনজিএতে শুধু দলের কথা বলা হয়েছে এবং দলকেই মহিমান্বিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের বা জাতির পক্ষ থেকে সেখানে মৌলিক কোনো কথাবার্তা ছিল না। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া কী? উত্তরে হুমায়ুন কবির বলেন, আমি আসলেই অবাক! বিরোধী দলের যে নেতার কথা আপনি বলছেন, তিনি কোন বুদ্ধিতে এসব বললেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তন প্রাধান্য পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন কি বিএনপি বা জামায়াতের বিষয়? এটি তো দেশের কথা এবং সারা বিশ্বের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার বক্তব্যে কোথায় দলীয় কথা বলা হয়েছে, তা আমি বুঝলাম না। এসব না বুঝে, না পড়ে, না শুনে শুধু শুধু মন্তব্য করা ঠিক না। একটু দায়িত্ববোধ নিয়ে কথা বলা উচিত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউএনজিএতে প্রধানমন্ত্রী কিছু অভ্যন্তরীণ নীতির কথা বলেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে কথা বলেছেন। ফিলিস্তিনের কথা বলেছেন। রোহিঙ্গাদের কথা বলেছেন। এগুলো কি বিএনপির দলীয় কথা? প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকে উদ্দেশ্য করে ভাষণ দিয়েছেন। এটি ছিল সামগ্রিক একটা ভাষণ, যেখানে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্বার্থের সব দিক তুলে ধরা হয়েছে। সুতরাং, ওনাদের কথাগুলো অপরিপক্ব। আরেকটু জেনে-শুনে কথা বললে ভালো হয়।
নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্ষিপ্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানরা সাধারণত দুই দিনের জন্য আসেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী চার দিন নিউ ইয়র্ক ছিলেন। এ সময় তিনি প্রায় ৩০টি মিটিং করেছেন, যা নজিরবিহীন। জাতিসঙ্ঘের কর্মসূচির বাইরে প্রধানমন্ত্রীর কোনো আগ্রহ ছিল না, তাই তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। এই কর্মসূচিটি অত্যন্ত সাবলীল ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জাতিসঙ্ঘে তার ভালো ও দৃশ্যমান একটি অংশগ্রহণ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বোয়িং কেনার চুক্তি নিয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, বোয়িং কেনার চুক্তি একটি উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই হয়েছে। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বোয়িং কিনছি। ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশ বোয়িংয়ের ভারী বিমান ব্যবহার করে আসছে। তবে বিমানের রুট বাড়াতে হলে মিশ্র বহর লাগবে। যাত্রীসেবার মান বাড়ানো এবং একটি ক্রমবর্ধমান এভিয়েশন হাব হওয়ার জন্য আমাদের বহর সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।





