নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৭ সালের পবিত্র হজে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটার বাইরে আরো অন্তত ২০ হাজার অতিরিক্ত কোটা বরাদ্দের জোর দাবি জানিয়েছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। একই সাথে ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রম শেষে বাংলাদেশী এজেন্সিগুলোর আইবিএএন অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল ‘মেডিক্যাল বিল’-এর অজুহাতে আটকে রাখার প্রতিবাদ জানিয়ে তা দ্রুত ফেরত আনার ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল রাজধানীতে ২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করা হয় এবং হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরোয়ার ও মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে জানানো হয়, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৫ মে ২০২৭ খ্রিস্টাব্দে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন হজের জন্য রাজকীয় সৌদি সরকার বাংলাদেশের জন্য সর্বমোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করেছে। অথচ বাংলাদেশের নিয়মিত নির্ধারিত মূল কোটা এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। বিগত কয়েক বছর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে হজযাত্রীর সংখ্যা কিছুটা কমে যাওয়ায় সৌদি কর্তৃপক্ষ ২০২৭ সালের জন্য প্রাথমিক কোটা কমিয়ে ধরেছে।
হাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সৌদি সরকারের দেয়া ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা পূর্ণ হয়ে গেছে। বর্তমানে ২০ হাজারের বেশি ইচ্ছুক হজযাত্রী হজে যাওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন। তারা ইতঃমধ্যে মানসিক ও আর্থিকভাবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এমনকি অনেক পরিবারের কয়েকজন সদস্য প্রাথমিক নিবন্ধন করতে পারলেও কোটা শেষ হয়ে যাওয়ায় বাকি সদস্যরা অপেক্ষমাণ রয়ে গেছেন, যা পরিবারগুলোর জন্য চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।
এই সঙ্কটের প্রেক্ষিতে হাব জানায়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে জরুরি কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটা দ্রুত বরাদ্দ নেয়া সম্ভব এবং এ বিষয়ে আশু পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে সৌদিতে টাকা আটকে রাখার বিষয়ে হাব গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করে। সংগঠনের নেতারা জানান, ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রম সমাপ্ত হওয়ার পর এজেন্সিগুলোর আইবিএএন অ্যাকাউন্টে জমা থাকা প্রায় ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় তা আটকে রেখেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অর্থ হজযাত্রীদের মেডিক্যাল বিল বাবদ খরচ হয়েছে।
হাব এই দাবির প্রতিবাদ জানিয়ে স্পষ্ট করে যে, হজযাত্রীরা নিবন্ধনের সময়ই নির্ধারিত স্বাস্থ্যবীমার অর্থ সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন এবং সেই বীমার আওতায় তাদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কথা। এর আগে কখনো এ ধরনের অতিরিক্ত চিকিৎসা বিল দাবি করা হয়নি।
হাব নেতারা ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে অবিলম্বে সৌদি সরকারের সাথে আলোচনা করে আটকে রাখা ৩০ লাখ রিয়াল ফেরত আনার উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ দেন। কোনো কারণে সরকারি উদ্যোগে বিষয়টি সুরাহা না হলে, হজযাত্রী ও এজেন্সিগুলোর স্বার্থ রক্ষায় মন্ত্রণালয়ের আপৎকালীন তহবিল থেকে ওই অর্থ সাময়িকভাবে পরিশোধের দাবি জানান তারা।