নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিলের উদ্যোগে হৃদরোগ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘একটিও হৃদস্পন্দন যেন উপেক্ষিত না হয়।’ প্রতি বছর ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ^ব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়। 
আলোচনা সভায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, জনসংখ্যার ৫২ শতাংশ মানুষের রয়েছে হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপের সমস্যা। তাদের অনেকে জানেও না যে তাদের হাইপারটেনশন রয়েছে। কারণ, জনসংখ্যার বিশাল অংশ এখনো হৃদরোগ চিকিৎসার আওতায় আসেননি।  হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান পরিহার, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে হবে। একই সাথে হৃদরোগের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ারও আহ্বান জানান তারা। তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর দুই লাখ ৭৭ হাজার থেকে দুই লাখ ৮৩ হাজার মানুষ কার্ডিওভাস্কোলার রোগে মৃত্যুবরণ করেন। ৩০ থেকে ৭৯ বছর বযসী জনসংখ্যার প্রায় তিন কোটি মানুষের হাইপারটেনশন রয়েছে। 
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, হৃদরোগের সমস্যাটা এখন আর বয়স্ক মানুষের রোগ নয়, যুবকরাও এ সমস্যাও ভোগছে। অস্বাস্থ্যকর জীবন-যাপনের কারণে, ফাস্টফুড ও প্যাকেটজাত খাদ্যে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার কারণে প্রতি পাঁচজনে একজন যুবক হাইপারটেনশনে ভোগছে অথবা হাইপারটেনশন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। শারীরিক পরিশ্রমবিমুখ হয়ে যাওয়া, ধূমপানে অভ্যস্ত হওয়া, স্থুলতা এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এর জন্য দায়ী। বিশেষজ্ঞরা বলেন, হার্টের সার্জারির পুরোটাই ঢাকাভিত্তিক। ঢাকার বাইরে অল্প কয়েকটি শহর ছাড়া অন্য কোথাও হার্ট সার্জারির সুবিধা নেই বললেই চলে। 
আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের হাসপাতাল ইনচার্জ মো: শাহজাহান, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিলের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডা. হারুন অর রশীদ, ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডা. রাইয়ান হাসার, প্রশাসনিক ইনচার্জ আলামীন। 
বর্ণাঢ্য র‌্যালিটি ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিলের ভবন-১ থেকে শুরু হয়ে কমলাপুরে উদ্বোধন হতে যাওয়া নতুন ভবনে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উৎকর্ষের পথে নব অভিযাত্রা স্লোগানকে সামনে রেখে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিল নিত্য নতুন সেবা চালু করে সবার সেবা নিশ্চিত করার জন কাজ করে যাচ্ছে।