চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা 

কক্সবাজারের চকরিয়ায় কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসাকেন (২৮) অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। চকরিয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিমের মেয়ে বেগম নাজেমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে এ মামলাটি রুজু করা হয়েছে। 
গতকাল চকরিয়া থানায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- মো: জকরিয়া (৫৬), মিজান (৪০), নাজেম উদ্দিন (৩৭), মিনহাজ (৩৪), রিজিয়া (২৮) ও বেগম নাজেম (৩৬)। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এজাহারভুক্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। 
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে কাকারা ইউনিয়নের লোটনী এলাকার বাসিন্দা জিসান নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে দুর্বৃত্তরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। 
অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর অর্থাৎ ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী ইউনিয়নের মেদাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন পাহাড়ি জঙ্গল থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। 
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, জিসানকে অপহরণের পর চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার ‘কবির টাওয়ার’-এর একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। পরে লাশটি মাইক্রোবাসে মেদাকচ্ছপিয়ার পাহাড়ি জঙ্গলে ফেলে দিয়ে ঘাতকরা পালিয়ে যায়। 
হত্যার পর পরিবারের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কবির টাওয়ারের ওই ভবনে অভিযান চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন নারীকে আটক করেছিল। তবে গতকাল দায়ের হওয়া মামলায় দেখা যায়, আটক তিন নারীর কেউই এজাহারভুক্ত আসামি নন। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং এজাহারভুক্ত সাত আসামির সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত ফোন কল রেকর্ডের অডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে জিসানের বড় ভাইয়ের সাথে এক ব্যক্তির কথোপকথনে জিসানকে হুমকি দেয়ার মতো কথা শোনা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, অডিওতে থাকা কণ্ঠ কার এবং এই অডিওর সাথে হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ কোনো সম্পর্ক আছে কি না; তা প্রযুক্তির সহায়তায় যাচাই করা হচ্ছে। 
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফাতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। দ্রুতই ঘটনার পেছনে থাকা মূল রহস্য, আসামিদের পরিচয় ও বিরোধের কারণ উন্মোচিত হবে।’ 
এ দিকে এই হত্যাকাণ্ডে চকরিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জিসান হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।