রাবি প্রতিনিধি
‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৪২ শিক্ষকের নাম আসার পর তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ৫ আগস্ট গঠিত ওই কমিটির প্রায় দুই মাস পার হলেও এখনো প্রতিবেদন জমা হয়নি। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।
এদিকে গত ২১ সেপ্টেম্বর ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং, ইনকোয়ারি ও তদন্ত কমিটির বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসীন আলীর বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। কমিটিগুলো কেন বিলুপ্ত বা প্রত্যাহার করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
রাবি সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম-২-কে। কমিটির সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক মো: গোলাম ছাদিক, অধ্যাপক মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম, অধ্যাপক মো: আনিছুর রহমান ও সদস্যসচিব অধ্যাপক মো: গিয়াস উদ্দিন আহমদ।
এদিকে প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতারা। রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, দুই মাস ধরে তদন্ত ঝুলে থাকা কাম্য নয়। আমরা দ্রুত তদন্ত শেষ করার দাবি জানাই।
রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টির দ্রুত তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
রাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি অভিযোগের তদন্ত দুই মাস ধরে ঝুলে থাকা কাম্য নয়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত শেষ করা।
এ বিষয়ে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম-২ বলেন, অসুস্থতার কারণে কিছুটা দেরি হয়েছে। আমাদের কাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেব। কিছু প্রমাণ পেয়েছি, সেগুলো প্রতিবেদন আকারে প্রশাসনের কাছে দেয়া হবে।
প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বলেন, কমিটির আহ্বায়কের সাথে আমার কথা হয়েছে। তিনি অসুস্থ ছিলেন। কিছু তথ্য পাওয়া গেছে এবং কমিটি কাজ করছে। বিষয়টি গোপনীয় হওয়ায় তথ্য সংগ্রহে কিছুটা সময় লাগছে।
আর প্রতিবেদন প্রকাশ না করার বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাজ প্রস্তুত আছে। তবে হাইকোর্টের রুলের কারণে আমরা তা প্রকাশ করতে পারছি না। হাইকোর্ট নির্দেশ দিলে আমরা তা প্রকাশ করতে পারব।





