নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত কার্যালয়ের বিপরীত পাশে মধ্যরাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালানোর সময় রেজাউল ইসলাম (২৩) নামের এক যুবককে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে এই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে রেজাউল। গতকাল বুধবার রাতে ধানমন্ডি ১১/এ নম্বর সড়কের একটি বাসার সামনে পাকা রাস্তার ওপর এ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধানমন্ডির সড়কে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কার্যালয়ের বিপরীতে ককটেল বিস্ফোরণের পরপরই অপরাধী গলির ভেতর দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় টহলরত ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ পিছু ধাওয়া করে রেজাউল ইসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত রেজাউল জানান, প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে নিউমার্কেট এলাকার একটি চায়ের দোকানে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তার সাথে দেখা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর প্রস্তাব দেয়। চুক্তি অনুযায়ী কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে তাকে ৫০ হাজার টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থল নিবিড়ভাবে রেকি (পর্যবেক্ষণ) করে যান তিনি। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে দু’টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত সটে পড়ার চেষ্টা করলেও পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ আলামত হিসেবে উদ্ধার করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো: আকতার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে ধানমন্ডি মডেল থানায় মামলা ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ঘটনার পেছনে মূল উসকানিদাতা ও অজ্ঞাত পরিকল্পনাকারীকে শনাক্ত করতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের
৪০ সদস্যসহ গ্রেফতার ৪০১
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৪০ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সময়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ৪০১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য দিকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে লিবিয়ায় জিম্মি ও নির্যাতনের অভিযোগে মানব পাচার চক্রের অন্যতম মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বুধবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো: আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সদস্যসহ গ্রেফতারের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা ও অপরাধ দমনে পরিচালিত নিয়মিত অভিযানে ৪০১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে ২৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তেজগাঁও বিভাগে সর্বাধিক ৭৪ জন এবং মিরপুর বিভাগে ৭১ জন গ্রেফতার হয়েছে। এ ছাড়া মতিঝিল বিভাগে ৬৮ জন, ওয়ারী বিভাগে ৫১ জন, উত্তরা বিভাগে ৪২ জন, গুলশান বিভাগে ৩৬ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৪ জন, রমনা বিভাগে ২৪ জন এবং গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
একই দিন ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন ও অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মো: আবুল হোসেন (৬৯) নামে এক মানব পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো: ছুফি উল্লাহ জানান, মঙ্গলবার গাজীপুরের কাপাসিয়ার কাড়িহাতা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি কাড়িহাতা গ্রামের বান্দুমিয়ার ছেলে। সিআইডি জানায়, চক্রটি ভুক্তভোগী নারীকে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে মোট ২৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেয়। তবে ২০২৪ সালের ১২ জুন তাকে ইতালির পরিবর্তে লিবিয়ায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর চক্রের বিদেশী সহযোগীরা তাকে একটি স্থানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায় এবং স্বজনদের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না দেয়ায় তার ওপর নির্যাতন অব্যাহত রাখা হলে একপর্যায়ে ভুক্তভোগী সেখান থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন। পরে লিবিয়া পুলিশ তাকে আটক করে এবং ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিরপুর মডেল থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। সিআইডি তদন্তে নেমে আবুল হোসেনের সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য পেয়ে তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ আরো জানায়, আসামির বিরুদ্ধে একই ধারায় মিরপুর থানায় আরো একটি মানব পাচার মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।





