জাপানের মাঠে গতকাল হারের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে মোস্তাফিজকে নিয়ে। নাগোয়ার বৃষ্টিতে চার দিন ঢাকা থাকা উইকেটে ফাটল ছিল। দুই দলই খেলেছে বেশি স্পিনার নিয়ে। পাকিস্তান ১৩ ওভারে পেসার ব্যবহার করেছে মাত্র তিন ওভার। বাংলাদেশ সেখানে সাইফ হাসান কিংবা মোসাদ্দেক সৈকতের মতো স্পিনারদের কাজে লাগায়নি। বরং প্রথম ওভারে ১৮ রান দেয়া  মোস্তাফিজকেই আবার আনা হয়েছিল। কেন? Ñপ্রশ্নটি লিটন দাসের সামনে রাখতেই উত্তরটা এলো কিছুটা পাল্টা প্রশ্নের সুরে, ‘আজ (গতকাল) মোস্তাফিজ তিন উইকেট পেলে আপনি এই প্রশ্ন করতেন না। আমার কাছে বেস্ট অপশন মোস্তাফিজ মনে হয়েছে, আমি করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনো মনে হয় অন্য অপশন বেস্ট, আপনি করাবেন।’
কিন্তু সংখ্যাগুলো লিটনের সিদ্ধান্তকে সহজ করে দেখার সুযোগ দিচ্ছে না। মোস্তাফিজ দুই ওভারে দিয়েছেন ৪১ রান। দলের আরেক বাঁ হাতি বোলার নাসুম আহমেদ তিন ওভারে খরচ করেছেন ৩৩ রান। দুই বোলার মিলে পাঁচ ওভারে ৭৪ রান দেয়ায় পাকিস্তানের রান তাড়ার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। তার পরও মোস্তাফিজের পাশে দাঁড়িয়েছেন অধিনায়ক, ‘অনেক বছর ধরেই মোস্তাফিজ আমাদের টিমের বেস্ট বোলার। ক্রিকেটে আপনি কখনো একই ওয়েতে যেতে পারবেন না, আপস অ্যান্ড ডাউনস থাকবে। হয়তো তার জন্য আজকের (গতকাল) দিনটা সুইটেবল ছিল না।’
শুধু বোলিং নয়, বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়েও প্রশ্ন আছে। দলের অধিনায়ক নিজে করেছেন তিন বলে মাত্র দুই রান। হৃদয় ২৫ বলে ৪২ রান করে দলকে ১১১ পর্যন্ত নিয়ে না গেলে বাংলাদেশের লড়াইয়ের পুঁজি আরো কম হতে পারত। লিটনের ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে দীর্ঘ দিনের অনুশীলন ঘাটতির বিষয়টিও, ‘আমরা অনেক দিন ধরে রুমে বসা, আবার আমরা টসে হেরেছি। তো আমাদের হাতে তো কোনো অপশন ছিল না, উইকেটটাও একটু ডিফিকাল্টি ফেস করার ছিল। যদি ভালো খেলতে পারতাম ভালো হতো, বাট এটা খুবই ইজি না যে আপনি এত দিন বসে থাকবেন এবং গিয়ে খুব এক্সট্রা অর্ডিনারি ইনিংস খেলবেন।’
তবে এখানেও প্রশ্ন থেকে যায়। পাকিস্তানও একই পরিস্থিতির মধ্যেই ছিল। বৃষ্টির কারণে অনুশীলনের সুযোগ সীমিত ছিল তাদেরও। তার পরও রান তাড়ায় পাকিস্তানের ব্যাটাররা তুলনামূলক সাবলীল ছিলেন। বাংলাদেশ কোচও ম্যাচের আগেই জানিয়েছিলেন, এমন পরিস্থিতির জন্য দল প্রস্তুত। ইয়াসির আলী রাব্বিও অনুশীলনের ঘাটতিকে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে দেখাননি।
সব মিলিয়ে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের স্বর্ণস্বপ্ন থেমে গেল সেমিফাইনালেই। ২০১০ সালে স্বর্ণ, ২০১৪ সালে রৌপ্য এবং ২০২৩ সালে ব্রোঞ্জ জেতা বাংলাদেশ এবার পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে পেয়ে ফাইনালের প্রত্যাশাটাও ছিল।