নিজস্ব প্রতিবেদক
সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় স্বতন্ত্রভাবে যাত্রা শুরু করেছে বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ ইউনিট। অতিরিক্ত আইজিপি ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে প্রাথমিকভাবে চার হাজার ৫৯২ জন জনবল নিয়ে গঠন করা হচ্ছে এই ইউনিট। যেখানে সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডাটা অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট ও ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট-সহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কাজ করবেন।
তাদের দেয়া হচ্ছে উন্নতি প্রযুক্তি সরাঞ্জামাদি। সেগুলো পরিচালনা ও সংরক্ষণের জন্য দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। গতকাল পুলিশ সদর দফতরে সাইবার পুলিশ ইউনিটের ঘোষণা উপলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড বেড়েছে। ফলে অপরাধ মোকাবেলায় প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, মানিলন্ডারিং, আর্থিক অপরাধ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সাইবার অপরাধ প্রায় সব েেত্রই ফরেনসিক ও ডিজিটাল ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। আগে সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় বিভিন্নভাবে অসংগঠিতভাবে কাজ করা হতো। এতে কাজের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ছিল। নতুন ইউনিটের মাধ্যমে এসব কার্যক্রমকে একটি সংগঠিত কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
সাইবার পুলিশ ইউনিটে প্রচলিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডাটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালট্যান্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্ট, কনটেন্ট ডেভেলপার, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, কমিউনিকেশন এক্সপার্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্ট-সহ বিভিন্ন পদ রাখা হয়েছে। এসব বিশেষজ্ঞকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া যাবে। তাদের বেতনভাতার কাঠামোও নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের তুলনায় আলাদা হবে।
নতুন ইউনিটের প্রধান থাকবেন একজন অতিরিক্ত আইজিপি। বিভাগীয় ও সদর দফতর পর্যায়ে একাধিক ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি থাকবেন। জেলাপর্যায়ে পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। থানায় ইউনিটটির জন্য আলাদা সাব-ইন্সপেক্টর, এএসআই ও কনস্টেবল নিয়োগ দেয়া হবে। এই ইউনিটের মোট জনবল সংখ্যা এখন পর্যন্ত অর্গানোগ্রামে চার হাজার ৫৯২ জন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান জনবল থেকে প্রয়োজনীয় সদস্য পূরণ করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে নিয়োগের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জনবল গঠন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, পুলিশের মধ্যে যারা এ বিষয়ে দ বা সংশ্লিষ্ট প্রশিণ নিতে আগ্রহী, তাদেরও ইউনিটে যুক্ত করা হবে। উপযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে উচ্চতর প্রশিণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে বিদেশে প্রশিণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিটে অবদান রাখা বিশেষজ্ঞদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, সাইবার সিকিউরিটি আইন আরো আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলছে। আইনটি সংশোধনের বিষয়ে সাংবাদিক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সাথে একাধিকবার মতবিনিময় হয়েছে, ভবিষ্যতেও তাদের মতামত নেয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, নতুন আইনে সাইবার-সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলো আরো সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। একই সাথে আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে নিরপরাধ বা সংশ্লিষ্ট নন এমন ব্যক্তিরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হচ্ছে। এটা খুবই সেনসিটিভ আইন, সে জন্য আমরা দীর্ঘ সময় নিচ্ছি। সবার সাথে আলাপ-আলোচনা করে সেই বিলটা আমরা নিয়ে আসব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিআইডি-সহ পুলিশের বিভিন্ন সংস্থায় থাকা সাইবার শাখাগুলোতে একটা আমব্রেলার নেতৃত্বে নিয়ে আসছি। একটা সুসংগঠিত রূপ দিতে যাচ্ছি।





