নয়া দিগন্ত ডেস্ক

বগুড়ায় অস্ত্র ও মাদক মামলার এক আসামি খুন হয়েছে। কক্সবাজারে আবাসিক হোটেলের বাথরুম থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোনারগাঁওয়ে রাস্তার পাশে পাওয়া গেছে এক যুবকের লাশ।
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়া সদরে অস্ত্র, মাদক ও নারী নির্যাতনসহ ৫টি মামলার আসামি রাকিবুল হাসান বকুল ওরফে ‘ন্যাংড়া বকুল’ (৩৯) খুন হয়েছেন। তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে তাকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুর ৩টার দিকে নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ডের ঝোপগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বকুলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার ও শাশুড়ি বুলিকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত বকুলের বিরুদ্ধে দু’টি অস্ত্র মামলা, দু’টি মাদক মামলা ও নারী নির্যাতনসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। 
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে পারভীন আক্তারের সাথে বকুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এর জেরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বকুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন পারভীন। এ নিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সাথে বকুলের সম্পর্কের টানাপড়েন আরো বাড়ে। বুধবার দুপুরে স্ত্রী পারভীনের সাথে শ্বশুরবাড়িতে যান বকুল। সেখানে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বিবাদ শুরু হয়। একপর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বকুলকে কুপিয়ে জখম করার পর গলাকেটে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনেরা।
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত যুবকের নাম মো: হাবিবুল্লাহ শেখ ওরফে নাসিম (২৩)। তার বুকের ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার এশিয়ান হাইওয়ের (ঢাকা বাইপাস) কাঁচপুরের ললাটি এলাকায় অলিম্পিক বিস্কুট কারখানার পাশে রাস্তায় পড়ে থাকা লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত হাবিবুল্লাহ নারায়ণগঞ্জ সদর থানার দেওভোগ এলাকার মোশারফ হোসেনের ছেলে। নিহতের পরিবার জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার রাত থেকে হাবিবুল্লাহ নিখোঁজ ছিলেন। 
সোনারগাঁও থানার তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এইচ এম জসিম উদ্দিন বলেন, এশিয়ান হাইওয়ের ললাটি এলাকায় অলিম্পিক বিস্কুট কারখানার পাশে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে। তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া ওই যুবকের বুকের ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
পুলিশ আরো জানায়, পকেট থেকে পাওয়া পরিচয়পত্রের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। 
নিহতের ভাগিনা মো: সিফাত বলেন, হাবিবুল্লাহ নারায়ণগঞ্জ দেওভোগ এলাকার একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করতেন। প্রায় দেড় বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে বাবার সাথে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ শুরু করেন। মঙ্গলবার রাতে বাসার কাউকে কিছু না বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেননি।
মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা জানান, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও পরে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে মো: রাকিব মিয়া (২৪) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত রাকিব উপজেলার সহিলদেও ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে। তিনি মোহনগঞ্জ বাজারে এক পল্লী চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। গত বুধবার ভুক্তভোগী তরুণী বাদি হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রায় তিন বছর আগে রাকিবের সাথে ওই তরুণীর সম্পর্ক ছিল। পরে পরিবারের প থেকে তাকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। এরপর রাকিব পুনরায় তার সাথে যোগাযোগ করে সম্পর্ক রাখার কথা বলেন।
একপর্যায়ে গত ৮ জুন  বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তরুণীকে স্বামীর বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার জেরে ওই তরুণীর স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়।
অভিযোগে আরো বলা হয়, স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রাকিব একাধিকবার ওই তরুণীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। একপর্যায়ে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে রাকিব তাকে হুমকি দিলে ঔষধ সেবনের পর তার গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট হয়। 
গত ২৪ সেপ্টেম্বর তরুণী রাকিবের চেম্বারে গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে রাকিব তাকে গালিগালাজ করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। বর্তমানে রাকিব মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে আছে। তার সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
কক্সবাজার অফিস জানায়, কক্সবাজার পৌর বাসটার্মিনাল এলাকার আবাসিক হোটেল ‘স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্টের’ তৃতীয় তলার ৩০২ নম্বর বাথরুম থেকে কুলসুমা আক্তার নামে এক নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাত ৮টার দিকে লাশটি উদ্ধার করার সময় ওই কক্ষে ওই নারীর দুই বছরের একটি শিশুকে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এক অজ্ঞাত যুবক ও কুলসুমা আক্তার দুই বছরের শিশুসহ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রিসোর্টে ওঠেন। হোটেলের রেজিস্টারে ঠিকানা দেয়া হয় কক্সবাজার ঈদগাঁও উপজেলার ভাদিতলা।
পরদিন কক্ষ পরিষ্কার করতে গিয়ে ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পরে ওয়াশরুমে গিয়ে কুলসুমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কুলসুমার লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। তবে হোটেলটিতে কুলসুমার সাথে থাকা যুবকটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কুলসুমার সাথে হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওঠা যুবকটির পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। নিহতের পরিবারের দাবি, ওই যুবক কুলসুমার স্বামী হারুন নন। এমনকি পরিবারের সদস্যরাও তাকে চিনতে পারছেন না। পুলিশের তথ্য বলছে, কুলসুমার স্বামী হারুনের সাথে একটি মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলায় হাজিরা দিতে কক্সবাজার শহরে এসেছিলেন কুলসুমা।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের জানান, কুলসুমার সাথে হোটেলে থাকা যুবকটি তার স্বামী নন। তাকে শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
নিহত কুলসুমা আক্তার কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলার চান্দেরঘোনা এলাকার আলমের মেয়ে।