বিশেষ সংবাদদাতা
দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় থাকলেও এই একক সূচক দিয়ে অর্থনীতির সার্বিক চাপ কমেছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে, গত সেপ্টেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় আট কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেও (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। এই সময়ে মোট রেমিট্যান্স এসেছে আট হাজার ৫৯১ মিলিয়ন ডলার, আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল সাত হাজার ৫৮৬ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ তিন মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে এক হাজার পাঁচ মিলিয়ন ডলার বা ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
এই প্রবাহ রেমিট্যান্সকে অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস হিসেবে ধরে রাখছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে তারল্য বাড়ায় এবং রিজার্ভের ওপর চাপ কমায়; একই সাথে প্রবাসী আয়ের বড় অংশ দেশের অভ্যন্তরীণ ভোগ ও বিনিয়োগেও ব্যবহৃত হয়।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, রেমিট্যান্স বাড়লেও আমদানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, ঋণের চাপ ও বৈদেশিক লেনদেনের অন্যান্য ভারসাম্যহীনতা একই সাথে বাড়তে থাকলে শুধু প্রবাসী আয় দিয়ে অর্থনীতির সামগ্রিক চাপ সামলানো কঠিন হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, রেমিট্যান্সের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো সাময়িকভাবে আড়াল করতে পারলেও তা প্রকৃত সমাধান দেয় না।
এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া আরো সহজ করা, প্রবাসীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ বজায় রাখা এবং হুন্ডির মতো অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, রফতানি, আমদানি ও বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা না ফিরলে রেমিট্যান্সনির্ভর এই সুরা-বলয়ের ওপর চাপ আরো বাড়তে পারে।





