নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, ডেমরা ও বংশাল এলাকা থেকে দুই নারী ও এক মানসিক অসুস্থ ব্যক্তিসহ তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার পৃথক সময়ে ঘটনাগুলো ঘটে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম রসুলপুর ঝাউলাহাটি চৌরাস্তা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে স্বপ্না বেগম (৩৮) নামের এক গৃহিণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বামী অটোচালক খাজা জানান, স্বপ্না  শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ঘটনার দিন সন্তানরা বাইরে থাকায় সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি গলায় ফাঁস দেন। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। নিহত স্বপ্নার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: আরিফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অন্যদিকে, ডেমরা হাজী বাদশা মিয়া রোডের ‘আমার ভুবন’ ভবনের ১১ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে পপি (৩৫) নামের চার সন্তানের মায়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ডেমরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোসলের কথা বলে বাথরুমে ঢোকেন পপি। দীর্ঘক্ষণ সাড়া না পেয়ে স্বজনরা দরজা কেটে ভেতরে ঢুকে গামছা দিয়ে হ্যাঙ্গারের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। নিহত পপি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার নন্দলালপুর গ্রামের মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই রাতে পুরান ঢাকার বংশাল থানার নাজিম উদ্দিন রোড এলাকায় হাশেম (৪৮) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নিহতের ছেলে হাসিব জানান, তার বাবা দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। রাতে ফুফুর বাসায় সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো: হাবিবুর রহমান জানান, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।