ফখর উদ্দিন ইমরান কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের কুড়িখাঁই নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৬০ বছরের পুরনো একটি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ দিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেতুর পাটাতন, রেলিং ও পিলারের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। কোথাও পাটাতন দেবে গেছে, কোথাও কংক্রিট ভেঙে গর্ত হয়ে গেছে, কোথাও পিলারের পলেস্তারা খসে বেরিয়ে পড়েছে রড। ঝুঁকির কারণে এই সেতুর উপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সেতু পারাপার হচ্ছেন অন্তত ২০ গ্রামের হাজারো মানুষ।
সরেজমিন দেখা গেছে, মুমুরদিয়া ইউনিয়নের শিবনাথ সাহার বাজারসংলগ্ন সেতুটির বিভিন্ন স্থানে পাটাতন দেবে গেছে। অনেক জায়গায় রেলিং ভেঙে গেছে কিংবা একেবারেই নেই। পিলারে ফাটল ও ক্ষয় দেখা দিয়েছে। রেলিং না থাকায় বিশেষ করে রাতে ও বৃষ্টির সময় সেতু পারাপার আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটি ১৯৬৫ সালের দিকে নির্মিত হয়। দীর্ঘ দিন ধরে এটি পুনর্র্নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেতুটি পরিদর্শন ও পরিমাপ করলেও নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি।
সেতুটির ওপর দিয়ে বোয়ালিয়া, নামা বোয়ালিয়া, তেলিচারা, পাড়া ম লভোগ, কাহেতেরটেকী, ভাংনাদী, চারিয়া, দড়িচারিয়া, মাগুরা, কুড়িখাঁই, চাতল ও মুমুরদিয়াসহ আশপাশের অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ চলাচল করে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ এ সেতু ব্যবহার করেন। সেতুর বেহাল দশায় কৃষিপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে সময় ও খরচ বাড়ছে। রোগীদের হাসপাতালে নেয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় ষাটোর্ধ্ব দুলাল আমিন বলেন, সেতুটি নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পার হয়েছে। প্রায় ২০-৩০ বছর আগেই এর কার্যক্ষমতা শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে এটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) কটিয়াদী উপজেলা প্রকৌশলী মো: এহেতেশামুল হক বলেন, সেতুটির জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। পরিদর্শন শেষে কারিগরি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোও হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুতই নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।





