আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনে লড়তে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন অন্তত ৫০০ ব্যবসায়ী। এদেরে বেশির ভাগই ব্যক্তিগতভাবে কিংবা পারিবারিকভাবে বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত। আবার কেউ কেউ রাজনীতি দিয়ে জীবন শুরু করলেও সময়ের বাস্তবতায় যুক্ত হয়েছেন ব্যবসায়ের সাথে।

বিশেষ করে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের বিভিন্ন সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, ঢাকা চেম্বার, মেট্রোপলিটান চেম্বার এবং চট্টগ্রাম চেম্বারসহ বেশির ভাগ সংগঠনের নেতৃত্ব এখন রাজনীতিবিদদের হাতে। আবার এদেরই হাত ঘুরে বর্তমান জাতীয় সংসদের ৫৯ শতাংশ আসন (১৭৭ জন) চলে গেছে ব্যবসায়ীদের হাতে।

এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন চার হাজার ২৩ জন। বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা চার হাজার ৫৮০। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের একটা বড় অংশ তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে উঠে এলেও সময়ের বাস্তবতায় রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসায় জড়িয়েছেন। আর অনেকে ব্যবসায়বাণিজ্য করে অর্থসম্পদের মালিক হওয়ার পাশাপাশি নাম লিখিয়েছেন রাজনীতির খাতায়। সব মিলিয়ে রাজনীতির মাঠে ব্যবসায়ীদের সংখ্যাই বেশি।

বর্তমান জাতীয় সংসদের ২৮ জন সদস্য বিজিএমইএরও সদস্য। আবার এফবিসিসিআইর বেশির ভাগ পরিচালক এবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের ভাষায়, রাজনীতিই এখন সবচেয়ে বড় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু, ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুণ এবং সালমান এফ রহমান রাজনীতির মাঠে সক্রিয়। বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যই এসেছেন ব্যবসায়ী পরিচয় ধারণ করে। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত অন্তত ৫০০ ব্যক্তি সক্রিয় রয়েছেন নির্বাচনী মাঠে। রয়েছেন অনেক তরুণ ব্যবসায়ীও।

ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করায় টেকনাফের এমপি আবদুর রহমান বদির দলীয় মনোনয়ন হারানোর সংবাদ আলোচনায় এলেও পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসায়িক পরিচিতি আছে এমন ব্যক্তিরাই নির্বাচনে ভালো করছেন। কারণ তাদের ‘মাসেল ও মানি’ দুটোই আছে। ফলে এবারো মনোনয়ন দৌড়ে ব্যবসায়ীরা এগিয়ে থাকবেন বলে বিশ্লেষকদের অনুমান।

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান দোহার-নবাবগঞ্জ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসনে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। আরেক সাবেক সভাপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। দলটির অর্থ ও বাণিজ্য সম্পাদকও ছিলেন তিনি। কিন্তু দুই দফা আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হন। পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই এমপি হন। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। এবার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। কুমিল্লা-২ আসনে (হোমনা-তিতাস) তার মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত বলে জানা গেছে।

ফেনী-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এফবিসিসিআইর পরিচালক অভিনেত্রী শমী কায়সার। একই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চান এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান।

নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন সংগঠনের সাবেক সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন। জামালপুর-৫ আসন থেকে নৌকায় চড়তে চান বর্তমান পরিচালক রেজাউল করিম রেজনু। মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে মনোনয়নপত্র কিনেছেন এফবিসিসিআইর পরিচালক তোসাদ্দেক হোসেন খান টিটু।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী আরেক পরিচালক আবু নাসের। ময়মনসিংহ সদর আসন থেকে নির্বাচনের প্রত্যাশায় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন পরিচালক আমিনুল হক শামীম।

গাজীপুর থেকে নির্বাচনের প্রত্যাশায় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এফবিসিসিআইর পরিচালক ও গাজীপুর চেম্বারের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সরকার। সংগঠনের পরিচালক খায়রুল হুদা চপল সুনামগঞ্জ-১ আসন ও মাসুদ পারভেজ খান কুমিল্লা-৬ আসনে প্রার্থী হতে চান। চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়াল। একই সমিতির সাবেক সভাপতি দিলীপ রায়ও ফরিদপুর-১ থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ঢাকা-১৭ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে চান এফবিসিসিআইর পরিচালক ড. কাজী এরতেজা হাসান। 

নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) সাবেক সভাপতি বন্ধ হওয়া সিটিসেলের কর্ণধার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান। চট্টগ্রাম-৮ থেকে নির্বাচনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী লড়বেন চট্টগ্রাম-১১ আসনে।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর আসন থেকে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মুন্নু গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার আফরোজা খান।

এইচআরসি গ্রুপের কর্ণধার সাঈদ হোসেন চৌধুরী বিএনপির মনোনয়ন চান ফেনী-৩ আসনে। নির্বাচনী দৌড়ে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা একমির প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান সিনহা। মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির এই সভাপতি সদর আসন থেকে নির্বাচন করতে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ইসলাম গ্রুপের মঈনুল ইসলাম শান্তও মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

রাজধানী পুরান ঢাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও এফবিসিসিআই পরিচালক আবু মোতালেব ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহসভাপতি। তিনি নির্বাচন করতে চান ঢাকা-৭ আসনে। এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচন করতে বারাকা পাওয়ারের চেয়ারম্যান ফয়সল আহমেদ চৌধুরী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক আমিনুল হক নাটোর-৪ থেকে লড়বেন। তিনি নাটোর চেম্বারের সভাপতি ও নাটোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটো টাঙ্গাইল-৪, ভাসভী গ্রুপের চেয়ারম্যান কামাল জামান মোল্লা ঢাকা-১৭, এস এ খালেক গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিইও সাইফ সিদ্দিক সাজু ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচনে লড়তে চান। তিনি পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এ খালেকের ছেলে। 

তৈরী পোশাক খাত থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম জমা দেয়া উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন- বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদুল হাসান খান বাবু চুয়াডাঙ্গা-২। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক। বিজিএমইএর সাবেক সভাপতিদের মধ্যে কাজী মনিরুজ্জামান

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি তিনি। অপর সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক চট্টগ্রাম-৫ থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। চৈতী গ্রুপের এমডি ও বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম কুমিল্লার লাকসাম থেকে নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

জাকারিয়া তাহের কুমিল্লা-৮, আবুল কালাম আজাদ কুমিল্লা-৯, খালেদ মাহবুব ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, লুৎফর রহমান টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ব্যাংকিং খাত থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া তাহের সুমন কুমিল্লা-৮ থেকে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মাতলুব আহমাদের সহধর্মিণী এবং নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ উইমেন্স চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সেলিমা আহমাদ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান কুমিল্লা থেকে। এশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ ঢাকা-৫ আসনে দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ ছাড়া বরিশাল-৫ (সদর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য আমদানিকারক মো: আরিফিন মোল্লা।

আওয়ামী লীগের হয়ে বর্তমান সংসদে রয়েছেন মধুমতি ব্যাংকের পরিচালক ফজলে নূর তাপস (ঢাকা-১০), নূর ই-আলম চৌধুরী লিটন (মাদারীপুর-১), মিডল্যান্ড ব্যাংকের উদ্যোক্তা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ (ফরিদপুর-৪), মিডল্যান্ড ব্যাংকের আরেক উদ্যোক্তা আব্দুল মজিদ (সিরাজগঞ্জ-৪), যমুনা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম দস্তগীর গাজী (নারায়ণগঞ্জ-১), মধুমতি ব্যাংকের পরিচালক মো: দিদারুল আলম (চট্টগ্রাম-৪), মেঘনা ব্যাংকের পরিচালক এম এ মালেক (ঢাকা-২০), প্রাইম ব্যাংকের পরিচালক মো: সিরাজুল ইসলাম মোল্লা (নরসিংদী-৩), মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোরশেদুল আলম (নোয়াখালী-২) এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালক বজলুল হক হারুন (ঝালকাঠি-১)।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনে জমা দিয়েছেন প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা: এইচ বি এম ইকবাল (ঢাকা-১২), রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন (ফরিদপুর-১-আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, মধুখালী)। একই আসনে মনোনয়নপত্র কিনেছেন প্রাইম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক কাজী সিরাজুল ইসলাম।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইর পরিচালক এ কে এম সাহিদ রেজা শিমুল ও তমা কনস্ট্রাকশনের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ভূঁঁইয়া (ফেনী-২-সদর) মনোনয়নপত্র কিনে জমা দিয়েছেন। ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) থেকে মনোনয়নপত্র কিনেছেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল, টাঙ্গাইল-৬ আসনে লড়তে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন (নাগরপুর-দেলদুয়ার) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সভাপতি ও সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসানুল ইসলাম টিটু, এ ছাড়া মিডল্যান্ড ব্যাংকের উদ্যোক্তা আবদুল মজিদ মণ্ডলের ছেলে আব্দুল মমিন মণ্ডল সিরাজগঞ্জ-৫, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী ফেনী-৩, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের পরিচালক এম মোয়াজ্জেম হোসেন বরিশাল-২, সোনালী ব্যাংকের পরিচালক মো: নুরুল আলম তালুকদার টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল), অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক আনসার আলী খান কুষ্টিয়া-১, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন হুমায়ুন ফেনী-৩, ন্যাশনাল ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক এ কে এম এনামুল হক শামীম শরীয়তপুর-২, শাহ্থজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক আনোয়ার হোসেন খান লক্ষ্মীপুর-১, মেঘনা ব্যাংকের পরিচালক আবদুল আলিম খান সেলিম ঢাকা-২০ থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী।

তৈরী পোশাক শিল্পখাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে বর্তমান সংসদে রয়েছে ৩৮ জন সদস্য এবং চারজন মন্ত্রী। তারা এবারো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন। তারা হলেনÑ ঢাকা-৩ থেকে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ (বিপু) হামিদ ফ্যাশনের এমডি; রাজশাহী-৬ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ইন্টারস্টপ অ্যাপারেলসের এমডি। রংপুর-৪ থেকে আওয়ামী লীগের সাংসদ ও সিপাল গার্মেন্টের এমডি এবং বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি টিপু মুনশি।

ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক অরবিট সোয়েটারসের পরিচালক। ঢাকা-১৫ আসনে সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার বেস্ট ডেনিম অ্যাপারেলের এমডি। কুমিল্লা -৯ এর সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম চৌধুরী ফাবিয়ান গ্রুপের এমডি। বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী খুলনা-৪ থেকে উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবারো দলীয় মনোনয়ন পেতে ফরম জমা দিয়েছেন তিনি। সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী কুশিয়ারা কম্পোজিট ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

পোশাক খাত থেকে নতুন মুখ হিসেবে এবার আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন বিজিএমইএর বর্তমান কমিটির তিন সহসভাপতি এস এম মান্নান কচি (ঢাকা-১৬), মোহাম্মদ নাছির (চট্টগ্রাম-১২), মইনউদ্দীন আহমেদ (চট্টগ্রাম-১০); আতিয়ার রহমান দীপু (গোপালগঞ্জ-১); পোশাক খাতের অপর সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সহসভাপতি আসলাম সানি নরসিংদী-৪ (বেলাব-মনোহরদী) থেকে দলীয় ফরম জমা দিয়েছেন।