গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকেরা ভিটামিন ডি দিয়ে থাকেন। অনাগত সন্তান যেন সুষম বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। কিন্তু সাম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে গর্ভাবস্থায় ভিটামিন ডি অনাগত সন্তানের আদর্শ বৃদ্ধি প্রাপ্তিতে কোনো ভ‚মিকা পালন করে না। মহাখালীর আন্তর্জাতিক কলেরা হাসপাতাল- আইসিডিডিআরবি এ বিষয়ক গবেষণায় দেখিয়েছে গর্ভাবস্থায় ভিটামিন কোনো ভূমিকা পালন করে না।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশের প্রতি তিনটি শিশুর একটি স্টানটেড। যেখানে দেশটির জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ ভিটামিন ডি ঘাটতিতে ভুগছে। আর এই ভিটামিন ডি ঘাটতির কারণেই শিশুরা স্টানটিং হচ্ছে ? আইসিডিডিআরবির গবেষকেরা এটা জানার জন্য গর্ভাবস্থায় এবং মাতৃ দুগ্ধ দানের সময় ভিটামিন দেয়ার একটি কর্মসূচি নেন। তারা দেখতে চেয়েছিলেন যে ভিটামিন ডি শিশুর সুষম বৃদ্ধিতে কোনো প্রভাব ফেলে কি না।
শিশুর উচ্চতা বয়সের তুলনায় কম হলে সে শিশুকে স্টানটেড শিশু বলে। অপর্যাপ্ত পুষ্টি, বার বার সংক্রমণের শিকার হওয়ায় শিশুরা স্টানটেড হয়ে থাকে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যে বলা হয়েছে। স্টানটেড শিশুর লেখাপড়ার প্রতি সাড়া কম থাকে, বোঝার ক্ষমতাও অন্যদের চেয়ে কম হয়ে থাকে। এ শিশুরা বড় হয়ে আয়-উপার্জনেও কম ভূমিকা পালন করতে পারে।
আইসিডিডিআরবি’র এই গবেষণার ফল নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত হয়েছে। গর্ভাবস্থায় এবং মাতৃ দুগ্ধ দান করার সময় মাকে ভিটামিন ডি দেয়া হলে দেখা গেছে এতে শিশুর বৃদ্ধিতে কোনো প্রভাব ফেলছে না।
গবেষকেরা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন থেকে গর্ভাবস্থায় ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট দিতে সুপারিশ করছে না। যেসব মায়ের ভিটামিন ডি ঘাটতি রয়েছে কেবল সে সকল মায়েদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের ভিটামিন ডি দিতে বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহাতায় আইসিডিডিআরবি ও টরোন্টোর হসপিটাল ফর সিক চিলড্রেনস এবং বাংলাদেশ সরকারের মেটার্নাল চাইল্ড হেলথ টেনিং ইনস্টিটিউটের সহায়তায় ঢাকার এক হাজার ৩০০ গর্ভবতিকে ভিটামিন দেযা হয়। ওই ১৩০০ মহিলাকে গর্ভাবস্থায় তিন ডোজের ২৮ হাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট, ১৬ হাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট ও ৪ হাজার ২০০ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিটের ভিটামিন ডি ট্যাবলেটের সাথে ৫০০ এমজি’র ক্যালসিয়াম, ৬৬ এমজি আয়রন, ৩৫০ এমসিজি ফলিক এসিড দেয়া হয় প্রতিদিন। এই পরীক্ষায় আরেক গ্রুপ কিছু গর্ভবতিকে ভিটামিন ডি দেয়া হয়নি।
আইসডিডিআরবির প্রকল্প সমন্বয়ক ও গবেষণার সিনিয়র লেখক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, এক বছর পর শিশুদের পরীক্ষা করার পর দেখা গেল যে সব মায়েদের গর্ভাবস্থায় ভিটামিন দেয়া হয়েছে এদের শিশু সন্তানদের র বেড়ে উঠায় (উচ্চতায়) ভিটামিন ডি কোনো প্রভাব ফেলেনি। গবেষকেরা সুপারিশ করেন যে গর্ভাবস্থায় ভিটামিন ডি দেয়া হলেও শিশুর বেড়ে উঠায় তা কোনো কাজে লাগে না। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, এই গবেষণায় সকল গ্রুপের শিশুদেরই হাসপাতালে সেবা নেয়ার পরিমাণ সমান ও শিশু মৃত্যু পরিমাণ সমান।
‘আইসিডিডিআরবির নিউট্রিশন অ্যান্ড ক্লিনিকেল সার্ভিসের সিনিয়র ডিরেক্টর এবং এই গবেষণা প্রবন্ধের সহ-লেখক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, স্টানটিংয়ের কারণ এবং এর সমাধান কি’ এই গবেষণায় এটাও আলোকপাত করা হয়েছে এবং এটা এখনো বের করা কঠিন। তিনি বলেন, এটা ছাড়াও আইসিডিডিআরবিতে ভিটামিন ঘাটতি এবং শিশুর অসামঞ্জস্য বৃদ্ধির কারণ ও সমাধান বিষয়ক ইতোমধ্যে আরো অনেক গবেষণা রয়েছে।





