বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) বর্তমান স্নাতকোত্তর (পোস্ট গ্রাজুয়েশন) রেসিডেন্সি কোর্স কারিকুলামের প্রণেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অনুষদের সাবেক নির্বাচিত ডিন ও শিশু সার্জারি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম অবসর নিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকদের স্নাতকোত্তর শ্রেণীর বর্তমান আধুনিক কোর্স কারিকুলামটি অপরাপর বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে আদলে তিনি প্রণয়ন করেন। তাকে মনে করা হতো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞ শিক্ষকদের একজন। খুব অল্প ও স্বল্প মূল্যের ওষুধ দিয়ে সফল চিকিৎসা দিয়ে সুনাম অর্জন করেন তিনি।

তিনি তার রোগীদের জন্য সর্বদাই কার্যকর কিন্তু তুলনামূলক কম মূল্যে চিকিৎসা দিতেন বলে জানিয়েছেন মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকেরা। অস্ত্রোপচারের পর অন্য অনেক বিভাগে যেখানে এক হাজার ৩০০ টাকা দামের ‘ম্যারোপেনাম’ ব্যবহার করা হয় তখন তিনি স্বল্পমূল্যের অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে রোগী সুস্থ করেছেন বলে জানিয়েছেন তার ছাত্ররা।

বৃহস্পতিবার ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সর্বশেষ কর্মদিবস। তাকে পুষ্পমাল্য ও ক্রেস্ট দিয়ে বিদায় জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষে তাকে পুষ্পমাল্য ও ক্রেস্ট উপহার দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক মো. নুর উদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক মো. মাইনুদ্দিন, ডা. মো. সাইফুল ইসলাম সেলিম, ডা. মো. নজরুল ইসলাম, ডা. সাইফুদ্দিন নেসার আহমেদ তুষান, ডা. এবিএম ছফিউল্লাহ, ডা. শাখওয়াত হোসেন সায়ন্থ, ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটু, ডা. আকাশ, ডা. আদনান প্রমুখ।

অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম সম্পর্কে একজন চিকিৎসক জানান, ‘এক সাথে সাহসী, মেধাবী, নীতিবান ও মানবিক মনের অধিকারী হওয়া মানুষের সংখ্যা এ দেশে বিরল। সেই সংখ্যালঘু গ্রুপের একজন শিশু সার্জারির অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম স্যারের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার ছিল শেষ কর্মদিবস। একাডেমিক ও চাকুরি সংক্রান্ত বিষয়ে যখনই কোনো সমস্যা অনুভব করেছি, তখনই ছুটে গেছি স্যারের রুমে। স্যার সাহস ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন সব সময়।’