বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নকল এন-৯৫ মাস্ক সরবারহের অভিযোগ ওঠেছে। গত ১৮ জুলাই হাসপাতলটিতে সরবরাহ করা এন-৯৫ মাস্কের লেবেলে বানান ভুল থাকায় এ অভিযোগ করেছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। নকল বলে অভিযোগ করার কারণ হিসেবে চিকিৎসকেরা বলছেন, যে কোম্পানির নামে মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে, এরা এসব বানান ভুল করতেই পারে না। এটা স্পষ্ট যে, যারা নকল এ মাস্ক তৈরি করে সরবরাহ করেছে তারা ইংরেজিতে একেবারেই কাঁচা। হাসপাতালের পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সরবরাহ করা এন-৯৫ মাস্কের লেবেলে দেখা গেছে, সাধারণ ইংরেজি শব্দের বানানও ভুল। মাস্কের সতর্কবাণীতে লেখা আছে, ‘দিস রেসপিরেটর প্রোটেক্টস এগেইনস্ট সারটেইন পার্টিকলস। মিসইউজ মে রেজাল্ট ইনসিকনেস অরডেথ। ফর প্রোপার ইউজ সি সুপারভাইজার অরবক্স অর কল ৩এম’ (This respirator Protects agalnst cortein Panrticles. Misuse may result insickness ordeath. For proper use see supervisor orbox or can 3M)।
বাক্যটির ভেতরে দুইটি শব্দ নাম বাচক না হলেও শব্দের শুরু করা হয়েছে বড় হাতের (ক্যাপিটাল লেটার) অক্ষর দিয়ে। বাক্যের মধ্যে রয়েছে চারটি ভুল বানানের শব্দ। বাক্যে এগেইনস্ট (Against) শব্দের বানানে লেখা হয়েছে এজিএএলএনএসটি (agalnst) এখানে আই এর পরিবর্তে এল লেখা হয়েছে। সারটেইন (certain) শব্দকে লেখা হয়েছে সিওআরটিইআইএন (cortein) এখানে ই এর বদলে ও লেখা হয়েছে, পার্টিকলসকে (particles) লেখা হয়েছে পিএএনআরটিসিএলইএস (Panrticles) দিয়ে এখানে এন অতিরিক্ত লেখা হয়েছে। এবং কলকে (call) লেখা হয়েছে সিএএন (can) এখানে ডবল এল এর পরিবর্তে এন লেখা হয়েছে। এছাড়াও তিনটি শব্দ মিলিয়ে ফেলা হয়েছে তিনটি জায়গায়। ইন সিকনেসকে (In sickness) একসাথে ইনসিকনেস (insickness) লেখা হয়েছে অর ডেথকে (or death) এক সাথে মিলিয়ে লেখা হয়েছে অরডেথ (ordeath) এবং অর বসক্সকে (or box) লেখা হয়েছে এক সাথে অরবক্স (orbox) হিসেবে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মাস্ক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘থ্রি-এম’ তারা তাদের পণ্যের গায়ে এমন ভুলসহ লেবেল ছাপাবে বলে মনে করেন না চিকিৎসকেরা। কারণ তারা দীর্ঘদিন মাস্ক উৎপাদন ও সরবরাহ করে আসছে। কোম্পানিটি এভাবে ইংরেজি বানান ভুল করে লিখতে পারে না। হাসপাতালটিতে কর্মরত এক চিকিৎসক বলেন, ‘থ্রি-এমের তৈরি আসল এন-৯৫ মাস্কের তুলনায় সরবারহ করা মাস্ক খুবই নিম্নমানের। এটি তৈরির উপাদান ও কাঠামোও অন্যরকম, যা মানসম্মত নয়।’
চিকিৎসকরা বলছেন, সাত দিন ব্যবহার করার জন্য চিকিৎসকদের পাঁচটি এন-৯৫ মাস্ক দেয়া হয়েছে। কয়েকটি মাস্ক আসল মনে হলেও বেশিরভাগই সুস্পষ্টভাবেই নকল। এন-৯৫-এর মতো উচ্চমানের পণ্যের গায়ে এই জাতীয় বানান ভুল সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তারা। জানা গেছে, হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়কে মাস্ক ও পিপিই কেনা এবং সেগুলোর মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।
এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে অনেকগুলো কলগুলো কল করার পরও পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য করোনা সংক্রমেণের পর থেকেই দেশে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বেশ আলোচিত। এ অভিযোগে সিএমএসডি’র পরিচালককে বদলী করে দেয়া হয়েছে। রাজধানীর মুগদা ও খুলনা হাসপাতালের পরিচালক তাদের হাসপাতালে নকল সুরক্ষা সামগ্রী পাঠানো হয়েছে মর্মে অভিযোগ করলে ওই দুই পরিচালককে স্বাস্থ্য অধিদফতর রাতারাতি অন্যত্র বদলি করে দেয়।





