পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে নয়া দিগন্ত। ১৮ তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে সোমবার পত্রিকা কার্যালয়ে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। লেখক-পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় নয়া দিগন্ত অফিস। কেউ ফুল হাতে আবার কেউ মিষ্টি নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন পত্রিকার সাংবাদিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। সকালে পত্রিকার বোর্ড রুমে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয়। এ সময় সেখানে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীরা নয়া দিগন্তের সত্য প্রকাশের সাহসের প্রশংসা করে আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখার আহবান জানান।
কেক কাটা অনুষ্ঠানে নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশন লিমিটেডের (ডিএমসিএল) চেয়ারম্যান শিব্বির মাহমুদ। নয়া দিগন্তকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশন লিমিটেডের (ডিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী হারুন-অর-রশিদ। উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাষ্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতিক, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, আর্ন্তজাতিক বুদ্ধিষ্ট ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, সাবেক জেলা জজ ইকতেদার আহমেদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, লে. কর্ণেল (অব.) মাকসুদুল হক, লে. কর্ণেল (অব.) আব্দুল হক, চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. শাহ মোহাম্মদ বুলবুল ইসলাম, বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক লে. (অব.) আবু রুশদ, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী প্রমুখ।

নয়া দিগন্তের সাহিত্য সম্পাদক কবি জাকির আবু জাফরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিএমসিএল’র পরিচালক খন্দকার এনায়েত হোসেন, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর এ কে এম আবদুল মালেক, নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাদেক ভুইয়া, নয়া দিগন্তের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো: সালাউদ্দিন বাবর, ডেপুটি এডিটর (নিউজ) মাসুমুর রহমান খলিলী, সিটি এডিটর আবু সালেহ আকন, চীফ রিপোর্টার হারুন জামিল, বিএফইউজের মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, কোষাধ্যক্ষ খায়রুল বাশার, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি বাছির জামাল ও রাশেদুল হক, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াউল কবির সুমন, ডিইউজের জনকল্যাণ সম্পাদক খন্দকার আলমগীর হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দেওয়ান মাসুদা সুলতানা, দফতর সম্পাদক ডি এম আমিরুল ইসলাম অমর প্রমুখ।

দিনব্যাপী আরো শুভেচ্ছা জানান, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কার্যনির্বাহী সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার, সাবেক সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম কাগজী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য শাহনাজ বেগম পলি, বিএফইউজের প্রচার সম্পাদক হাসান মাহমুদ, ডিআরইউ’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল বারী, ডিইউজের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য জেসমিন জুই, সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য মো: আল আমিন, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আবু হানিফ, আব্দুল্লাহ মজুমদার, বিএনপির ঢাকা দক্ষিণের আহ্বায়ক ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো: আব্দুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের মোঃ আব্দুর রহিম, জাকির হোসেন খান, হান্নান মল্লিক, জহিরুল ইসলাম বাশার, মোশাররফ হোসেন, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান ও অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, প্রকৌশলী আসিফ হোসেন রচি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ছাত্রদলের সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন শ্যামল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, কেন্দ্রীয় নেতা মুতাছিম বিল্লাহ, খায়রুল আলম সুজন, ঢাবি ছাত্রদলের সাইদুল ইসলাম, তাঁতী দলের সদস্য সচিব মজিবুর রহমান, এগ্রিকালচারিস্টস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহবায়ক কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুন, সদস্য সচিব প্রফেসর ড: জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক প্রফেসর ড. গোলাম হাফিজ কেনেডি, সহ কৃষি বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ চৌধুরী ফারুক, কৃষিবিদ শাহ মনির, কৃষিবিদ ড: শফিকুল ইসলাম, কৃষিবিদ নূরুন্নবী ভূঁইয়া শ্যামল, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভেকেট ড. হেলাল উদ্দিন, আশরাফুল আলম ইমন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের পক্ষে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানান উত্তরের মজলিসের শুরা সদস্য মুহাম্মদ আতাউর রহমান সরকার, প্রচার সেলের সদস্য কামরুল হাসান, মাসুদ মোস্তফা, আবু জায়েদ, নাজমুল হাসান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন, প্রচার সম্পাদক জামিল মাহমুদ, সহ-প্রচার সম্পাদক আশরাফুল আলম ইকবাল, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, ভাইস-চেয়ারম্যান স্বপন কুমার সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: কামাল ভুইয়া, নির্বাহী সদস্য মিতা রহমান, এনডিপির মহাসচিব মো: মঞ্জুর হোসেন ঈসা, ভাসানী অনুসারি পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আখতার হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম, মাওলানা আহমদ আবদুুল কাইয়ূম, শ্রমিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানের পক্ষে শুভেচ্ছা জানান, নজরুল ইসলাম বাবলু, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা ড. মহিউদ্দিন ইকরাম, সহ-সভাপতি মুফতি রেজাউল করিম, মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ আরমান, খিদমাহ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা ইমরানুল বারী সিরাজী, মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, অর্থ সচিব মাওলানা মুমিনুল ইসলাম, সংগঠন সচিব শেখ আমির হোসেন হিরা, নির্বাহী সদস্য এইচ এম আব্দুল্লাহ আল মামুন, চাঁদপুর-৩ আসনের আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সিটি নিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ রেদওয়ান খান বোরহান, ঢাকা সংবাদপত্র হকার্স সমিতির চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম, সহ-সভাপতি বিল্লাল হোসেন, সাকুলেশন ম্যানেজার আবুল কালাম, সংবাদপত্র হকার্স কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন নোমান, সেক্রেটারি আলহাজ শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আবুল কাসেম গাফুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন শিকদার, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাশিম, সহ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান খান, বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিবহন মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আশরাফউদ্দিন ভুইয়া মিলন, সেক্রেটারি আব্দুস সালাম হাওলাদার, জাতীয়তাবাদী সংযুক্ত গার্মেন্ট ফেডারেশনের নারায়নগঞ্জ জেলার আহবায়ক এন আর বি মামুন, ফোরথট পিআর এর উম্মে সালমা ও কামরুল ইসলাম সার্জিল প্রমুখ।
এছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদফতর, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, ইবনে সিনা হাসপাতাল মালিবাগ, বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংগঠন ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।
অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই এর সাবেক পরিচালক রুহুল আমিন খন্দকারের সৌজন্যে অতিথিদের খন্দকার টি এর চা ও কফি পরিবেশন করা হয়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা আন্তরিকভাবেই নয়া দিগন্তের শুভাকাংক্ষী। নয়া দিগন্ত এতো প্রতিকূলতার মধ্যেও যে বস্তুনিষ্ঠ কাজ করে যাচ্ছে এবং জনগণকে জাগিয়ে রাখছে সেজন্য আমি আন্তরিকভাবেই শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। মির্জা ফখরুল বলেন, আমি বিশ্বাস করি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একদিন অবশ্যই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সকল প্রতিকূলতা দূর করে আমরা একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবো। আমি আবারো নয়া দিগন্তের সাথে জড়িত সকল সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আমাদের জাতীয়তাবাদী দল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে মানুষের কথা বলার অধিকার নেই। এর মধ্যে নয়া দিগন্ত কোন রকমে শ্বাস ফেলছে। অন্যরা যেখানে সত্য প্রকাশে ভয় পায় সেখানে নয়া দিগন্ত কিছুটা হলেও সত্য প্রকাশ করে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে সাংবাদিকদের হাত বেধে ফেলা হয়েছে। এখন ঘরের মধ্যেও সভা করা যায় না। গণতন্ত্রকে এভাবে কবর দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন করে এ আইনে মামলার আগে প্রেস কাউন্সিলের পাঠানো এবং মামলা করতে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা লাগবে এ রকম বিধান থাকা দরকার। তিনি আরো বলেন, সংবিধানে যেভাবে পরিবর্তন আনা হয়েছে তাতে জনগনের স্বার্থে আর নেই। এজন্য সংবিধানের অনেক কিছু পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এজন্য বর্তমানে যারা ক্ষমতার বাইরে আছেন তারা আগামীতে ক্ষমতায় গেলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ অন্যান্য অসামজস্য আইন পরিবর্তন করবেন এ প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, আমরা সবাই জানি মানবিকতা, মানবাধিকার, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি, গণতন্ত্র উন্নয়ন ও মানবসভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে মিডিয়া। মিডিয়া হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং সমাজের দর্পণ। তিনি বলেন, ১৫২১ সালে জার্মানিতে প্রথম একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ছাপা হয়ে মানুষের সামনে আসে। ১৬২৪ থেকে ১৬৫০ পর্যন্ত অনেকগুলো পত্রিকার জন্ম। ১৫৯০ সালে আমেরিকাতেও একটি পত্রিকা চালু হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেটিকে বন্ধ করে দেয়। তাহলে বোঝা যায়, পত্রিকা মানুষের সেবা করে গণতন্ত্রের সেবা করে আবার সরকার অনেক সময় এটাকে নির্যাতন এবং বন্ধ করে দেয় সেই প্রাচীনকাল থেকে। যেভাবে ইসলামিক টেলিভিশন ও দিগন্ত টেলিভিশন আজকে বন্ধ আছে।
আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, আজকে আমি নয়া দিগন্তকে অত্যন্ত আনন্দের সাথে অভিনন্দন জানাই। তারা ১৮ বছরের যুবক হয়েছেন। নয়া দিগন্তের সত্যনিষ্ঠ-বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের জন্য যে লড়াই এটিই প্রমাণ করে ১৮ বছর আগে এ পত্রিকার যে জন্ম হয়েছিল তা সময়ের দাবি এবং জনগণের জন্য খুব প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, আমরা জানি স্বাধীনভাবে চলতে হলে আমাদেরকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এটি শুধু সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে না, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সেই চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। নয়া দিগন্ত নানা ধরনের নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে। তারপরও তাদের এ নির্ভীক পথচলার কারণে আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।
মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, শত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে নয়া দিগন্ত এগিয়ে যাচ্ছে। আগামীতেও তারা এভাবে এগিয়ে যাবে, জনগনের মনের আশা পূরণ করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তি এখন বিপর্যস্ত, বিধ্বস্ত। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে নয়া দিগন্ত তাদের আশা ভরসার স্থল। আশা করি নয়া দিগন্ত তাদের নামের সম্মান রক্ষা করে নতুন দিগন্তের সন্ধানে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, নয়া দিগন্ত কিছুটা হলেও সত্য বলে ও লিখে। কিন্তু সরকার যেভাবে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে তার ভেতরেও যুদ্ধ করে নয়া দিগন্ত ১৮ বছরে এসেছে। তবুও আশা ভরসার জায়গা নয়া দিগন্ত। তাদের লেখা আমাদেরকে সাহস যোগায়। প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা এগিয়ে যাবে এ কামনা করছি।
ডিমএসিএলের চেয়ারম্যান শিব্বির মাহমুদ বলেন, উপস্থিত জ্ঞানী-গুণী, সিনিয়র সাংবাদিক, বিশিষ্ট কলামিস্ট তাদের উপস্থিতি আমাদেরকে অত্যন্ত উজ্জীবিত করেছে। সম্প্রতি আমাদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ্ আব্দুল হান্নান ইন্তেকাল করেছেন, যিনি খুব সুন্দর বক্তব্য দিতেন। তার শিশুসুলভ ব্যবহার আমাদেরকে জাগ্রত রাখত। তিনি বহুদিন আমাদের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং এ নয়া দিগন্ত পরিবারকে বহু সেবা দিয়েছেন। শিব্বির মাহমুদ বলেন, ‘আমি এখানে ঢোকার সময় দেখলাম যে ইত্তেফাক ভবনের এখানে সূর্য একটু স্থিমিত হয়ে আছে। আলোর প্রসার কম ঘটেছে। কারণ প্রত্যেক দিন সূর্য আল্লাহর আরশের নিচে এসে তার অনুমতি নিয়েই চলাচল করে। আমাদের এখানে অনেক গুণীর সমাবেশ হবে ও গুণীর আলোয় আলোকিত হয়ে সবাই আলোকিত হবে তাই মনে হয় এখানে আলোকছটা কমিয়ে দিয়েছে। এ সময় আগত অতিথি ও নয়া দিগন্তের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

ডিএমসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘সত্যের সঙ্গে প্রতিদিন’ শ্লোগানকে ধারণ করে নয়া দিগন্তের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সে অভিযাত্রায় নয়া দিগন্ত অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজ এ পর্যন্ত এসেছে। এজন্য প্রধান কার্যালয়ের সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিনিধিদেরও অনেক ভুমিকা রয়েছে। তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তিনি বলেন, নয়া দিগন্ত ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যাশা, মনের কথা জানাতে কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখতে যেন দৃঢ় ও অবিচল থাকতে পারি সেজন্য সবার দোয়া চাই।
সালাউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, নয়া দিগন্ত সূচনালগ্ন থেকেই জনগনের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বর্তমানেও সে ধারা অব্যাহত রেখেছে। এজন্য আমরা পাঠক-শুভ্যানুধ্যায়ীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কতৃজ্ঞতা জানাই।
ইকতেদার আহমদ বলেন, বর্তমানে আমাদের হাত আংশিক আবদ্ধ, মুখ আংশিক রুদ্ধ। এ প্রতিকুল পরিবেশে সবকিছু লিখতে পারি না। আগামীতে সত্য লিখতে পারবো সে সুদিনের অপেক্ষায় থাকলাম। নয়া দিগন্তের উত্তোরত্তর সম্মৃদ্ধি কামনা করেন তিনি।

এম আবদুল্লাহ বলেন, দেশপ্রেমিক ও গণমানুষের কণ্ঠস্বর নয়া দিগন্ত। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাদের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আমি প্রতিদিন ১০টির বেশি পত্রিকা পড়ি। কিন্তু নয়া দিগন্তের সংবাদকে ব্যতিক্রম পাই। তারা সাদাকে সাদা এবং কালোকে কাল হিসেবেই তুলে ধরে। তারা কোন নিউজকে ব্লাকআউট করে না। নয়া দিগন্ত সীমাবদ্ধতা ও আর্থিক অনটনে থেকেও সত্য তুলে ধরছে। আশা করি তাদের কষ্টের দিন শিগগিরই শেষ হবে। গর্বেল সাথে মাথা উচু করে টিকে থাকবে এবং সংবাদপত্র জগতে নেতৃত্ব দেবে এ প্রত্যাশা করছি।
কাদের গণি চৌধুরী বলেন, দেশে গণতন্ত্র থাকলে সংবাদপত্র ভালো থাকে। আর গণতন্ত্র না থাকলে সংবাদপত্রও খারাপ থাকে। যা আমরা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। এখন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যেও নয়া দিগন্ত জনগনের পক্ষে লেখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রতিকুলতা উপেক্ষা করে তারা যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।








