পেটে ক্ষুধা নিয়ে অন্য ব্যবসা করা গেলেও বইয়ের ব্যবসা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
তিনি বলেছেন, মানসিক শক্তি না থাকলে কেউ বইয়ের ব্যবসা করতে পারতেন না। বহু প্রকাশক আছেন যারা সব খরচের পর একজন দিনমজুরের সমান আয় করতে পারেন না।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির ৪২তম বার্ষিক সাধারণ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, এটি কেবলমাত্র ব্যবসা নয়। এটি অন্তরের সাথে যুক্ত। আত্মার সাথে সর্ম্পক না থাকলে কেউ বইয়ের ব্যবসা করে না। এখানে যারা আছেন, তাদের এই ব্যবসার প্রতি আলাদা ভালোবাসা আছে। তা না হলে অন্য কোনো ব্যবসা করতে পারতেন। পান দোকানদারি কিংবা চা বিক্রি করলেও এর চেয়ে অনেক ভালো অবস্থায় থাকা যেতে পারে। তাই আমি মনে করি, এখানে যারা যুক্ত আছেন, তারা অসাধারণ কাজ করছেন। তাই এ পেশায় থাকাও এক ধরনের গর্বের।
তিনি বলেন, আমি ১৯৮৭ সালের ২৮ এপ্রিল প্রথম কম্পিউটারের বোতাম স্পর্শ করেছিলাম। আমি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র না এবং বুয়েটে কোনো কারিগরি বিদ্যাও অর্জন করিনি। আমার এখন অস্বস্তিটা কেটে গেছে, এক সময় লোকজন মনে করতো, আমি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এবং সেজন্য কম্পিউটার নিয়ে কাজ করতে পারি।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, পরে যখন জেনেছে যে আমি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র, তখন অবাক হয়েছে, কেউ কেউ আবার ব্যঙ্গ-বিদ্রুপও করে বলেছে, বাংলায় পড়ে কিভাবে কম্পিউটার জানি। আমি এখন আর সেই অস্বস্তিতে ভুগি না। কারণ, বাংলা পড়ে যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া যায়, তাহলে আমি বাংলা পড়ে কেন প্রকাশক কিংবা বাংলা হরফ বানাতে পারব না। আমার কৃতিত্বটা ওখানেই।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো: আরিফ হোসেন ছোটন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সমিতির সহ-সভাপতি কায়সার-ই-আলম প্রধান, শ্যামল পাল, মির্জা আলী আশরাফ কাশেম, ওয়াহিদুজ্জামান সরকার জামাল, মাজহারুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি আলমগীর সিকদার লোটন ও উপদেষ্টা ওসমান গনি।
অনুষ্ঠানে ‘বাপুস : স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে দৃঢ় প্রত্যয়ী’ শীর্ষক লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহ-সভাপতি শ্যামল পাল।
লিখিত বক্তব্যে শ্যামল পাল বলেন, স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে শরিক হতে বাপুস-এর যে অঙ্গীকার, তা বাস্তবায়ন করতে হলে চলতি প্রতিযোগিতামূলক সমাজে প্রধান দুই চালিকাশক্তি হিসেবে প্রকাশক ও বিক্রেতাদের টিকে থাকার কোনো বিকল্প নেই। কেননা এই টিকে থাকার ওপরই নির্ভর করে পাঠ্য, পাঠসহায়ক, সৃজনশীল, মননশীল বইয়ের প্রকাশনা ওতার বিকিকিনির বাজারব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে সচল রাখা। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে সমস্যাগ্রস্ত প্রকাশক ও বিক্রেতাদের বাপুস-এর সদস্য কল্যাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহযোগিতার পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। যা মূলত প্রত্যক্ষ প্রভাবক হিসেবে লক্ষ্যস্থিত শিক্ষার্থী ও পাঠকদের উপকৃত করবে।
বার্ষিক সাধারণ সভায় বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির পরিচালকরা, দেশের ৬৪ জেলা ও উপজেলা শাখার নেতা ও পুস্তক ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।





