শরীয়তপুরের সখিপুরে পুলিশ বিএনপির ইফতার পাটি বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বিএনপি। এছাড়া বিএনপি নেতাকর্মীরা ইফতার পার্টি করার চেস্টা করলে তাদেরকে গনগ্রেফতার করা হবে বলেও হমকি প্রদান করছেন পুলিশ।

শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার দক্ষিন তারাবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আগামী শনিবার কিরণ নগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইফতার পার্টির আয়োজন করার কথা ছিল।

এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছেন তারা ইফতার পাটিতে বাঁধা দেয়নি। বিদ্যালয় মাঠে বিনা অনুমতিতে রাজনৈতিক কর্মসুচি না করার জন্য বলেছে।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি শফিকুর রহমান কিরন বলেন, এর আগে নদী ভাঙ্গন কবলিতদের মাঝে ত্রাণ বিতরনে আমাদেরকে পুলিশের মাধ্যমে বাধাঁ দেয়া হয়েছিল। এখন আবার রমজান মাসে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধাঁ দেয়া হচ্ছে। আমরা মনে করি দুটি বাধাঁই একই সুত্রের।

সখিপুরের দক্ষিন তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওর্য়াড বিএনপির সভাপতি হাবিবুল্লাহ ঢালী জানান, শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার দক্ষিন তারাবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আগামী শনিবার কিরণ নগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইফতার পার্টির আয়োজন করে। ইফতার পার্টিতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি শফিকুর রহমান কিরন প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সে লক্ষে কিরন নগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্যান্ডেলসহ আনুসাঙ্গিক কাজ করছিল বিএনপি নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সখিপুর থানা পুলিশ স্থানীয় চেয়ারম্যান নুরুদ্দিন দর্জীকে প্রথমে টেলিফোনের মাধ্যমে প্যান্ডেল তৈরীর কাজ বন্ধ করে প্যান্ডেল ভেঙ্গে নিয়ে যেতে বলে। প্যান্ডেল ভেঙ্গে না নেয়ায় ঐ দিন রাত সাড়ে ৯টার সময় সখিপুর থানা পুলিশ কিরন নগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ডেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে সকল আয়োজন বন্ধ করে প্যান্ডেল ভেঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে। এ সময় পুলিশের কথা অমান্য করে কোন কাজ করলে নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের হুমকি প্রদান করা হয় বলেও জানায় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পর বিএনপির ইফতার পার্টির সকল আয়োজন বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা নুরুদ্দিন দর্জী ও জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ন সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বেপরী বলেন, আমরা আগামীকাল শনিবার ইফতার পার্টির জন্য কিরণ নগর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে প্যান্ডেল তৈরির কাজ করছিলাম। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ এসে বলে এখানে ইফতার পার্টি করা যাবে না। পুলিশের কথা অমান্য করে প্যান্ডেল ভেঙ্গে নেয়া না হলে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফাতেরর হুমকি প্রদান করে পুলিশ। পরে বাধ্য হয়েই আমরা ইফতার পার্টির আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছি। আমাদের কথা হচ্ছে আমরা প্রশাসনের মাধ্যমে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও বাধাঁর সম্মুক্ষীন হলাম। এটা খুবই দুঃখজনক বিষয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

সখিপুর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল ইসলাম বলেন, আমরা ইফতার পার্টির আয়োজনে বাধাঁ দেই নি। বিদ্যালয় মাঠে বিনা অনুমোতিতে রাজনৈতক কর্মসুচি দেয়া হয়েছে, এ ধরনের কর্মসুচি দিলে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগে। অনুমতি নিয়ে অনুষ্ঠান করতে বলা হয়েছে।

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন বলেন, ইফতার পার্টিতে পুলিশ বাধাঁ দিবে কেন? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের অনুমতি আছে কি না পুলিশ এ বিষয় জানতে গেছে। বিদ্যালয় মাঠে রাজনৈতিক দলের ব্যানারে কোন কর্মসুচি না করাই ভাল। ইফতার পার্টিতে পুলিশ বাধাঁ দেইনি।