শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর মাছবাজার এলাকায় পদ্মা নদীর ডানতীর স্থায়ী রক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাঁধের ভাঙনস্থলে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙনের কারণ অনুসন্ধান ও স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরন।
ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনকালে কিরন বলেন, পদ্মার ডানতীর রক্ষা বাঁধের জন্য বরাদ্দ পাওয়ার দুই বছর পর কেন কাজ শুরু করা হয়েছিল, তৎকালীন সরকারের সময়ে কার নির্দেশে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল এবং নদী ড্রেজিংয়ের পর বালু তীরে না ফেলে কেন মধ্যনদীতে স্তূপ করে রাখা হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে মূল সমস্যা চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, নিম্নমানের কাজের কারণেই পদ্মার ডানতীর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি পদ্মা সেতুর মধ্যবর্তী এলাকায় বিশাল চর জেগে ওঠা এবং বিগত সরকারের সময় নড়িয়ার মাঝনদীতে ড্রেজিং করা বিপুল পরিমাণ বালু স্তূপ করে রাখার কারণে পদ্মার স্রোত ডানতীর ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলেও নতুন করে নদীভাঙন দেখা দিতে পারে।
ভাঙনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিল্টন হোসেনকে বিশেষ প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, পদ্মার ভাঙন নিয়ে বিভিন্নভাবে মিথ্যাচার করে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়া বন্ধ করে আসুন নড়িয়া রক্ষায় কাজ করি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই এবং নদীভাঙনের মূল কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিই।’
এর আগে তিনি বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে বলেন, ‘একটি সমাজে উন্নয়নের সুযোগ কম থাকলেও মানুষ শিক্ষিত হলে অপরাধ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর প্রবণতা কমে। তাই সমাজ থেকে অপরাধ কমাতে আদর্শ শিক্ষার প্রসার ঘটানো প্রয়োজন। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।’
এ সময় কিরন জানান, তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মসজিদ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য বই ও বেতন বিনামূল্যে দেয়ার কথাও জানান তিনি।
শিক্ষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের নিজস্ব মত ও অভিমত থাকতেই পারে। তবে আদর্শ শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়। কারণ একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষকের আচরণ ও কর্মকাণ্ড অনুসরণ করে। তাই আদর্শ সমাজ গঠনে আদর্শ শিক্ষকেরও বিকল্প নেই।’
এ সময় নড়িয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাসের সভাপতিত্বে নড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এস এম সাইদুর রহমান, নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আনোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: তাজুল ইসলাম, নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সী সামছুল আলম দাদন, সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝিসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।






