কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দলীয় কোন্দল, ষড়যন্ত্র ও প্রার্থিতা ঘিরে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে জমে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। চারবারের সাবেক এমপি ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার অনুসারীরা। এই বর্ষীয়ান নেতার পক্ষে উখিয়া ও থাইংখালীতে বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সরওয়ার জাহান চৌধুরী সমাবেশে বলেন, ‘যারা ইয়াবার গডফাদার, তাদের গ্রেফতার করুন। মিথ্যা অপপ্রচারে শাহজাহান চৌধুরীর জনপ্রিয়তা রোধ করা যাবে না।’

বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘শাহজাহান চৌধুরী একজন সৎ ও আদর্শবান নেতা। উখিয়া-টেকনাফে তার কোনো বিকল্প নেই।’

এদিকে পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে থাইংখালী স্টেশনে নারী-পুরুষ ঝাড়ু মিছিল করেন স্থানীয়রা। এতে উখিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মোড় নেয়।

অন্যদিকে, টেকনাফে জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী ও অর্থ সম্পাদক আবদুল্লাহর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অন্যদিকে সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদির ‘অর্থায়নে’ নানা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে।

পালংখালীর চেয়ারম্যানের প্রার্থিতাও আলোচনায়। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কক্সবাজার জেলা আমির নুর আহমেদ আনোয়ারীর হয়ে নির্বাচনি প্রচারণা চলছে জোরেশোরে। মাঠে সক্রিয় সাংগঠনিক কার্যক্রম।

অন্যদিকে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘আইসিটি মামলা’ নিয়ে আয়োজিত আওয়ামী লীগের মিছিলে উখিয়া-টেকনাফেও নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, উখিয়া-টেকনাফে আগাম নির্বাচনি উত্তাপ স্পষ্ট। দ্বিধাবিভক্ত বিএনপি, সক্রিয় জামায়াত ও তলে তলে আওয়ামী লীগের নানান কৌশল — সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগেই জমে উঠছে ভোটের লড়াই।