ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা সীমান্তে ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) গুলিতে সাকিব নামের ১৭ বছর বয়সী এক বাংলাদেশী তরুণ নিহত হয়েছে। এ সময় সুজন বর্মন (৩৫) নামে এক ভারতীয় চোরাকারবারিও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

রোববার (৪ মে) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের মাদলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সোমবার (৫ মে) সকালে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সাকিব। সে উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের মাদলা গুচ্ছগ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে।

কসবা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের বলেন, ‘রোববার মধ্যরাতের দিকে জেলার কসবার মাদলা সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে সাকিব নামে বাংলাদেশী এক তরুণ ও ভারতীয় এক চোরাকারবারি গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সাকিবকে কুমিল্লা এবং ভারতীয় নাগরিককে ঢাকায় পাঠায়। সকালে সাকিব চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।’

মাদলার স্থানীয় ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘নিহত তরুণের লাশ বাড়িতে আনা হয়েছে। আমরা তার বাড়িতে যাচ্ছি। কী কারণে তারা সীমান্তে গিয়েছিল তা জানার চেষ্টা করছি।’

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: সামিউল ইসলাম বলেন, ‘রোববার রাতে ভারতীয় যুবক সুজনের মাধ্যমে চোরাই মোটরসাইকেল আনার জন্য মাদলা সীমান্তে যায় সাকিব। এ সময় সীমান্তে টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হন সুজন ও সাকিব। পরে সাকিবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার লাশ নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে।’

এদিকে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ দুপুরে বিজিবি’র একটি টহলদল ঢাকার মগবাজারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক করে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

আটক হওয়া সুজন বর্মন ভারতের আগরতলার বটতলী গ্রামের মঙ্গল বর্মনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে মগবাজার থানা পুলিশের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বাসস